ভোট-পরবর্তী হিংসা মামলায় গ্রেপ্তার হলেন লাভপুরের একসময়ের প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা আব্দুল মান্নান। সোমবার গভীর রাতে আব্দুল-সহ ৪ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। মঙ্গলবার তাঁদের লক্ষ্য করে পরপর তিনবার ছোড়া হয় ডিম। তাঁদের বিরুদ্ধে স্লোগান তুলে বিক্ষোভ দেখান স্থানীয় বাসিন্দারা। এদিন লাভপুর থানা, বোলপুর প্রাথমিক হাসপাতাল এবং আদালত চত্বর জুড়ে বিক্ষোভকারীরা অভিযুক্তদের লক্ষ্য করে ডিম ছুঁড়ে প্রতিবাদ জানান।
এদিন বোলপুর মহকুমা আদালতে তোলার সময় কড়া নিরাপত্তার মধ্যেই অভিযুক্তদের আদালতে পেশ করা হয়। যদিও সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে নিজেদের নির্দোষ বলে দাবি করেছেন আব্দুল মান্নান ও অন্য অভিযুক্তরা। জানা গিয়েছে, আব্দুল মান্নানের সঙ্গে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তাঁর ঘনিষ্ঠ অনুগামী তথা লাভপুর ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান সালাম শেখ, মিঠু খলিফা এবং মমিন শেখ।
আরও পড়ুন:
তৃণমূলের শাসনকালে লাভপুরে অত্যন্ত প্রভাবশালী নেতা ছিলেন আব্দুল মান্নান। তিনি দলের বীরভূম জেলা কমিটির প্রাক্তন সহ-সভাপতি ছিলেন। এর পাশাপাশি তিনি প্রাক্তন বিধায়ক অভিজিৎ সিংহের ঘনিষ্ঠ হিসেবেও পরিচিত। দীর্ঘদিন ভয় দেখানো, জমি দখল, চাঁদাবাজি এবং বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের উপর চাপ সৃষ্টি-সহ একাধিক অভিযোগ উঠেছিল তাঁর বিরুদ্ধে। ভোটের আগেও বিরোধীদের দমিয়ে রাখার অভিযোগ রয়েছে তাঁর অনুগামীদের বিরুদ্ধে। ‘আব্দুল মান্নান’ থেকে তিনি ‘মান্নান সাহেব’-এ পরিণত হয়েছিলেন। রাজ্যে পালাবদলের পর তাঁকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ। বোলপুর প্রাথমিক হাসপাতালে স্বাস্থ্য পরীক্ষার সময়ও উত্তেজনা ছড়ায়। হাসপাতাল চত্বরে প্রিজন ভ্যান আটকে বিক্ষোভ দেখানো হয়। বিক্ষোভকারীদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে মান্নান ও তাঁর অনুগামীরা সাধারণ মানুষ এবং বিরোধী রাজনৈতিক কর্মীদের উপর অত্যাচার চালিয়েছেন। তাঁদের গ্রেপ্তারে এলাকাবাসী স্বস্তি পেয়েছেন বলেও দাবি করেন আন্দোলনকারীরা।
তবে অভিযোগ খারিজ করে দিয়ে আব্দুল মান্নান বলেন, “এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা মামলা। কী ঘটনা ঘটেছে, তা আমরা জানিই না। কার বাড়িতে কে ঢিল মেরেছে, সেই অভিযোগে আমাদের নাম জড়ানো হয়েছে। আমাদের ফাঁসানো হচ্ছে।” তবে লাভপুরের বিধায়ক দেবাশিস ওঝা বলেন, “প্রত্যেক ক্রিয়ার সমান ও বিপরীত প্রতিক্রিয়া রয়েছে। তিনি যা করেছেন, আজ তারই ফল ভোগ করছেন।” এদিন বোলপুর আদালতের বিচারক আব্দুল মান্নানকে ১৪ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেন। অপর তিন অভিযুক্তকে ৪ দিনের পুলিশ হেফাজতে পাঠানো হয়েছে।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর

