উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: কলকাতায় যখন আইপ্যাক (I-PAC) দপ্তরে ইডির হানা ও মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতি নিয়ে রাজ্য রাজনীতি তোলপাড়, তখন মালদার মাটিতে দাঁড়িয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন মেজাজে দেখা গেল তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Abhishek Banerjee)। বৃহস্পতিবার মালদায় সভায় ইডি বা আইপ্যাক প্রসঙ্গ সচেতনভাবেই এড়িয়ে গেলেন তৃণমূল নেতা। পরিবর্তে, তাঁর নিশানায় ছিল মূলত কংগ্রেস এবং বিজেপি। পরিযায়ী শ্রমিকদের ইস্যু সামনে রেখে মালদা উত্তরের কংগ্রেস সাংসদ ঈশা খান চৌধুরী (Isha Khan Choudhury) এবং মুর্শিদাবাদের সাসপেন্ডেড বিধায়ক হুমায়ুন কবীরকে (Humayun Kabir) তীব্র ভাষায় আক্রমণ করলেন তিনি।
কংগ্রেসের বিরুদ্ধে ঝাঁঝালো আক্রমণ সংখ্যালঘু অধ্যুষিত মালদায় কংগ্রেসের শক্ত ঘাঁটিতে দাঁড়িয়ে অভিষেক প্রশ্ন তোলেন, “তেলেঙ্গানা ও কর্ণাটকে কংগ্রেস সরকার থাকা সত্ত্বেও কেন বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকদের ওপর অত্যাচার হচ্ছে?” ঈশা খান চৌধুরীর নাম করে তিনি বলেন, “সাংসদ হিসেবে তিনি শ্রমিকদের জন্য কটা চিঠি লিখেছেন?” অভিষেকের দাবি, অন্য দল বিজেপির কাছে হারে, কিন্তু একমাত্র তৃণমূলই বিজেপিকে হারায়। সদ্য দলত্যাগী মৌসম বেনজির নূরের নাম না নিলেও, গনি পরিবারের গড় ও কংগ্রেসের বিরুদ্ধে তাঁর এই আক্রমণ বিধানসভা ভোটের আগে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
নাম না করে হুমায়ুন কবীরকেও একহাত নেন অভিষেক। ২০১৯ সালে হুমায়ুনের বিজেপি-যোগের কথা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, “একসময় যিনি বিজেপির প্রার্থী ছিলেন, এখন তিনি বাবরি মসজিদ তৈরির নামে মানুষকে বোকা বানিয়ে টাকা তুলছেন।”
আইপ্যাকের দপ্তরে তল্লাশি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরব হলেও, অভিষেকের এই নীরবতা এবং মালদায় কংগ্রেস বিরোধিতায় শান দেওয়া—রাজনৈতিক মহলের মতে, এটি তৃণমূলের সুচিন্তিত কৌশলেরই অংশ।
