CM Suvendu Adhikari | ‘নিজের বুথে হেরেও জননেত্রী?’ মমতাকে খোঁচা শুভেন্দুর! বিধানসভায় নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ

CM Suvendu Adhikari | ‘নিজের বুথে হেরেও জননেত্রী?’ মমতাকে খোঁচা শুভেন্দুর! বিধানসভায় নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ

আন্তর্জাতিক INTERNATIONAL
Spread the love


উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: বিধানসভা মঙ্গলবার এক অভূতপূর্ব রাজনৈতিক দৃশ্যের সাক্ষী থাকল। একদিকে যেমন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) পরাজয় ও বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (CM Suvendu Adhikari) তীব্র আক্রমণ ছিল আলোচনার কেন্দ্রে, তেমনই তৃণমূলের অন্দরের গৃহযুদ্ধ ও ‘নতুন জোটের’ ইঙ্গিত আরও স্পষ্ট হলো বিধানসভার ফ্লোরে।

নিজের নির্বাচনি এলাকা ভবানীপুরে মমতার পরাজয় নিয়ে শুভেন্দু অধিকারী সরাসরি কটাক্ষ করে বলেন, “নিজের বুথে হেরেও কি জননেত্রী মানতে হবে?” শুভেন্দুর এই মন্তব্যের পরেই বিধানসভার ভেতর তৈরি হয় নাটকীয় পরিবেশ। মমতার বিরুদ্ধে শুভেন্দুর আক্রমণের প্রতিবাদে বিধানসভা থেকে ওয়াকআউট করেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূলের বিদ্রোহী বিধায়কেরা। অথচ, এই দৃশ্য দেখেও নির্বিকার ছিলেন কুণাল ঘোষ এবং শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের মতো ‘মমতাপন্থী’ বিধায়কেরা। রাজনৈতিক মহলের মতে, তৃণমূলের অন্দরের এই বিভাজন এখন আর কোনো গোপন বিষয় নয়।

শুভেন্দু এদিন পুরোনো ঘটনার উল্লেখ করে মমতাকে আক্রমণ করেন। বেলডাঙার ঘটনা থেকে রামমন্দির প্রসঙ্গ—প্রতিটি ইস্যুতে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে একহাত নেন তিনি। শুভেন্দু বলেন, “আমি আপনাকে বলেছিলাম, ২৬-এ উত্তর দেব। বাংলার মানুষ রায় দিয়েছে।” বিরোধী দল হিসেবে অতীতে তৃণমূল যে আচরণ করেছিল, তার প্রসঙ্গ টেনে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু বলেন, “শুনতে খারাপ লাগছে তো? মানুষ আপনাদের শিক্ষা দিয়েছে। আপনারা মানুষের রায় মেনে নিন।” এখানেই না থেমে তিনি সরাসরি আক্রমণ করেন ‘কালীঘাট তৃণমূল’ (TMC) বনাম ‘বিদ্রোহী তৃণমূল’-কে। শুভেন্দুর কথায়, “আসল তৃণমূল পালিয়ে গেল, আর কালীঘাট তৃণমূল থেকে গেল।”

অন্যদিকে, কুণাল ঘোষ উঠে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে অনুরোধ করেন যেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগগুলোর তদন্ত হয়। জবাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূলের এই করুণ পরিণতির জন্য মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু দুর্নীতি ও পরিবারবাদকে দায়ী করেন। তিনি আরও বলেন, “২০ জন এমপি নেই, ৮০ জনের মধ্যে ৬২ জন বিধায়ক নেই। এই করুণ পরিণতি দম্ভ, অহংকার ও দুর্নীতির জন্য।”

বিধানসভার এই চিত্র রাজনৈতিক সমীকরণের এক নতুন মোড়। একদিকে মমতার পুরোনো ঘনিষ্ঠদের একাংশকে নতুন বিদ্রোহী শিবিরের বিরুদ্ধে সরব হতে দেখা গেল, অন্যদিকে শুভেন্দু অধিকারী তৃণমূলের এই ভাঙনকে হাতিয়ার করে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিকভাবে ক্রমাগত চাপ বাড়িয়ে চলেছেন। এই ঘটনাপ্রবাহ স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, তৃণমূল কংগ্রেস এখন অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে নেমেছে, যেখানে দলের অভ্যন্তরীণ গৃহযুদ্ধই তাদের সবথেকে বড় দুর্বলতা হিসেবে সামনে চলে এসেছে।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *