দীপঙ্কর মিত্র, হেমতাবাদ: মহিলা পরিচালিত কোঅপারেটিভ সোসাইটির প্রাক্তন পরিচালন কমিটির বিরুদ্ধে লক্ষ লক্ষ টাকা তছরুপের অভিযোগ উঠল। হেমতাবাদ (Hemtabad) ব্লকের বিষ্ণুপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের কোঅপারেটিভ সংস্থা ‘সাগর সংঘের’ প্রাক্তন পরিচালন কমিটির বিরুদ্ধে এই অভিযোগকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়াল। ইতিমধ্যে হেমতাবাদের বিডিও (BDO) বিশ্বজিৎ দত্ত প্রাক্তন পরিচালন কমিটির পাঁচ সদস্যের বিরুদ্ধে হেমতাবাদ থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। তদন্ত কমিটির থেকে ৫০ লক্ষ টাকা তছরুপের রিপোর্ট পাওয়ার পরেই বিডিও এদিন অভিযোগ দায়ের করেন। যদিও কোঅপারেটিভের প্রাক্তন সম্পাদিকা কল্পনা বর্মন রায় নিজেদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ মানতে নারাজ।
কল্পনার দাবি, ‘নিয়ম মেনেই স্কুল ড্রেস সাপ্লাই, ট্রেনিং দিয়েছি। এজন্য কোনও বিল পাইনি। আমাদের বিরুদ্ধে কেন অভিযোগ উঠল বুঝতে পারছি না।’ অন্যদিকে, ২০২৫ সালের ১ ডিসেম্বর নতুন পরিচালন কমিটি গঠিত হলেও তাদের হাতে কোনও দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বন্ধ রয়েছে। ফলে কোনও লেনদেন হচ্ছে না। অন্যদিকে বিডিও বলেন, ‘বিষ্ণুপুর অঞ্চলের সাগর সংঘের মেয়াদ শেষ হয় ২০২৪ সালে। আদালতের নির্দেশ মতো ২০২৫ সালের ১ ডিসেম্বর পুরোনো কমিটির সদস্যরা নতুন কমিটির হাতে সমস্ত হিসেবপত্র বুঝিয়ে দেননি। পুরোনো কমিটির হিসেবপত্র তদন্তের পর দেখা গিয়েছে প্রায় ৫০ লক্ষ টাকা গরমিল রয়েছে। প্রাক্তন কমিটির ৫ সদস্য স্কুল ড্রেসের বিল সহ যাবতীয় বিলের তথ্য দিতে পারেননি। তাই হেমতাবাদ থানায় কোঅপারেটিভের বিদায়ি পাঁচ সদস্যের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।’
নবনিযুক্ত সম্পাদিকা সোনামণি বালা দাসের দাবি, ‘অর্থ তছরুপের বিষয়টি জানা নেই। সোসাইটির বিভিন্ন কাজকর্ম চলছে। কিন্তু কোনও লেনদেন হচ্ছে না। প্রশাসন সবটাই জানে।’ অভিযোগ, বিভিন্ন স্বনির্ভর গোষ্ঠী সংঘের ঋণ পরিশোধ করলেও সেই টাকা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা পড়েনি। বেশ কিছু টাকা সদস্যদের কাছে রয়েছে, কিন্তু সেই টাকার হদিস মেলেনি। জানা গিয়েছে, বেশ কিছুদিন ধরে ওই সোসাইটির বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ ওঠায় কোঅপারেটিভ দপ্তরের নির্দেশ মতো মাস তিনেক আগে বিডিও একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন। তদন্তে প্রায় ৫০ লক্ষ টাকা গরমিল পাওয়া যায়। সাধারণ মানুষের লক্ষ লক্ষ টাকা নয়ছয় করায় ওই কোঅপারেটিভের বিরুদ্ধে হেমতাবাদ থানায় অভিযোগ দায়ের করেন বিডিও।

