জলপাইগুড়ি: সোমবার থেকে শুরু হতে চলেছে উচ্চমাধ্যমিকের তৃতীয় সিমেস্টার (HS Examination Third Semester), যা চলবে আগামী ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত। পরীক্ষা ঘিরে জেলা প্রশাসন ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি এবং কড়া নিয়মকানুন। জলপাইগুড়ি জেলায় এবছর মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ১৫,৬৫১ জন; যার মধ্যে ছাত্র ৬,৭২৩ জন এবং ছাত্রী সংখ্যা ৮,৯২৮ জন। পরীক্ষা চলবে দেড় ঘণ্টা ধরে। পুরো জেলায় মোট ৭১টি ভেনু বা পরীক্ষা কেন্দ্র রয়েছে, যার মধ্যে মূল কেন্দ্র রয়েছে ১৭টি।
প্রশ্নপত্র ফাঁস রুখতে প্রতিটি পরীক্ষা কেন্দ্রে কড়া পদক্ষেপ করা হয়েছে। কোনো পরীক্ষার্থীই মোবাইল ফোন বা স্মার্ট ওয়াচ নিয়ে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারবেন না। এর জন্য মেটাল ডিটেক্টরের মাধ্যমে তল্লাশির পাশাপাশি সিসিটিভি (CCTV)-র কড়া নজরদারি থাকছে। এছাড়া স্কেল, রাইটিং বোর্ড ও জলের বোতল সম্পূর্ণ ‘ট্রান্সপারেন্ট’ বা স্বচ্ছ হতে হবে। নিয়ম অনুযায়ী, শুধুমাত্র সেন্টার ইনচার্জ, সেন্টার সেক্রেটারি, ভেনু সুপারভাইজার এবং কাউন্সিল নমিনি মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে পারবেন।
পরীক্ষার্থীরা সকাল ১০টা থেকে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারবেন। এরপর সকাল ১০:৫৫ মিনিটে দুই পরীক্ষার্থীর উপস্থিতিতে ইনভিজিলেটর বা পরিদর্শকেরা প্রশ্নপত্র খুলবেন। নির্দিষ্ট সময়ে অর্থাৎ ১১টায় প্রশ্নপত্র ও ওএমআর (OMR) শিট বিলি করা হবে। কোনো পরীক্ষার্থীর আসন ফাঁকা থাকলেও সেখানে প্রশ্নপত্র রাখতে হবে এবং সাড়ে ১১টা পর্যন্ত সেই আসন ফাঁকা থাকলে তবেই প্রশ্নপত্র তুলে নেওয়া হবে। জেলা উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা কমিটির অতিরিক্ত যুগ্ম আহ্বায়ক তনয় দাস জানিয়েছেন, পরীক্ষা ব্যবস্থা সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনা করতে সমস্ত নিশ্ছিদ্র ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
জলপাইগুড়ি জেলার একটি বড় অংশ জুড়ে রয়েছে প্রত্যন্ত গ্রামীণ এলাকা, চা বাগান ও বনাঞ্চল। এই সমস্ত অঞ্চলের ছাত্রছাত্রীরা যাতে সময়মতো পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছাতে পারে, তার জন্য বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ। বনাঞ্চল লাগোয়া বা বনবস্তির পরীক্ষার্থীদের যাতায়াতের সুবিধার্থে বনদফতরের পক্ষ থেকে বিশেষ গাড়ির ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং সেই গাড়িগুলিতে নিরাপত্তার জন্য সশস্ত্র বনকর্মীরাও পাহারা দেবেন। পাশাপাশি, গ্রামীণ এলাকার ছাত্রছাত্রীদের যাতায়াতের সুবিধার্থে উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ নিগমের (NBSTC) পক্ষ থেকেও পর্যাপ্ত বাসের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সার্বিক এই ব্যবস্থাকে সাধুবাদ জানিয়ে বিজেপি শিক্ষক সেলের জেলা আহ্বায়ক জীবেশ দাস জানিয়েছেন, পরীক্ষা যাতে সম্পূর্ণ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়, তার জন্য সংসদ যথাযথ পদক্ষেপ নিয়েছে।

