উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: রাজনৈতিক শিষ্টাচার লঙ্ঘন করে রবিবারের শুরুতে তীব্র বিতর্কে জড়িয়েছিলেন ‘আমজনতা উন্নয়ন পার্টি’-র প্রতিষ্ঠাতা তথা নওদার বিধায়ক হুমায়ুন কবীর (Humayun Kabir)। খোদ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) অকালমৃত্যু কামনা করেন তিনি। তবে দিন গড়াতেই তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে নিজের মন্তব্য থেকে সম্পূর্ণ ইউটার্ন নেন এই বিতর্কিত বিধায়ক। বিকেলের দিকে ভোল বদলে তিনি একেবারে উল্টো সুরে মুখ্যমন্ত্রীর দীর্ঘায়ু কামনা করে তাঁকে দেশের প্রধানমন্ত্রী দেখতে চান বলে মন্তব্য করেন। রবিবার সকালে এক সাংবাদিক বৈঠকে অংশ নিয়ে খোদ প্রশাসনিক প্রধানকে নিশানা করে খাপ্পা হয়ে ওঠেন হুমায়ুন। তিনি অভিযোগ তোলেন, বর্তমান জমানায় সংখ্যালঘুদের ওপর লাগাতার অত্যাচার চালানো হচ্ছে এবং ক্ষমতার মোহে বুঁদ হয়ে অহংকারী হয়ে উঠেছেন মুখ্যমন্ত্রী। এখানেই থেমে না থেকে তিনি বলেন, শুভেন্দু যাতে দ্রুত এই পৃথিবী থেকে বিদায় নেন, সেই প্রার্থনা তিনি আল্লার কাছে জানাবেন। অতীতের বিভিন্ন মর্মান্তিক রাজনৈতিক পরিণতির উদাহরণ টেনে এনে তিনি বলেন, আস্ফালনকারীদের মতোই পরিণতি অপেক্ষা করছে।
তাঁর এই বিস্ফোরক মন্তব্যের জেরে মুহূর্তের মধ্যে রাজ্য রাজনীতিতে চরম শোরগোল শুরু হয় এবং বহরমপুর থানায় তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআরও দায়ের করা হয়। রেজিনগর কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী শাখারভ সরকার এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে একে রাজনৈতিক শালীনতার চরম পতন হিসেবে কটাক্ষ করেন। অতীতেও রেজিনগর বা নওদাতে মুখ্যমন্ত্রী এলে উপযুক্ত শিক্ষা দেওয়ার হুঙ্কার দিয়ে নানা বিতর্কের জন্ম দিয়েছিলেন এই বিধায়ক।
তবে এই ঝড়ের বেগ বাড়তেই বিকেলের দিকে নিজের অবস্থানে নাটকীয় পরিবর্তন আনেন হুমায়ুন। সকালে মৃত্যুর প্রার্থনা করা সেই মুখ থেকেই বিকেলে শোনা যায় সম্পূর্ণ বিপরীত সুর। অবস্থান বদল করে তিনি এবার বলেন, ‘মুখ্যমন্ত্রী দীর্ঘদিন পৃথিবীতে বেঁচে থাকুন। তিনি মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন, পূর্ণ মেয়াদ পূরণ করুন ভালো ভাবে। মানুষের কাছে সুনাম- অর্জন করুন। মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার স্বপ্ন তাঁর পূরণ হয়েছে, আগামীদিনে তিনি যেন মোদিজির পরে ভারতবর্ষের প্রধানমন্ত্রী হন। তাহলে আমরা খুব গর্ব বোধ করব। ওঁকে শুভেচ্ছা জানাই। বাংলা থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্বপ্ন দেখেছিলেন প্রধানমন্ত্রী হওয়ার, তাঁর স্বপ্নপূরণ হয়নি। বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী যেন তাঁর পদোন্নতি হয়ে দেশের প্রধানমন্ত্রী হোন। এটা আমার শুভেচ্ছা।’ সকালে অভিশাপ বর্ষণের পর বিকেলে এমন সুর বদলের ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে তীব্র হাস্যরস ও আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

