ভারত- ২৪৯/৫ (সঞ্জু স্যামসন ৮২, তিলক ৪৪ অপরাজিত, ঈশান কিষান ৪৩, চেজ ২৪/৩)
ওয়েস্ট ইন্ডিজ- ২৫২/৪ (হোপ ১০২ অপরাজিত, রাদারফোর্ড ৮৪, মায়াঙ্ক ৩৬/৩ )
আরও পড়ুন:
প্রথম টি২০ ম্যাচে অনায়াসেই জিতেছিল ভারত। ৮ উইকেটে ক্যারিবিয়ানদের গুঁড়িয়ে দিয়েছিল ভারত। শ্রেয়স আইয়ারের শতরানে ঝলসে গিয়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজের যাবতীয় প্রতিরোধ। কিন্তু শুক্রবার সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে আড়াইশো রানের টার্গেট সামনে পেয়েও যে লড়াই হোপরা করলেন তা অভাবনীয়। দুর্দান্ত লড়াইয়ে বিশ্রী ভাবে হারতে হল ভারতকে।
এদিন রাঁচিতে টসে জিতে প্রথমে বল করার সিদ্ধান্ত নেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের অধিনায়ক সাই হোপ। সম্ভবত শিশিরের কথা ভেবেই এই সিদ্ধান্ত। শুরুতে ঝড় তুলে দিয়েছিলেন অভিষেক শর্মা ও সঞ্জু। তবে রস্টন চেজের বলে ক্যাচ দিয়ে প্যাভিলিয়নে ফেরেন অভিষেক। এরপর ঈশান কিষানের সঙ্গে জুটি বেঁধে প্রায় ১০০ রানের ইনিংস খেলেন সঞ্জু। ‘ঘরের মাঠে’ ঈশান ফের ঝড় তুললেন। ২২ বলে ৪৩ রানের ইনিংস খেলে যান তিনি। তাঁর ব্যাট থেকে আসে ৬টা চার ও ২টো ছক্কা। সেই চেজের বলে বোল্ড হয়ে ফেরেন তিনি।
তবে সঞ্জু স্যামসনকে থামাতে যথেষ্ট কাঠঘর পোড়াতে হল ওয়েস্ট ইন্ডিজকে। এটাও ঠিক, ভাগ্য সহায়তা করেছে সঞ্জুকে। একাধিক বার ক্যাচ তুলেও বেঁচে যান তিনি। হাফসেঞ্চুরি পূরণ করেন মাত্র ২১ বলে। ছুঁয়ে ফেললেন বিরাট কোহলিকে। ২০১৯ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে ২১ বলে হাফসেঞ্চুরি করেছিলেন কোহলি। শেষ পর্যন্ত ৪১ বলে আউট হন ৮২ বলে। ৯টা চারের পাশাপাশি মারেন ৪টে ছক্কা। শেষ চার ওভারে আসে ৭০ রান। শুধু শেষ ওভারে ছিল ২৩ রান। যার মধ্যে শ্রেয়সের ব্যাট থেকে আসে ১৮ বলে ৪০। তিলক করেন ১৮ বলে ৪৪। শেষ পর্যন্ত ভারতের ইনিংস থামে ২৪৯ রানে।
জবাবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের শুরুটা ছিল ‘ডিজাস্টার’! মাত্র চার বলেই দুই উইকেট চলে যায় তাদের। স্কোরবোর্ডে তখন ৫। মায়াঙ্কের আগুনে বোলিং দেখে মনে হচ্ছিল ক্যারিবিয়ানদের কোনও লড়াই-ই তিনি করতে দিতে নারাজ। অধিনায়ক হোপকে নিয়ে আশার লড়াই শুরু করেন রোভমান পাওয়েল। কিন্তু ১৩ বলে ২৪ রান করার পর তাঁকেও ফেরালেন মায়াঙ্কই। ১৪৯5৫ কিমি প্রতি ঘণ্টা বেগের এক আগুনে বলে উড়ে গেল স্টাম্প! স্কোর তখন ৫৮/৩। রাদারফোর্ড কিন্তু নেমেই যোগ্য সঙ্গতি দিলেন অধিনায়কের। তাঁদের সেঞ্চুরি পার্টনারশিপ ক্রমেই ওয়েস্ট ইন্ডিজকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিল অবিশ্বাস্য কীর্তির দিকে! ১২০ রানের পার্টনারশিপ ভাঙল কুলদীপের সৌজন্যে। রাদারফোর্ডের ৩৭ বলে ৮৪ রানের ঝোড়ো ইনিংসে চার ও ছয়ের সংখ্যা একই- সাত! একটা ফ্ল্যাটার ডেলিভারিকে খেলতে গিয়ে কানায় লাগিয়ে ফেললেন তিনি। নিঃসন্দেহে ওই উইকেটটি পড়তে বহু দর্শকই ভেবেছিলেন খেলা শেষ। কিন্তু অনিশ্চয়তার কারণেই যে ক্রিকেটকে ‘গ্লোরিয়াস গেম অফ আনসার্টেন্টি’ বলা হয় সেটা হয়তো তাঁদের খেয়াল ছিল না।
অধিনায়ক হোপ কুলদীপকে যেভাবে পরপর ছয় মারলেন তা দেখে কার্যতই বহু দর্শককে মাথায় হাত দিয়ে দাঁড়িয়ে পড়তে দেখা গেল। সেই ওভারে সাকুল্যে মারলেন তিনটি ছক্কা ও একটি বাউন্ডারি। ততক্ষণে আস্কিং রেটকে পিছনে ফেলে দিয়েছে কারেন্ট রান রেট। ড্রেসিংরুমে বসে থাকা ক্যারিবিয়ান সতীর্থদের মুখের হাসি চওড়া হতে শুরু করেছে। তাঁরা তখনই বুঝে গিয়েছিলেন ফলাফল কী হতে চলেছে। তবু কোনও ‘অলৌকিকে’র আশা কি সঞ্জুরা করছিলেন না। কিন্তু হোপ দেখালেন নামের মতোই আশাকে তিনি ছাড়তে রাজি নন। ৬টা বাউন্ডারি ও ৯টি ছক্কায় সাজানো দুরন্ত শতরানে (অপরাজিত ১০২) কার্যতই ‘দৈত্য’ হয়ে উঠলেন তিনি। ৯ বল বাকি থাকতেই খেলা শেষ করে দিলেন দুরন্ত ছক্কায়। ম্যাচ জিতে সিরিজে সমতা ফিরিয়ে আনল ক্যারিবিয়ানরা।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
