কোচবিহার: রাজ্য রাজনীতিতে এবার আরও এক চরম নাটকীয় মোড়। তৃণমূলের ২০ জন সাংসদ ইতিমধ্যেই ঘাসফুল শিবির ছেড়ে এনডিএ-র শরিক দল এনসিপিআইতে (NCPI) যোগ দিয়েছেন। এবার তাঁদের সরাসরি বিজেপিতে (BJP) যোগ দেওয়ার জল্পনা এক ধাক্কায় কয়েক গুণ উসকে দিলেন কোচবিহারের সাংসদ জগদীশচন্দ্র বর্মা বসুনিয়া (Jagadish Chandra Barma Basunia)। রাজ্যে ক্ষমতা পরিবর্তনের পর বুধবার প্রথমবার কোচবিহারে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক বৈঠকে যোগ দিতে এসে এই মেগা দলবদল নিয়ে বিস্ফোরক দাবি করলেন তিনি।
সাংসদদের বিজেপিতে যোগ দেওয়ার জল্পনা প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জগদীশচন্দ্র স্পষ্ট জানান, “আগামী ১৯ জুলাই দিল্লিতে এনসিপিআইয়ের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হতে চলেছে। এরপর ২২ জুলাই ওই সাংসদেরা নিজেরা বৈঠকে বসবেন। সেখানেই তাঁদের পদ্মশিবিরে যোগ দেওয়ার বিষয়টি চূড়ান্ত করা হবে।”
প্রসঙ্গত, সম্প্রতি তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েই প্রকাশ চিকবড়াইক সহ তিন নেতা ইতিমধ্যেই রাজ্যসভার সাংসদের টিকিট পেয়েছেন। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার আরও ২০ জন তৃণমূলত্যাগী সাংসদের সরাসরি মূল বিজেপি দলে যোগদানের জল্পনা রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে তীব্র শোরগোল ফেলে দিয়েছে।
রাজনৈতিক মহলের সবচেয়ে বড় চমক অবশ্য খোদ জগদীশচন্দ্র বর্মা বাসুনিয়ার ১৮০ ডিগ্রি ভোলবদল। একসময় যিনি বিজেপির বিরুদ্ধে প্রতিনিয়ত ঝাঁঝালো মন্তব্য করে খবরের শিরোনামে থাকতেন, এদিন কোচবিহারের বৈঠকে তাঁকে উলটে পদ্মশিবিরের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হতে দেখা গেল। রাজ্যে নতুন সরকার কেমন কাজ করছে? এই প্রশ্নের উত্তরে কোনও রাখঢাক না রেখেই জগদীশ বলেন, “আগের চেয়ে বর্তমানে রাজ্যে অনেক ভালো ও গঠনমূলক কাজ হচ্ছে।”
ভোট-পরবর্তী ক্ষোভ ও স্থানীয় স্তরে বিক্ষোভের জেরে সাংসদ বর্তমানে নিজের এলাকা সিতাইয়ের বাড়িতে পর্যন্ত ঢুকতে পারছেন না বলে খবর। তা সত্ত্বেও রাজ্যের বর্তমান আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন মুখ্যমন্ত্রীর পক্ষেই কথা বলতে শোনা গিয়েছে তাঁকে। দলবদলের জল্পনার মাঝেই বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে জগদীশচন্দ্র বলেন, “যেকোনও বড় নির্বাচনের পর রাজ্যে স্বাভাবিকভাবেই একটা সাময়িক ডামাডোল পরিস্থিতি তৈরি হয়। এই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে এনে পরিস্থিতি পুরোপুরি সামলানোর জন্য নতুন মুখ্যমন্ত্রীকে কিছুটা সময় দেওয়া উচিত।”

