Jalpaiguri | কর্মীসংকটে ভুগছে ব্লাড ব্যাংক   

Jalpaiguri | কর্মীসংকটে ভুগছে ব্লাড ব্যাংক   

ব্যবসা-বাণিজ্যের /BUSINESS
Spread the love


অনসূয়া চৌধুরী, জলপাইগুড়ি: ব্লাড ব্যাংক শুধু রক্তাল্পতায় নয়, ভুগছে কর্মীসংকটেও। জলপাইগুড়ি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের ব্লাড ব্যাংকে কোনওরকমে গুটিকয়েক কর্মী দিয়ে চলছে পরিষেবা প্রদান (Jalpaiguri)। এতে সময় যেমন বেশি লাগছে, ঠিক তেমনই একটা কাজ অর্ধসমাপ্ত রেখে কর্মীদের ছুটতে হচ্ছে অন্য কাজে। আর এই কর্মীসংকটের কথা স্বীকার করে নিলেন জলপাইগুড়ি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের এমএসভিপি ডাঃ কল্যাণ খান। তাঁর কথায়, ‘ব্লাড ব্যাংকের পাশাপাশি সিসিইউ, ক্রিটিক্যাল কেয়ার, শিশুদের জন্য এসএনসিইউ সহ বেশ কয়েক ক্ষেত্রে কর্মীদের ভ্যাকেন্সি রয়েছে। আমরা বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। আশা করছি, দ্রুত সমস্যার সমাধান হবে।’ তবে সবসময় তাঁরা সব ধরনের পরিষেবা দিতে প্রস্তুত, সেটাও মনে করিয়ে দিলেন।

জলপাইগুড়ি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের ব্লাড ব্যাংকে বর্তমানে মেডিকেল অফিসার রয়েছেন একজন। প্রয়োজন রয়েছে ৭ জনের। টেকনিসিয়ান প্রয়োজন ২৩ জন। সেখানে মর্নিং, ইভনিং এবং নাইট শিফটে তিনজন করে হলে ২১ জন প্রয়োজন। রয়েছেন মাত্র ৬ জন। জেনারেল ডিউটি অ্যাটেনডেন্ট প্রয়োজন প্রায় ১০ জন। চলতি বছরের জুন মাস পর্যন্ত সেখানে ছিলেন ৫ জন। একজন জেনারেল ডিউটি অ্যাটেনডেন্ট অবসর নেওয়ায় সংখ্যাটা এখন দাঁড়িয়েছে চারে।

রক্ত সংগ্রহ করার পর কম্পোনেন্ট সেপারেশনের জন্য তিন শিফটে ৩ জন সহ একজন সুপারভাইজার প্রয়োজন। এই কাজের জন্য কোনও কর্মীই নেই। যখন যেমন প্রয়োজন পড়ে, তখন অন্য কোনও ডিপার্টমেন্টের এই কাজের দক্ষ কর্মীকে ডেকে নেওয়া হয়। রক্ত দিতে এসে কারও কোনও সমস্যা হলে সেটা সামাল দেওয়ার জন্যও তিন শিফটে ৩ জন নার্সিং স্টাফ থাকা দরকার। সেখানে রয়েছেন মাত্র ১ জন। এই পরিস্থিতিতে কোনও কর্মী অসুস্থ হলে কিংবা ছুটি নিলে পরিষেবা দিতে আরও হিমসিম খেতে হয় বলে জানালেন কর্মীরাই।

জলপাইগুড়ি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের ব্লাড ব্যাংকে প্রতিদিনই রক্ত সংগ্রহ করতে জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসেন রোগীর আত্মীয়রা। বানারহাটের সুবল রায় এসেছিলেন স্ত্রীর জন্য রক্ত জোগাড় করতে। তিনি অপেক্ষা করছেন অনেকক্ষণ ধরে। বললেন, ‘আমার স্ত্রীর অপারেশন হবে। রক্ত জোগাড় করতে বলেছেন চিকিৎসক। ডোনার এনেও বসে আছি। যে কয়েকজন কর্মী আছে দেখলাম, সবাই রক্ত নিতে ব্যস্ত। এতে সময় লেগে যাচ্ছে অনেক।’

রক্তের ঘাটতি পূরণে মাঝেমধ্যেই কোনও ক্লাব কিংবা স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার তরফে রক্তদান শিবিরের আয়োজন করা হয়ে থাকে। সেসময় একজন মেডিকেল অফিসার, ৫০ ইউনিট পর্যন্ত রক্তদাতা থাকলে একজন ও এর বেশি হলে দুইজন জেনারেল ডিউটি অ্যাটেনডেন্ট সহ টেকনিসিয়ান থাকা দরকার। কিন্তু কর্মীর এমন হাহাকারের দিনে সেখানেও ‘ম্যানেজ’ করে চলতে হচ্ছে। ফলে ব্লাড ব্যাংকের কর্মীর সংখ্যা কবে বাড়বে, সেদিকেই তাকিয়ে বর্তমান কর্মীরা।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *