কোচবিহার: হোমওয়ার্ক দেখার নাম করে তৃতীয় শ্রেণির এক নাবালিকা ছাত্রীকে দিনের পর দিন যৌন নির্যাতন করার অভিযোগে অভিযুক্ত এক শিক্ষককে ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিল কোচবিহার আদালত (Headmaster sentenced imprisonment)। একই সঙ্গে ৭০ হাজার টাকা জরিমানার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে ৬৫ হাজার টাকা পাবেন নির্যাতিতা নাবালিকা। ২০২৩ সালে পুণ্ডিবাড়ির এই ঘটনায় সে সময় রাজ্যজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছিল। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে সোমবার এই মামলার রায় ঘোষণা হয়।
আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, কোচবিহারের পুণ্ডিবাড়ির একটি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করত তৃতীয় শ্রেণির ওই নাবালিকা। ওই স্কুলেই প্রধান শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিল অভিযুক্ত সুজিত দে। ২০২৩ সালের ১০ নভেম্বর সকালে স্কুলে যাওয়ার সময় কান্নাকাটি শুরু করে ওই ছাত্রী। এরপরই সে তার মাকে জানায়, হোমওয়ার্ক দেখানোর বাহানায় প্রধান শিক্ষক তাকে আলাদা ঘরে নিয়ে গিয়ে নিয়মিত শারীরিক নির্যাতন চালাতেন। এই ভয়ঙ্কর তথ্য সামনে আসার পরেই নাবালিকার পরিবার পুণ্ডিবাড়ি থানার পুলিশের দ্বারস্থ হয়। পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ দ্রুত অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেপ্তার করে।
ঘটনার পর পুলিশ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই আদালতে চার্জশিট জমা দেয়। কোচবিহারের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা বিচারক (দ্বিতীয় আদালত) মন্দাক্রান্তা সাহার এজলাসে এই মামলার বিচারপর্ব চলে। মোট আটজন সাক্ষী এই মামলায় সাক্ষ্য দেন। দীর্ঘ সওয়াল-জবাবের পর আদালত পকসো (POCSO) আইনে অভিযুক্ত সুজিত দে-কে দোষী সাব্যস্ত করে ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৭০ হাজার টাকা জরিমানার নির্দেশ দেয়। জরিমানার অর্থ অনাদায়ে আরও তিন মাসের সশ্রম কারাদণ্ডের কথা বলা হয়েছে। এছাড়াও জরিমানার টাকার বড় একটি অংশ, অর্থাৎ ৬৫ হাজার টাকা নির্যাতিতা ছাত্রীকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। মামলার সরকারি আইনজীবী স্বপ্না রায়সিংহ জানান, শিক্ষক সমাজের মতো একটি পবিত্র পেশায় থেকে এই ধরনের জঘন্য অপরাধের ঘটনায় আদালতের এই রায় অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। একজন শিক্ষকের এমন আচরণে সাধারণ মানুষের মধ্যেও তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

