Jalpaiguri | রং বদল নাকি রাজনৈতিক কৌশলের চাল? ‘ভালো তৃণমূল’ হওয়ার চেষ্টা সৈকতের

Jalpaiguri | রং বদল নাকি রাজনৈতিক কৌশলের চাল? ‘ভালো তৃণমূল’ হওয়ার চেষ্টা সৈকতের

আন্তর্জাতিক INTERNATIONAL
Spread the love


জলপাইগুড়ি: ‘ভালো তৃণমূল’ তকমা নিয়ে একদিকে যখন তৃণমূলের (TMC) টিকিটে জয়ী হওয়া বিধায়ক এবং সাংসদরা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ডাকা বৈঠকে যোগ দিতে ব্যস্ত, সেই সময় পদত্যাগ না করে শহরের উন্নয়নকে হাতিয়ার করে মুখ্যমন্ত্রী এবং বিজেপি সরকারের প্রশংসায় ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন জলপাইগুড়ি (Jalpaiguri) পুরসভার চেয়ারম্যান সৈকত চট্টোপাধ্যায়। পুরসভার চেয়ারম্যান বেসুরো হতেই তাঁকে নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে পাড়ার মোড়ের চায়ের দোকান থেকে শুরু করে রাজনৈতিক মহলে। সৈকতের ভোল বদলকে কার্যত কটাক্ষ করে এক সময় অমিত শা এবং নরেন্দ্র মোদির মুখোশ পরিয়ে তিনি যে দুজনকে হাতে দড়ি বেঁধে রাস্তায় ঘুরিয়েছিলেন, সে কথা সমাজমধ্যমে পোস্ট করে বিজেপি নেতারা বার্তা দিচ্ছেন, অতীত তাঁরা কেউই ভোলেননি। পাশাপাশি পান্ডাপাড়ায় দম্পতির আত্মহত্যার ঘটনায় সৈকতের নাম জড়িয়ে যাওয়ার কথা স্মরণ করিয়েও সমাজমাধ্যমে পোস্ট করছেন বহু মানুষ। অনেকেই সমাজমাধ্যমে লিখেছেন, সৈকত তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার চেষ্টা করছেন।

যদিও এসব চর্চায় গুরুত্ব দিচ্ছেন না সৈকত। তিনি বলছেন, ‘পুরসভার মাধ্যমে শহরের মানুষকে পরিষেবা দিতে হলে রাজ্য সরকারের সাহায্য ছাড়া কোনওভাবেই সম্ভব নয়। শহরের নাগরিক পরিষেবা এবং উন্নয়নের বিষয় নিয়ে আমি পুর ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালের সঙ্গে সার্কিট হাউসে দেখা করতে গিয়েছিলাম। এর বাইরে আর কিছু নেই। কারা, কী বলছেন সেই বিষয়ে আমি বলতে পারব না।’

দিনকয়েক আগে পুরসভায় নিজের চেম্বারে সাংবাদিক বৈঠকে রাজ্য সরকারের প্রসঙ্গ টেনে কথা বলতে গিয়ে সৈকত বলেছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী একজন লড়াকু নেতা। সৈকত দাবি করেছিলেন, শুভেন্দু যখন রাজ্য তৃণমূল যুব কংগ্রেসের সভাপতি ছিলেন সেই সময় তিনি জেলা তৃণমূল যুবর সভাপতি ছিলেন। শুভেন্দুর লড়াইয়ের কথা তিনি জানেন।

মঙ্গলবার সার্কিটহাউসে মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বেরিয়ে এসে ফের সৈকতের মুখে শোনা যায় মুখ্যমন্ত্রীর অকুণ্ঠ প্রশংসা। সৈকত বলেন, ‘যে সরকারের মুখ্যমন্ত্রীর নাম শুভেন্দু অধিকারী, সেই সরকার সচল থাকবে, এটাই স্বাভাবিক।’ এখানেই শেষ নয়, পুর ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী সম্পর্কে সৈকতের বক্তব্য, ‘আজকের দিনে রাজনীতিতে এরকম অগ্নিমিত্রা পালদের প্রয়োজন আছে বলে আমার মনে হয়।’ এরপর সৈকত নিজের ফেসবুক পেজে অগ্নিমিত্রার সঙ্গে তোলা ছবি পোস্ট করেন।

সৈকত ‘ভালো তৃণমূল’-এর তকমা গায়ে মেখে বেসুরো হতেই তাঁর অতীত নিয়ে সমাজমাধ্যমে চর্চা শুরু হয়েছে। ২০২২ সালে পুরসভার ছাপ্পা ভোট থেকে শুরু করে দম্পতির আত্মহত্যায় সৈকতের নাম জড়ানো সবটাই এখন নেটিজেনদের চর্চার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। সব থেকে বেশি চর্চা শুরু হয়েছে বিজেপির কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে। বিজেপির এক নেত্রী সমাজমাধ্যমে লিখেছেন, ‘আপনি একসময় দেশের প্রধানমন্ত্রী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ফোটো দুই ব্যক্তির মুখে দিয়ে তাঁদের হাতে দড়ি বেঁধে শহরে ঘুরিয়েছিলেন। এগুলো ভুলে যাওয়ার নয়। যতই রং বদলানোর চেষ্টা করা হোক না কেন, কর্মীদের স্মৃতি এতটা দুর্বল নয়।’ অপর এক বিজেপি নেতা সৈকতের নাম না করে সমাজমাধ্যমে লিখেছেন, ‘পুর নির্বাচনে আপনার দাম্ভিকতা এবং বিজেপি কর্মীদের হেনস্তা আমরা ভুলে যাইনি।’ বিজেপির দিকে পা না বাড়ানোর বার্তা দিয়েছেন ওই নেতা। তবে, বিজেপির রাজ্য সাধারণ সম্পাদক বাপি গোস্বামীর ইঙ্গিত নিয়ে কিছুটা বিভ্রান্তি বেড়েছে। তিনি বলেন, ‘বিজেপি প্রতিহিংসামূলক ও নোংরা রাজনীতি করে না। রত্নাকর দস্যু বাল্মীকি হয়েছিল। এর বেশি আমি আর কিছু বলব না।’



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *