উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: পাকিস্তানের (Pakistan) রাজনীতিতে বড় আইনি স্বস্তি পেলেন দেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান (Imran Khan) ও তাঁর স্ত্রী বুশরা বিবি। মঙ্গলবার ইসলামাবাদ হাইকোর্টের তরফে স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা জেলে বন্দি থাকা এই হাই-প্রোফাইল দম্পতিকে কোনোভাবেই একা বা নির্জন প্রকোষ্ঠে (সলিটারি কনফাইন্ড) রাখা চলবে না। একই সঙ্গে কারাবিধি মেনে তাঁদের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং টেলিফোনে কথা বলার সুযোগ করে দেওয়ারও নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
বিচারপতি খাদিম হুসেইন সোমরো ইমরান খানের বোন আলেমা খানম এবং বুশরা বিবির কন্যা মুবাশরা খোওয়ার মানেকার পৃথক আবেদনের শুনানি শেষে এই রায় দেন। এর আগে গত ৬ অগাস্ট এই মামলার রায়দান স্থগিত রেখেছিলেন বিচারপতির একক বেঞ্চ। বর্তমান রায়ে আদালত আদিয়ালা জেলের সুপারিনটেনডেন্টকে কড়া নির্দেশ দিয়ে জানিয়েছে, জেল ম্যানুয়াল অনুযায়ী ইমরান খানের পরিবারের সদস্যদের তাঁর সঙ্গে দেখা করার অনুমতি দিতে হবে এবং তাঁর ছেলেদের সঙ্গে নিয়মিত টেলিফোন কথোপকথনের সুব্যবস্থা করতে হবে।
শুধু তাই নয়, বন্দিদশায় প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীকে নিয়মিত খবরের কাগজ ও বই সরবরাহ করারও নির্দেশ দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি, কারাবিধি মেনে তাঁকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা দিতে হবে বলেও রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে আদালতের এই নির্দেশ কতটা কার্যকর করা হয়েছে, তার বিশদ রিপোর্ট জেল কর্তৃপক্ষকে জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের অগাস্ট থেকে একাধিক দুর্নীতি ও অন্যান্য ফৌজদারি মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়ে বর্তমানে কারাগারে বন্দি রয়েছেন ৭৩ বছর বয়সি প্রাক্তন ক্রিকেটার তথা রাজনীতিবিদ ইমরান খান। তাঁর সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদী কারাদণ্ড ভোগ করছেন তাঁর স্ত্রী বুশরা বিবিও। শুরু থেকেই ইমরান খান ও তাঁর দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) (PTI) এই সমস্ত মামলাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করে আসছে। এতদিন তাঁদের নির্জন সেলে আটকে রাখা হয়েছে বলে পরিবারের তরফ থেকে তীব্র অভিযোগ তোলা হয়েছিল। আদালতের এই সাম্প্রতিক হস্তক্ষেপে জেলের অন্দরে তাঁদের সুযোগ-সুবিধা এবং মৌলিক অধিকার কিছুটা সুরক্ষিত হবে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

