উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ (FIFA World Cup) শুরুর ঠিক প্রাক্কালে, আমেরিকার রাজপথে আছড়ে পড়ল প্রতিবাদের ঢেউ। বিশ্বকাপের আসরে ইরানের জাতীয় দলের অংশগ্রহণকে কেন্দ্র করে লস অ্যাঞ্জেলেসের (Los Angeles) সিটি হলের সামনে এদিন জড়ো হয়েছিলেন শত শত ইরানি-মার্কিন নাগরিক ও অধিকারকর্মী। তাঁদের স্পষ্ট দাবি—মানবাধিকার লঙ্ঘনকারী শাসনের প্রতিনিধিত্বকারী কোনো দলকে বিশ্বকাপের মতো বৈশ্বিক মঞ্চে জায়গা দেওয়া উচিত নয়।
যদিও ফুটবলীয় নিয়ম অনুযায়ী ইরান এবারের বিশ্বকাপের মূল পর্বে অংশগ্রহণের যোগ্যতা অর্জন করেছে, কিন্তু দেশটির রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে দীর্ঘদিনের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে এই বিক্ষোভে। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, তেহরান সরকার ফুটবলের মতো জনপ্রিয় খেলাকে ব্যবহার করছে তাদের ‘ভাবমূর্তি’ স্বচ্ছ করার জন্য।
বিক্ষোভকারী রায়ান সালামি, যিনি নিজে একজন ইরানি-মার্কিন তরুণ, বলেন, “তাদের (ইরান) এখানে নিয়ে এসে খেলার সুযোগ দেওয়া মানেই বিশ্ববাসীর কাছে একটি শান্ত ভাবমূর্তি তুলে ধরা, অথচ বাস্তবে সেদেশে বিন্দুমাত্র শান্তি নেই; সেখানে রয়েছে কেবল শাসনব্যবস্থার চাপিয়ে দেওয়া মৃত্যু আর অমানবিক নির্যাতন।”
বিক্ষোভের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল ইরানের বর্তমান জাতীয় দল এবং সরকারের সাথে তাদের কথিত ঘনিষ্ঠতা। প্রাক্তন ইরানি ফুটবল তারকা আশগর আদিবি, যিনি ১৯৭০ সালে দেশের জার্সি গায়ে খেলেছিলেন, তিনি বর্তমান দলকে সরাসরি ‘আয়াতোল্লাদের টিম’ বলে কটাক্ষ করেছেন।
বিক্ষোভকারীরা হাতে তুলে নিয়েছিলেন একাধিক প্রাক্তন ফুটবলারের ছবি, যাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হাবিব খাবিরি। ১৯৭৯ সালে আয়াতোল্লা শাসন প্রতিষ্ঠার পর ইরান সরকার যাঁকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিল। আন্দোলনকারীদের দাবি, ইরানের জাতীয় দল আসলে ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ডস কর্পস (IRGC)-এর নিয়ন্ত্রণে চলে। তাঁদের মতে, যে বাহিনী নিজের দেশের সাধারণ মানুষের ওপর নিপীড়ন চালায়, তাদের প্রতিনিধিত্বকারী দলের জয়লাভ মানে মানবাধিকারের পরাজয়।
