উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: এবার থেকে সপ্তাহে মাত্র চারদিন অফিসে কাজ করতে পারবেন কর্মীরা (4-day Work Week)। তাতেও মিলবে পুরো সপ্তাহের বেতন? ভারতে কি এমনটা সম্ভব? কর্মীদের এই প্রশ্নের উত্তর দিয়েছে কেন্দ্রীয় শ্রম এবং নিয়োগ মন্ত্রক (Ministry of Labour and Employment)। জানানো হয়েছে, সপ্তাহে মাত্র চারদিন কাজ করা সম্ভব। সেক্ষেত্রে কর্মীদের নতুন শ্রম আইন মেনে চলতে হবে।
এনিয়ে কেন্দ্রীয় শ্রম এবং নিয়োগ মন্ত্রক এক্স হ্যান্ডেলে একটি পোস্ট করেছে। তাতে বিষয়টি স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে, চাইলেই সপ্তাহে চারদিন কাজ করতে পারবেন কর্মী। কিন্তু সারা সপ্তাহে মোট কাজের সময় একই থাকবে। অর্থাৎ একজন কর্মীকে সপ্তাহে ৪৮ ঘণ্টা কাজ করতেই হবে। সেক্ষেত্রে চারদিন ওই কর্মীকে ১২ ঘণ্টা করে ডিউটি করতে হবে। তাহলেই তিনদিন সবেতন ছুটি পেতে পারবেন কর্মীরা। নয়া শ্রম আইনে সেই অনুমতি দেওয়া রয়েছে। কিন্তু সপ্তাহে ৪৮ ঘণ্টার বেশি কাজ করলে সেই কর্মীকে মজুরির দ্বিগুণ হারে টাকা দিতে হবে বলেও স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়েছে।
শ্রম মন্ত্রক এও জানিয়েছে, ১২ ঘণ্টা কাজের অর্থ এমন নয় যে ওই কর্মীকে একটানা কাজ করতে হবে। এই সময়ের মাঝে বিরতি বা বিশ্রামের সময়ও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তা যদিও নির্ভর করবে কাজের ধরনের উপর। কিন্তু নিয়োগকারী সংস্থা কখনওই কর্মীদের সপ্তাহে ৪৮ ঘণ্টার বেশি কাজ করার কথা বলতে পারবে না।
তবে সপ্তাহে চারদিন কাজ আর তিনদিন ছুটির বিষয়টি ভারতে বাধ্যতামূলক নয়, তা স্পষ্ট করা হয়েছে নয়া শ্রমবিধিতে। এটি কেবল একটি বিকল্প উপায়, যা সংস্থা এবং কর্মীরা পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে মেনে চলতে পারবে। তা নাহলে পাঁচ বা ছয়দিনের কর্মদিবস মেনেই চলতে পারবে সংস্থা এবং কর্মীরা। যদিও সপ্তাহে চারদিন কাজের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট সংস্থার নীতি, রাজ্যস্তরের নিয়ম এবং কাজের ধরনের উপর।
উল্লেখ্য, গত নভেম্বরেই ২৯টি পুরোনো শ্রম আইনের পরিবর্তে চারটি নতুন শ্রমবিধি চালু করেছে কেন্দ্র। এর মধ্যে রয়েছে মজুরি বিধি ২০১৯, শিল্প সংক্রান্ত সম্পর্ক বিধি ২০২০, সামাজিক নিরাপত্তা বিধি ২০২০, পেশাগত নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য, কাজের পরিস্থিতি বিধি ২০২০। এই বিধিগুলির লক্ষ্য হল দেশে শ্রম আইনকে আরও সহজ এবং অভিন্ন করে তোলা।
