উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রে পুনর্নির্বাচনের ঠিক মুখে জোড়াফুল শিবিরের অন্দরে নাটকীয় মোড়। ব্যাপক কারচুপি ও ভোট প্রক্রিয়া ব্যাহত হওয়ার অভিযোগে যখন নির্বাচন কমিশন ফলতায় নতুন করে ভোটগ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে, তখনই ভোটের ময়দান থেকে সরে দাঁড়ালেন তৃণমূল (TMC) প্রার্থী জাহাঙ্গীর খান (Jahangir Khan)। ভোটের মাত্র কিছু সময় আগে প্রার্থীর এই আকস্মিক ‘রণে ভঙ্গ’ দেওয়ার ঘটনায় অস্বস্তিতে পড়েছে শাসকদল। তবে দলের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, এই সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ জাহাঙ্গীরের ব্যক্তিগত, দল এর দায় নেবে না।
The choice taken by Jahangir Khan to withdraw from the Falta re-poll is his private choice and never that of the get together.
Because the election outcomes had been declared on 4th Could, greater than 100 of our get together staff have been arrested in Falta AC alone. A number of get together places of work have…
— All India Trinamool Congress (@AITCofficial) May 19, 2026
জাহাঙ্গীর খানের প্রার্থী পদ প্রত্যাহারের পর রাজনৈতিক মহলে যে তীব্র গুঞ্জন শুরু হয়েছিল, তা ধামাচাপা দিতে অবশেষে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘এক্স’-এ মুখ খুলেছে তৃণমূল কংগ্রেস। দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, “ফলতার পুনর্নির্বাচন থেকে পিছিয়ে আসার সিদ্ধান্ত জাহাঙ্গীর খানের সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত, এর সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই।”
তবে প্রার্থীর এই পিছু হটাকে পুরোপুরি ‘ভয়’ বা ‘ব্যক্তিগত স্বার্থ’ বলতে নারাজ তৃণমূলের একাংশ। দলের দাবি, গত ৪ মে ভোটের ফলাফল ঘোষণার পর থেকেই ফলতা জুড়ে কেন্দ্রীয় এজেন্সি এবং স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে তৃণমূল কর্মীদের ওপর চরম অত্যাচার চালানো হচ্ছে। ইতিমধ্যেই শুধুমাত্র ফলতা বিধানসভা এলাকা থেকেই ১০০-র বেশি তৃণমূল কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে দলের পক্ষ থেকে অভিযোগ আনা হয়েছে।
দলের প্রার্থী মাঠ ছাড়লেও, বিরোধী দল বিজেপি এবং নির্বাচন কমিশনের (EC) বিরুদ্ধে সুর চড়াতে ছাড়েনি জোড়াফুল শিবির। এক্স হ্যান্ডেলে ক্ষোভ উগরে দিয়ে তৃণমূল দাবি করেছে:
- দিনের আলোয় ফলতায় তৃণমূলের একাধিক দলীয় কার্যালয় ভাঙচুর করা হয়েছে, জোরপূর্বক দখল করে নেওয়া হয়েছে বহু অফিস।
- বারবার অভিযোগ জানানো সত্ত্বেও নির্বাচন কমিশন এই বিষয়ে সম্পূর্ণ নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করেছে।
- বিজেপি কেন্দ্রীয় এজেন্সি ও প্রশাসনকে ব্যবহার করে শাসানি দিচ্ছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, “প্রশাসনের এই তীব্র চাপের মুখেও আমাদের কর্মীরা পাথরের মতো শক্ত হয়ে দাঁড়িয়ে লড়াই করছেন। কিন্তু কিছু মানুষ শেষ পর্যন্ত এই চাপ সহ্য করতে না পেরে মাঠ থেকে সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আমরা এই সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা করছি।” একই সঙ্গে দলের পক্ষ থেকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে যে, এই ধাক্কার পরেও ‘বাংলা বিরোধী’ বিজেপির বিরুদ্ধে বাংলা থেকে দিল্লি পর্যন্ত তৃণমূলের লড়াই জারি থাকবে।
ফলতায় ২১ মে-র পুনর্নির্বাচনের ঠিক আগে তৃণমূল প্রার্থীর এই সিদ্ধান্ত যে পদ্ম শিবিরকে বাড়তি অক্সিজেন দেবে, তা বলাই বাহুল্য। এখন দেখার, প্রার্থীর অনুপস্থিতিতে ফলতার বুথগুলিতে তৃণমূল কর্মীরা কীভাবে বিজেপির প্রতিরোধ গড়ে তোলে।
