জলপাইগুড়ি: আদলতের নির্দেশ মেনে জলপাইগুড়ি (Jalpaiguri) পুরসভায় বোর্ড গঠনের প্রস্তুতি শুরু করে দিলেন মমতাপন্থী তৃণমূল কাউন্সিলাররা। অন্যদিকে, জেলা প্রশাসনের তরফে প্রশাসক হিসেবে ডি.এম.ডি.সি. মিহির কর্মকারকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার কলকাতা হাইকোর্ট-এর জলপাইগুড়ি সার্কিট বেঞ্চ একসপ্তাহের মধ্যে পুরসভার বোর্ড গঠন এবং ৭২ ঘন্টার মধ্যে প্রশাসক বসানোর নির্দেশ দিয়েছিল। শুক্রবার ডি.এম.ডি.সি. মিহির কর্মকারকে প্রশাসকের দায়িত্ব দেওয়া হয় জেলা প্রশাসনের তরফে। তিনি আপাতত পুরসভার দৈনন্দিন কাজকর্ম পরিচালনা করবেন।
অন্যদিকে, বোর্ড গঠনের প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছেন কাউন্সিলাররাও। এদিন ১৫নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলার তপন বন্দ্যোপাধ্যায় এবং ১৮নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলার উত্তম বোস পুরসভায় গিয়ে এক্সিকিউটিভ অফিসার দেবদুলাল পাত্রের সঙ্গে বৈঠক করেন। ঠিক হয়েছে, আগামী ১৪ই অক্টোবর পুরপ্রধান নির্বাচন এবং বোর্ড গঠনের সভা হবে। সেই মোতাবেক তিনজন সিনিয়র কাউন্সিলারের তরফে বাকি কাউন্সিলাদের চিঠি দেওয়া হচ্ছে। সংখ্যার বিচারে বোর্ড গঠনের জন্য ৯ জন কাউন্সিলারের সমর্থন প্রয়োজন।
যদি এই বোর্ড গঠন হয়, তবে পালাবাদলের পর রাজ্যের মধ্যে মমতাপন্থী কাউন্সিলাররা এই প্রথম কোনও পুরসভায় ক্ষমতা দখল করবেন।এই প্রসঙ্গে তপন বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, নিরাপত্তা সুনিশ্চিত থাকলে তাদের বোর্ড গঠন সময়ের অপেক্ষা মাত্র।
যদিও এই বিষয়ে বিজেপির (BJP) তরফে কটাক্ষ ছুড়ে দেওয়া হয়েছে। বিজেপির জেলা সহ সভাপতি বুবাই কর কটাক্ষের সুরে প্রশ্ন তুলেছেন, “এরা কোন দলের কাউন্সিলার? তৃণমূলের প্রতীক এবং নাম দুই ফ্রিজ করে দিয়েছেন নির্বাচন কমিশন। এদের বোর্ড গঠনের বৈধতা কোথায়?” এখন আগামী দিনে পৌরসভায় কী ছবি দেখা যায়, তারই অপেক্ষায় রয়েছেন সাধারণ মানুষ।

