এমনিতে তাঁদের ডাকে সাড়া দিয়ে হাজার হাজার পড়ুয়া রাস্তায়। কিন্তু সমাজের সবস্তরে যে এখনও ককরোচ জনতা পার্টির গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হয়নি, সেটা স্পষ্ট হয়ে গেল সোশাল মিডিয়ায় ভাইরাল একটি ভিডিও-তে। শনিবার বিমান থেকে অভিজিৎ দীপকে, সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রাঙ্কাকে দিল্লি পুলিশের মহিলা কর্মীরা যখন আটক করলেন, তখন সহযাত্রীরা রীতিমতো বিরক্ত হয়ে কটাক্ষ করেন ককরোচদের। কেউ ককরোচ নেতাদের আচরণে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। কেউ বলেন, ‘এরা স্বচ্ছ ভারতের আবর্জনা।’
অনুমতি না থাকা সত্ত্বেও মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিতে শনিবার যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছিল ‘আরশোলা’রা। তবে সেই বিক্ষোভের আগেই কোমর বেঁধে মাঠে নেমেছিল দিল্লি পুলিশ। শনিবার দিল্লিজুড়ে ব্যাপক ধরপাকড় হয়। আন্দোলনে যোগ দেওয়ার জন্য মুম্বই থেকে রাজধানীর উদ্দেশে রওনা দেন দীপকেরা। ১০টা ১৯ মিনিটে দিল্লি বিমানবন্দরে তাঁদের বিমান নামতেই উড়ানের ভিতর থেকেই তাঁদের আটক করা হয়। তিনজনকে আলাদা আলাদাভাবে নিয়ে যাওয়া হয় অজ্ঞাতস্থানে। এরপর ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১২৬ এবং ১৭০ ধারায় তিন সিজেপি নেতাকে সতর্কতামূলক গ্রেপ্তার করা হয়।
আরও পড়ুন:
ওই বিমান থেকে রাঙ্কাদের যখন নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল সেসময় বিমানের অন্দরেই তাঁদের দেখে কটাক্ষ করেন যাত্রীরা। বিমান থেকেই আওয়াজ ওঠে- ‘স্বচ্ছ ভারত, কাচরা সাফ।’ কেউ আবার অহেতুক বিমানে দেরি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। বিমানের এক যাত্রী পরে সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “ককরোচ বাহিনীর পুলিশের সঙ্গে বিবাদে যাত্রায় দেরি হওয়ায় বিরক্ত বোধ করছিলেন যাত্রীরা। এই ঘটনায় ৯০ শতাংশেরও বেশি যাত্রী বিরক্ত হন। কেউ কেউ শেন অন ইউ স্লোগানও দেন।”
রাতভর হাজতে কাটানোর পর রবিবার সকালে মুক্তি পেয়েছেন ককরোচ নেতারা। রবিবার সকালে দীপকে-সহ তিন সিজেপি নেতাকে দিল্লি ক্যান্টনমেন্ট থানায় এগ্জিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করানো হয়। তারপরই শর্তসাপেক্ষে তাঁদের মুক্তি দেওয়া হয়। সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, আগামী এক বছর তাঁরা শান্তিভঙ্গ করতে পারবেন না। এই শর্তেই মুক্তি দেওয়া হয়েছে তিন ‘ককরোচ’ নেতাকে।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
