উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে নেপালের (Nepal Flash Flood) জনজীবন এক চরম সংকটজনক পরিস্থিতির মুখোমুখি। এই প্রলয়ে ইতিমধ্যেই হাজারের বেশি মানুষের প্রাণহানির খবর মিলেছে, আর নিখোঁজ রয়েছেন প্রায় চার হাজার। ধ্বংসস্তূপ ও নদীর পলি সরিয়ে জোরকদমে উদ্ধারকাজ চালাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা। এর মাঝেই নেপাল প্রশাসনের সাম্প্রতিক সতর্কতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। নতুন করে হড়পা ও বন্যা পরিস্থিতির আশঙ্কায় দেশের পূর্ব, মধ্য ও পশ্চিম অংশের একাধিক জেলায় ফের লাল সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
নুয়াকোট ও রাসুয়া (Rasuwa) জেলায় নতুন করে হড়পার মারাত্মক ঝুঁকির পাশাপাশি তাপলেজুং, শঙ্খুয়াসভা, সোলুখুম্বু, খোটাং, ওখালধুঙ্গা, রামেচাপ এবং পশ্চিম নেপালের গোর্খা, লামজুং, ডলপা ও দুই রুকুমের মতো জেলাগুলিতেও নদীর জলস্তর বৃদ্ধির প্রবল আশঙ্কা রয়েছে। প্রশাসনের তরফে নদী তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে প্রিয়জন হারানোর হাহাকারের পাশাপাশি বিপর্যস্ত অঞ্চলগুলিতে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে মহামারির (Epidemic) আশঙ্কা। গত বুধবার প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের পর দীর্ঘ ছ’দিন কেটে গেলেও এখনও উদ্ধার হচ্ছে বহু পচাগলা মৃতদেহ। নদীর জলে দীর্ঘক্ষণ ডুবে থাকায় এবং পচন ধরায় অধিকাংশ দেহ মারাত্মকভাবে বিকৃত হয়ে গিয়েছে, ফলে সেগুলি শনাক্ত করা কার্যত অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ডিএনএ নমুনা সংরক্ষণ করে প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে নদী তীরবর্তী এলাকায় মৃতদেহগুলির গণকবর দেওয়া হচ্ছে। নিখোঁজ স্বজনদের সন্ধানে হাসপতাল ও মর্গের বাইরে উপচে পড়ছে মানুষের ভিড়। দেওয়ালের গায়ে সাঁটানো ছবি দেখে প্রিয়জনকে খোঁজার এই দৃশ্য গোটা পরিবেশকে আরও ভারী করে তুলেছে।
মৃতদেহ পচে জল বিষাক্ত হয়ে ওঠায় জলবাহিত রোগের মারাত্মক প্রাদুর্ভাব বা মহামারির আশঙ্কা করছে প্রশাসন। নেপাল সরকারের পক্ষ থেকে কঠোর নির্দেশিকা জারি করে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, কেউ যেন ভুলেও নদীর জল পান না করেন এবং বিপর্যস্ত অঞ্চলের কোনো খাদ্যসামগ্রী গ্রহণ না করেন। এমনিতে নিখোঁজ প্রিয়জনদের খুঁজে পাওয়ার আশা এবং অন্যদিকে রোগের ভয়াবহ থাবায় নেপালের বর্তমান পরিস্থিতি এক গভীর মানবিক বিপর্যয়ের রূপ নিয়েছে।

