Teesta Riverbed | তিস্তার চরে কৃষ্ণের ‘মাৎস্যন্যায়’! ১০০ দিনের কাজে পুকুর খনন, বিক্রি হয়েছে বালি

Teesta Riverbed | তিস্তার চরে কৃষ্ণের ‘মাৎস্যন্যায়’! ১০০ দিনের কাজে পুকুর খনন, বিক্রি হয়েছে বালি

ব্যবসা-বাণিজ্যের /BUSINESS
Spread the love


পূর্ণেন্দু সরকার, জলপাইগুড়ি: তিস্তাচরের ১৫০০ বিঘা জমি (Teesta Riverbed) দখল করে কার্যত মাছের ভেড়ি বানিয়ে ফেলেছিলেন কৃষ্ণ দাস। বিশাল বিশাল পুকুর খনন করা হয়েছিল সেচ বা মৎস্য দপ্তরের কোনও অনুমতির পরোয়া না করেই। সেই পুকুরগুলির সব জায়গায় মাছ চাষ শুরু করাতে পারেননি জলপাইগুড়ির পলাতক তৃণমূল প্রার্থী। তবে, যে ক’টি পুকুরে মাছ চাষ শুরু হয়েছিল সেখান থেকে মোটা টাকার রোজগার হত (Unlawful Fish Farming)। স্থানীয়রাই জানিয়েছেন, পুকুরগুলিতে স্বনির্ভর গোষ্ঠীদের দিয়ে মাছ চাষ করানো হলেও মুনাফার মোটা অংশই যেত কৃষ্ণর পকেটে। শুধু তাই নয়, নিয়ম ভেঙে সরকারি ১০০ দিনের প্রকল্পে পুকুর খোঁড়া হলেও সেখান থেকে বালি তুলে মোটা টাকায় বিক্রি করা হয়েছে বলেও অভিযোগ।

জলপাইগুড়ি কোতোয়ালি থানার অন্তর্গত বারোপাটিয়া নতুনবস পঞ্চায়েতের বোদাগঞ্জের কাছে দেউনিয়াপাড়ায় তিস্তার প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটার চরজুড়ে মাছ চাষ শুরু হয়েছিল ২০২০ সাল নাগাদ। সেসময় বারোপাটিয়া নতুনবস পঞ্চায়েতের উপপ্রধান ছিলেন কৃষ্ণ। তঁার দাপটে পরিবেশকর্মী থেকে গ্রামের মানুষ কেউ ট্যাঁ-ফোঁ করার সাহস পাননি। দিনে দিনে সেই দাপট এতটাই বেড়েছিল যে মৎস্য ও সেচ দপ্তরের কর্তারাও কৃষ্ণর ‘মাৎস্যন্যায়’-এ বাধা দেওয়ার সাহস পাননি।

জেলা মৎস্য দপ্তরের সহকারী অধিকর্তা রমেশচন্দ্র বিশ্বাস দাবি করেছেন,  তিস্তার চরে তাঁর দপ্তর থেকে কোনওদিন মাছ চাষের অনুমতি দেওয়া হয়নি। নদীচরে কারা, কীভাবে পুকুর কেটে মাছ চাষ শুরু করেছিল, সেই বিষয়টি আগে সরেজমিনে খতিয়ে না দেখে কোনও পদক্ষেপ করা যাবে না।’

সেচ দপ্তরের উত্তর-পূর্ব বিভাগের চিফ ইঞ্জিনিয়ার কৃষ্ণেন্দু ভৌমিক বলেছেন, কেউ কোনও অভিযোগ করলে অবশ্যই খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেব। রাজ্যকে বিষয়টি জানিয়েছি। তিস্তা অববাহিকায় কী প্রভাব পড়েছে, তা আগে খতিয়ে দেখতে হবে।

জলপাইগুড়ি শহর থেকে বেরিয়ে বোদাগঞ্জের দিকে এগোলেই জোড়া আম বাসস্টপের ডানদিকে দেউনিয়াপাড়ায় যাওয়ার রাস্তা। কাছেই তিস্তার বিস্তীর্ণ নদীচর। ধু-ধু প্রান্তর পেরিয়ে অনেকটা দূরে তিস্তা। এই চরেই ১০০ দিনের কাজ দেখিয়ে একের পর এক পুকুর কেটেছিলেন কৃষ্ণ। সেই পুকুর আবার কাটা হয়েছিল আর্থমুভার দিয়ে। রুই, মৃগেল, কাতল, তেলাপিয়া  সহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ বেশি করে চাষ করা হত। স্থানীয়রাই জানালেন, ১০০টিরও বেশি পুকুর খনন করা হয়েছিল। জলপাইগুড়ি, বেলাকোবা সহ অন্যান্য বাজারে মাছ বিক্রির জন্য পাঠানো হত। কৃষ্ণ গা-ঢাকা দেওয়ার পর সেইসব স্বনির্ভর গোষ্ঠীর কাউকে কাছেপিঠে দেখতে পাওয়া যাচ্ছে না। তবে, কৃষ্ণের পুকুরে এখনও পাহারা দিচ্ছেন কয়েকজন। তঁাদেরই একজন দিনমজুর পলেন রায় বললেন, ‘অনেকেই  মাছ চাষ থেকে উপার্জন করতেন। কিন্তু কৃষ্ণদা না থাকায় আমরা এখন পুকুর নিয়ে সমস্যায় আছি। কীভাবে মাছের খাবার কিনব, মাছ বিক্রি করব কি না, কিছুই বুঝে উঠতে পারছি না।’

আরেক স্থানীয় বাসিন্দা ললিত বর্মন বলছেন, ‘১০০ দিনের কাজে পুকুর খনন করে মাছ চাষ শুরু হয় কৃষ্ণ দাসের উদ্যোগেই। পুকুরের কাজের এখনও মজুরি বাকি আছে। মাছ চাষ আমরা করি না। এখন তো পুকুর দেখভাল করার লোকই নেই। বাইরে দিনমজুরি করছি কৃষ্ণদা না থাকায়।’

নির্বাচনের প্রচারের সময় কৃষ্ণ দাস নিজেই বলেছিলেন, ‘১০০ দিনের প্রকল্প থেকে ১০০টি পুকুর খনন করা হয়েছিল। সব পুকুরে মাছ চাষ করিনি। স্থানীয় কর্মসংস্থানের দিকে তাকিয়েই স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সদস্যদের দিয়ে মাছ চাষ করানো হয়েছে। পরিকল্পনা সম্পূর্ণ বাস্তবায়িত করতে ভোটের পর বাকি পুকুরেও মাছ চাষ শুরু হবে।’

রাজগঞ্জের বিজেপি বিধায়ক দীনেশ সরকার (হারাধন) বলছেন, ‘এভাবে নদীচরে মাছ চাষ করা নিয়ে অনেক প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। নদীচর দখল করে সরকারি প্রকল্পে মাছ চাষ করা যায় কি না, মাছ চাষের অনুমতি কীভাবে তৎকালীন বিডিও অফিস বা পঞ্চায়েত সমিতি থেকে দেওয়া হল, নদীবক্ষে ১০০ দিনের প্রকল্পে পুকুর খননের অনুমতি দেওয়া হল কীভাবে, মৎস্য দপ্তর থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়ে থাকলে  আগে এলাকা দেখা হয়নি কেন, পরিবেশ দপ্তর নদীর উপর এনভায়রনমেন্ট ইমপ্যাক্ট অ্যাসেসমেন্ট করেছিল কি না- এসব খতিয়ে দেখা দরকার। সেই সময়কার জেলার ও উত্তরবঙ্গের দায়িত্বে থাকা একাধিক অফিসার অন্যত্র বদলি হয়েছেন। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত দাবি করছি।’

পরিবেশকর্মী ডঃ রাজা রাউত মনে করেন, নদীচরে এইসব কাজ করাই যায় না। এই কাজ যেমন অবৈধ তেমনি অবৈজ্ঞানিক। এরপরে নদীর গতিপথ পরিবর্তন হতে পারে, নদীর বাস্তুতন্ত্রে প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। প্রশাসনের উচিত দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *