Balurghat | খাঁখাঁ রোদে দেখা নেই ক্রেতার, মাথায় হাত হকারদের

Balurghat | খাঁখাঁ রোদে দেখা নেই ক্রেতার, মাথায় হাত হকারদের

ব্যবসা-বাণিজ্যের /BUSINESS
Spread the love


পঙ্কজ মহন্ত, বালুরঘাট: সকাল থেকে দোকান খুলে বসে থাকছেন। কিন্তু খদ্দেরের দেখা মিলছে না। খাঁখাঁ রোদ আর ভ্যাপসা গরমে বাজারমুখো হচ্ছেন না মানুষ। ফলে বালুরঘাটের (Balurghat) ফুটপাথের কাপড় ব্যবসায়ী, মনিহারি সামগ্রী বিক্রেতা সহ ছোট ব্যবসায়ীদের দিনের বেশিরভাগ সময় কার্যত হাত গুটিয়ে বসেই কাটছে। এমনকি সন্ধ্যার পরেও মিলছে না স্বস্তি। উলটে শীতাতপনিয়ন্ত্রিত বড় দোকানগুলির দিকে ঝুঁকছেন ক্রেতারা। আর তাতেই চিন্তার ভাঁজ গভীর হচ্ছে ফুটপাথের ব্যবসায়ীদের কপালে।

দিনের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গেই চড়তে শুরু করছে পারদ। সকাল থেকেই প্রখর রোদের দাপটে কার্যত জনশূন্য হয়ে পড়ছে শহরের একাধিক ব্যস্ত এলাকা। দুপুর নাগাদ তাপমাত্রা পৌঁছে যাচ্ছে ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। কিন্তু অনুভূত তাপমাত্রা তার থেকেও কয়েক ডিগ্রি বেশি থাকছে বলে জানাচ্ছেন বাসিন্দারা। তার ওপর আপেক্ষিক আর্দ্রতা ৮০-৮৫ শতাংশের মধ্যে ঘোরাফেরা করায় রৌদ্রদহন ও ভ্যাপসা গরম মিলিয়ে নাজেহাল অবস্থা শহরবাসীর। এই আবহাওয়ায় সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন ফুটপাথের ব্যবসায়ীরা। শহরের বিভিন্ন প্রান্তে কাপড়, মনিহারি সামগ্রী, গৃহস্থালির ছোটখাটো জিনিসপত্র বিক্রি করা ব্যবসায়ীদের আক্ষেপ, গরমের জেরে মানুষ বাজারে আসা কমিয়ে দিয়েছেন। ফলে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত দোকান খুলে বসে থাকলেও বিক্রি প্রায় নেই বললেই চলে।

ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, সন্ধ্যার পরেও খুব একটা পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে না। সাধারণত দিনের গরম কমলে বাজারে ভিড় বাড়ে। কিন্তু বর্তমানে সূর্য ডোবার পরেও বাতাসে আর্দ্রতার মাত্রা বেশি থাকায় প্যাচপ্যাচে গরমে অতিষ্ঠ হয়ে পড়ছেন মানুষ। ফলে সন্ধ্যার বাজারেও খদ্দেরের সংখ্যা বাড়ছে না।

চকভবানী মোড় সংলগ্ন এলাকায় ফুটপাথে কাপড়ের ব্যবসা করেন সঞ্জয় দাস। তিনি বলেন, ‘আগে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত খদ্দেরের ভিড় থাকত। এখন ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকলেও কেউ আসছেন না। রোদের মধ্যে দাঁড়িয়ে কাপড় দেখার ধৈর্য মানুষের নেই। বিক্রিবাটা একেবারে তলানিতে ঠেকেছে।’ শহরের ডানলপ এলাকায় মনিহারি সামগ্রীর ব্যবসা করেন রিতা সরকার। তাঁর কথায়, ‘দোকানে বসে থাকা ছাড়া আর কিছু করার নেই। গরমে মানুষ বাড়ি থেকে বেরোচ্ছেন না। যে দু’-একজন আসছেন, তাঁরাও তাড়াতাড়ি কেনাকাটা সেরে চলে যাচ্ছেন। আগের তুলনায় বিক্রি অনেক কমে গিয়েছে।’

ক্রেতাদের বক্তব্যও একই। শহরের বাসিন্দা অরিন্দম চক্রবর্তী বলেন, ‘দুপুরের দিকে বাজারে আসার কথা ভাবাই যাচ্ছে না। সকালেও রোদের তেজ এত বেশি থাকে যে প্রয়োজন না হলে বেরোই না। ফলে কেনাকাটাও কমিয়ে দিয়েছি।’ আরেক ক্রেতা মধুমিতা রায়ের কথায়, ‘ফুটপাথে দাঁড়িয়ে কেনাকাটা করা এখন খুবই কষ্টকর। চারদিকে গরম আর ঘাম। তাই বাজারে এলে শীতাতপনিয়ন্ত্রিত দোকানেই ঢুকে পড়ছি। সেখানে অন্তত কিছুটা স্বস্তি পাওয়া যায়।’



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *