উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: সদ্য সাদা রংয়ে ঢেকে দেওয়া যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের দেওয়াল রাতারাতি ফের ভরে উঠল স্লোগানে। সরাসরি রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ (আরএসএস) (RSS), অ্যাডলফ হিটলার এবং বেনিতো মুসোলিনিকে নিশানা করে লেখা হয়েছে একাধিক স্লোগান। একই সঙ্গে ক্যাম্পাসে ‘ফ্রি প্যালেস্তাইন’ দাবির বিরোধিতায় অটলবিহারী বাজপেয়ীর পুরোনো বক্তব্য সংবলিত পালটা পোস্টারও নজরে এসেছে। সব মিলিয়ে নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে যাদবপুর চত্বর (Jadavpur College)।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপেন এয়ার থিয়েটারের বাইরের দেওয়ালে লেখা হয়েছে, ‘মুসোলিনি কো দে দিয়া আজাদি, আরএসএস কো ভি দেঙ্গে আজাদি’ এবং ‘যো হিটলারওয়ালি চাল চালেগা, ও হিটলারওয়ালি মউত মরেগা’। গত মঙ্গলবার রাতে কলকাতা পুলিশ ও পুরনিগমের উদ্যোগে পুরোনো স্লোগানগুলি সাদা রংয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু রাতের অন্ধকারে কে বা কারা ফের এই দেওয়াল দখল করল, তা নিয়ে ধোঁয়াশা কাটেনি। কোনো সংগঠনই এখনও এর দায় স্বীকার করেনি।
এর মাঝেই ক্যাম্পাসের কয়েকটি জায়গায় আলাদা ধরনের পোস্টার দেখা গিয়েছে। ‘ফ্রি প্যালেস্তাইন’ বিতর্কের আবহে ওই পোস্টারে ১৯৭৭ সালে প্যালেস্তাইন প্রসঙ্গে তৎকালীন বিদেশমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়ীর একটি বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে। কিউআর কোড স্ক্যান করে সম্পূর্ণ বক্তব্য শোনার ব্যবস্থার কথা উল্লেখ করে নীচে লেখা হয়েছে ‘যাদবপুরের রাষ্ট্রবাদী ছাত্ররা’। তবে এই পোস্টার ঘিরেও তৈরি হয়েছে রাজনৈতিক বিতর্ক। এনএসএফ সদস্য সোমসূর্য বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, অতি-বামেরা তাঁদের নাম ব্যবহার করে উত্তেজনা ছড়াচ্ছে। অন্যদিকে এবিভিপি সদস্য আদিত্য মণ্ডলের কটাক্ষ, যাদবপুর কারও পৈতৃক সম্পত্তি নয় এবং লাল সন্ত্রাসের রাজনীতি শীঘ্রই শেষ হবে। বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলির তরফে এই বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
উত্তেজনার পারদ চড়িয়ে বৃহস্পতিবার ক্যাম্পাসের ত্রিগুণা সেন অডিটোরিয়ামে জাতীয়তাবাদী সম্মেলনের ডাক দেয় ‘হরিপদ ভারতী স্মৃতিরক্ষা সমিতি’। তার আগে এবিভিপির পক্ষ থেকে ক্যাম্পাসে ‘বন্দে মাতরম’ যাত্রা ও মিছিল করা হয়। দেওয়ালে বিতর্কিত স্লোগানের জবাবে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও নন্দলাল বসুর ছবি সাঁটান এবিভিপি (ABVP) কর্মীরা। অন্যদিকে, এর প্রতিবাদে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে রাজা সুবোধ মল্লিক রোডে পালটা মিছিল করে এসএফআই (SFI)। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের তরফে সংযত থাকার আবেদন জানানো হলেও, দেওয়ালের নতুন লেখা ও পালটা কর্মসূচি প্রমাণ করছে যাদবপুরের রাজনৈতিক সংঘাতের উত্তাপ বিন্দুমাত্র কমেনি।

