উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের সমস্ত সাংগঠনিক পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার মাত্র পাঁচ দিনের মাথায় বিধানসভায় দেখা গেল প্রাক্তন বনমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিককে (Jyotipriya Mallick)। মঙ্গলবার তাঁর এই আচমকা উপস্থিতি এবং বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে সাক্ষাতের খবর প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনার সৃষ্টি হয়েছে।
গত ১৯ জুন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে ইস্তফাপত্র পাঠিয়েছিলেন জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। মঙ্গলবার বিধানসভায় তাঁকে দেখার পর স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে, সাংগঠনিক পদ ছাড়ার ঠিক পাঁচ দিনের মাথায় তাঁর বিধানসভায় আসার কারণ কী? জ্যোতিপ্রিয় সংবাদমাধ্যমের কাছে দাবি করেন, “পেনশন সংক্রান্ত কাগজপত্র এবং মেডিকেল বিলে সই করার প্রয়োজনে বিধানসভায় এসেছি।” একইসঙ্গে তিনি চন্দ্রনাথ সিনহা ও কাজল শেখদের সঙ্গেও দেখা করেছেন বলে জানান।
বিধানসভার অন্দরে বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের সাক্ষাতের খবর চাউর হতেই রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন শুরু হয়—তবে কি লবি বদলের ইঙ্গিত দিচ্ছেন তিনি? ফিরহাদ হাকিম বা অরূপ বিশ্বাসের মতো প্রভাবশালী নেতারা ইতিমধ্যেই ঋতব্রতদের শিবিরে ভিড়েছেন বলে জল্পনা রয়েছে। সেই সমীকরণে জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের এই পদক্ষেপ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
যদিও এই লবি বদলের জল্পনা সরাসরি খারিজ করেছেন জ্যোতিপ্রিয়। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “ভাববেন না যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বাদ দিয়ে আমি অন্য কোনো দলে যোগ দিলাম।” তবে বিরোধী দলনেতা ঋতব্রতর সঙ্গে সাক্ষাৎ নিয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে চাননি। প্রাক্তন মন্ত্রীর এই রহস্যময় আচরণে কালীঘাট তৃণমূলের অন্দরে অস্বস্তি বেড়েছে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। এখন দেখার, শারীরিক অসুস্থতার দোহাই দিয়ে পদত্যাগের পর তাঁর এই তৎপরতা কোন দিকে মোড় নেয়।

