সমীর দাস, কালচিনি: গত কয়েকদিন ধরে ভুটানে ভারী বৃষ্টিপাতের জেরে ভুটান থেকে নেমে আসা নদীগুলোতে জলস্তর বেড়েছে। ফলে কালচিনি ব্লকের বিভিন্ন চা বাগান (Kalchini tea gardens) সাময়িকভাবে জলমগ্ন হয়ে পড়ে। রবিবার সারারাত কালচিনি (Kalchini) ব্লকেও ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে। একদিকে ভুটানের (Bhutan) নদীতে জলস্ফীতি, অন্যদিকে রাতভর বৃষ্টির ফলে কালচিনির চুয়াপাড়া, মেচপাড়া চা বাগানের একাংশ সোমবার সকালে জলমগ্ন হয়ে পড়ে। তোর্ষা নদীর জল বৃদ্ধিতে নদীসংলগ্ন সুভাষিণী চা বাগানে ফের নদীভাঙন ও বাগানের ভেতরে জল ঢুকতে শুরু করায় ওই বাগানের শ্রমিক মহলে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে। যদিও কয়েক ঘণ্টা বাদে মেচপাড়া ও চুয়াপাড়া চা বাগানের জল নেমে গিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়েছে। চা বাগান ছাড়াও তোর্ষা নদীর পাড়ভাঙনে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন নদীসংলগ্ন রণবাহাদুর বস্তির বাসিন্দারা।
মেচপাড়া চা বাগানের পাশ দিয়ে বয়ে গিয়েছে খরস্রোতা বাসরা নদী। ওই নদীর সঙ্গে যুক্ত গুদামঝোরা মেচপাড়া চা বাগানের ওপর দিয়ে গিয়েছে। এদিন প্রবল বৃষ্টিপাতে গুদামঝোরার জল উপচে বাগানে ঢুকে পড়ে। কালচিনি চা বাগান-মেচপাড়া চা বাগান সড়কপথে গুদামঝোরার কজওয়ে জলে ভরে যাওয়ায় প্রায় ৩ ঘণ্টা ওই সড়ক দিয়ে যাতায়াত বন্ধ ছিল। বাগানের ম্যানেজার এনকে সিং বলেন, ‘গুদামঝোরার জল উপচে বাগানের নিউ এক্সটেনশন ৯ নম্বর সেকশন সহ কয়েকটি সেকশন জলমগ্ন হয়ে পড়েছিল। বাসরা নদী দিয়ে বাগানে যাতে জলপ্রবেশ বন্ধ হয়, সেজন্য প্রশাসনের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে।’
অন্যদিকে সুভাষিণী চা বাগানে গত বছরের অক্টোবর মাসে তোর্ষা নদীর জলস্রোতে নদীবাঁধের ব্যাপক ক্ষতি হয়। এছাড়াও নদীর লোয়ার ডিভিশনে তোর্ষা নদীর জল ঢুকে নতুন একটি ঝোরার সৃষ্টি হয়েছে। বাগানের ম্যানেজার শীর্ষেন্দু বিশ্বাস বলেন, ‘তোর্ষার জল ওই ঝোরা হয়ে বাগানে প্রবেশ করে। কিন্তু পরবর্তীতে ওই জল বাগানে জমে থাকে। এতে চা গাছের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে।’
সেচ দপ্তরের তরফে এখানে সম্পূর্ণ ভেঙে পড়া বাঁধ মেরামত করা হলেও নতুন করে সম্পূর্ণ বাঁধ তৈরির কাজ শুরু হয়নি। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই কাজের জন্য প্রায় ১৪ কোটি টাকার টেন্ডার ডাকা হয়েছে। কয়েকদিন আগে রাজ্যের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বিশাল লামা ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ পরিদর্শনে গিয়ে আশ্বাস দিয়েছিলেন, পুজোর আগে সম্পূর্ণ নদীবাঁধ তৈরির কাজ শুরু হবে। প্রায় ২ কিলোমিটার বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। সেই কাজ দ্রুত শুরুর আশ্বাস দিয়েছিলেন মন্ত্রী। বাগানের নদী লাইনের শ্রমিক লালো মাহাতো বলেন, ‘চলতি বছর দু’বার রাতে নদীতে জল বেড়ে যাওয়ায় আমাদের ৩৫টি পরিবারকে অস্থায়ী ত্রাণশিবিরে আশ্রয় নিতে হয়েছিল।’
সেচ দপ্তরের আলিপুরদুয়ারের আধিকারিক সংবাদমাধ্যমে মন্তব্য করবেন না বলে ফোন কেটে দেন। ফলে তোর্ষা ও বাসরা নদীর বাঁধের কাজ কবে শুরু হবে তার তথ্য পাওয়া যায়নি। প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার বিকেল থেকে সোমবার বেলা ৯টা পর্যন্ত হাসিমারায় ১২.৮০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। আপাতত জল নেমে গেলেও ফের বাগানে জল ঢোকার আশঙ্কা করছেন সুভাষিণী, মেচপাড়া সহ বিভিন্ন চা বাগানের শ্রমিকরা।

