Jalpaiguri | “পেশায় পর্যটন ব্যবসায়ী, নেশায় ত্রাতা!” লাটাগুড়ির শত শত মানুষের ভরসার নাম অনির্বাণ

Jalpaiguri | “পেশায় পর্যটন ব্যবসায়ী, নেশায় ত্রাতা!” লাটাগুড়ির শত শত মানুষের ভরসার নাম অনির্বাণ

ব্লগ/BLOG
Spread the love


শুভদীপ শর্মা, লাটাগুড়ি: পেশায় তিনি পর্যটন ব্যবসায়ী, অথচ নেশায় ত্রাতা। ত্রাতা কারণ, তাঁর জন্য বেঁচেছে প্রচুর জীবন। গভীর রাতে হোক কিংবা সদ্য আলো ফোটা ভোর, যন্ত্রণায় কাতরাতে থাকা মুমূর্ষু রোগীকে হাসপাতালে পৌঁছে দিতেই হবে, এমনই যেন পণ জলপাইগুড়ির (Jalpaiguri) লাটাগুড়ির (Lataguri) বাসিন্দা অনির্বাণ মজুমদারের। কেউ হঠাৎ অসুস্থ হলে, জরুরি ভিত্তিতে রক্তের প্রয়োজন পড়লে, তাঁকে খোঁজেন চেনা-অচেনা প্রচুর মানুষ। ডাক পড়লেই ছুটেও যান। পাড়াপ্রতিবেশী থেকে শুরু করে ভবঘুরে কিংবা অসহায় মানুষ, সকলের সাহায্যেই তিনি হাজির হন। কারও পরিচয় কী, বা তাঁর আর্থিক সামর্থ্যই বা কেমন সেসব বিচার না করে মানবিকতার হাত বাড়িয়ে দেওয়াই তাঁর লক্ষ্য। এখনও পর্যন্ত কয়েকশো অসহায় রোগীকে সরকারি হাসপাতালে পৌঁছে দিয়ে তিনি নজির গড়েছেন।

তবে কেবল পৌঁছে দিয়েই দায়িত্ব সারেন না অনির্বাণ। রোগীদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করতেও তাঁর সক্রিয় ভূমিকা থাকে। লাটাগুড়ি বাজার এলাকায় মা সর্বাণী মজুমদার, দুই ভাই সৌমেন ও শুভজিৎকে নিয়ে অনির্বাণের বাস। মানুষের পাশে দাঁড়ানোর তাঁর এই অভ্যাস স্কুলজীবন থেকেই শুরু হয়েছে। কারও বাড়িতে কেউ গুরুতর অসুস্থ হলে তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া, চিকিৎসা করানো এবং সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরিয়ে আনার পুরো দায়িত্বই নিজের কাঁধে তুলে নেন। অনির্বাণ বললেন, ‘লাটাগুড়িতে কোনও পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসাকেন্দ্র নেই। এলাকার অসুস্থ মানুষদের তাই আজও মালবাজার, ময়নাগুড়ি কিংবা জলপাইগুড়িতে ছুটতে হয়। ছোটবেলা থেকেই দেখেছি চিকিৎসার জন্য মানুষকে এভাবে দৌড়াতে। সেই সময় থেকেই রোগীদের সঙ্গে হাসপাতালে যেতে যেতে এই কাজটাই আমার অভ্যাসে পরিণত হয়েছে।’

নিজের আর্থিক অবস্থাও ভীষণ সচ্ছল নয় অনির্বাণের। তবুও রোগীদের নিয়ে যাতায়াতের নানা খরচও কখনো-কখনো দিতে হয় তাঁকে। তাও করেন খুশি মনে। মালবাজার, ময়নাগুড়ি ও জলপাইগুড়ি তো বটেই, এছাড়া নিজের কাজ বাদ দিয়ে বহু রোগীকে ভিনরাজ্যেও চিকিৎসার জন্য নিয়ে গিয়েছেন অনির্বাণ। শুধু পরিচিত মানুষই নয়, রাস্তায় পড়ে থাকা মানসিক ভারসাম্যহীন, অসুস্থদের উদ্ধার করেও একাধিকবার হাসপাতালে ভর্তি করিয়েছেন তিনি। জরুরি রক্তের প্রয়োজনে ঝড়-বৃষ্টি উপেক্ষা করেও ছুটে যান বারবার। এখনও পর্যন্ত ৪০ জনেরও বেশি রোগীকে নিজের রক্ত দিয়ে তাঁদের নতুন জীবন ফিরে পেতে সাহায্য করেছেন।

এই কাজের জন্য অনির্বাণ অবশ্য তাঁর পরিবারকেও ধন্যবাদ দিতে ভোলেননি। তিনি জানান, তাঁর প্রয়াত বাবা সুবোধ মজুমদার প্রথম থেকেই সেই কাজকে সমর্থন করেছেন। পারিবারিক অনুপ্রেরণাই তাঁর আসল সাহস। অনির্বাণের মা সর্বাণী বলেন, ‘ছেলের এই কাজ নিয়ে আমি গর্বিত। মানুষের উপকার করতে পারলে সেটাই সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।’

আজকালকার দিনে অনির্বাণের মতো মানুষ পাওয়া দুষ্কর, মানছেন লাটাগুড়ির বাসিন্দা মানব ঘোষ। এছাড়া লাটাগুড়ি রিসর্ট ওনার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক দিব্যেন্দু দেব জানান, অনির্বাণের এই কাজকে কুর্নিশ। নিঃস্বার্থভাবে মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তিনি শুধু একজন পর্যটন ব্যবসায়ী নন, অসংখ্য অসহায় মানুষের কাছে ভরসার নামও।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *