উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: বারুইপুরের (Baruipur Case) উত্তপ্ত পরিস্থিতি সামাল দিতে মরিয়া প্রশাসন। এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ধারাবাহিক তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ। ঘটনার জেরে গণপিটুনি এবং এলাকায় হিংসায় উসকানি দেওয়ার অভিযোগে বারুইপুর জেলা পুলিশ, এসটিএফ (STF) এবং স্পেশ্যাল অপারেশন গ্রুপ (SOG)-এর যৌথ অভিযানে শুক্রবার গভীর রাতে আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সব মিলিয়ে এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত ধৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৮।
ঘটনার সূত্রপাত গত শনিবার, যখন এক নাবালিকা নিখোঁজ হয়। রবিবার সকালে তার দেহ উদ্ধারের পর থেকেই এলাকা রণক্ষেত্র হয়ে ওঠে। পরিবারের অভিযোগ, নাবালিকাকে ধর্ষণ করে খুন করা হয়েছে। ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে এবং অন্যতম মূল অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডল পুলিশের এনকাউন্টারে মারা যায়। তবে উত্তেজনা থামেনি। দেহ নিয়ে বিক্ষোভের সময় উন্মত্ত জনতা সম্পূর্ণ সন্দেহের বশে এক যুবককে পিটিয়ে খুন করে বলে অভিযোগ ওঠে। এই ঘটনার পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari) দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহতের পরিবারকে দোষীদের কঠোর শাস্তির আশ্বাস দেন। দেখা করেন নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গেও। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন যে, আইন নিজের হাতে তুলে নিলে কাউকে রেয়াত করা হবে না।
প্রশাসনের দাবি, এই গণপিটুনির নেপথ্যে পরিকল্পিত কোনো চক্রান্ত বা উসকানি থাকতে পারে। সেই উসকানিদাতাদের চিহ্নিত করতেই চলছে ব্যাপক ধরপাকড়। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করে বাকিদের খোঁজেও চিরুনিতল্লাশি চলছে।
পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে আজই ফের বারুইপুরে যাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী। নিহতের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় একটি নতুন পুলিশ ফাঁড়ি তৈরির নির্দেশ দিয়েছিলেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই জেলা পুলিশ দ্রুততার সঙ্গে সেই ফাঁড়ি তৈরির কাজ সম্পন্ন করেছে। আজ সেই নতুন পুলিশ ফাঁড়ির উদ্বোধন করবেন মুখ্যমন্ত্রী। বর্তমানে এলাকায় থমথমে ভাব থাকলেও প্রশাসনের কড়া নজরদারিতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলছে। পুলিশের এই ধরপাকড় অভিযান আগামীদিনে আরও জোরদার হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

