Gold dealer homicide case | ধৃত সজলের ছায়াসঙ্গী, খুনের পর মাংসভাতের পরিকল্পনা  

Gold dealer homicide case | ধৃত সজলের ছায়াসঙ্গী, খুনের পর মাংসভাতের পরিকল্পনা  

আন্তর্জাতিক INTERNATIONAL
Spread the love


শুভঙ্কর চক্রবর্তী ও সায়নদীপ ভট্টাচার্য, শিলিগুড়ি ও বক্সিরহাট: সল্টলেকে স্বর্ণ ব্যবসায়ী স্বপন কামিল্যা হত্যাকাণ্ডে (Gold dealer homicide case) আগেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে তৃণমূলের (TMC) প্রাক্তন ব্লক সভাপতি সজল সরকারকে। এবার সজলের ছায়াসঙ্গী গোবিন্দ সরকারকে গ্রেপ্তার (Arrest) করল পুলিশ। সূত্রের খবর, বৃহস্পতিবার রাতে বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটের গোয়েন্দা এবং কোচবিহার পুলিশের একটি দল গুয়াহাটির বিষ্ণুপুর থেকে গোবিন্দকে আটক করে বক্সিরহাট থানায় নিয়ে আসে। শুক্রবার তাঁকে তুফানগঞ্জ মহকুমা আদালতে তোলা হয়। সেখান থেকে ট্রানজিট রিমান্ডে গোবিন্দকে বিধাননগরে নিয়ে যান তদন্তকারীরা। এখনও পর্যন্ত স্বর্ণ ব্যবসায়ী খুনে গ্রেপ্তারির সংখ্যা বেড়ে হল পাঁচ।

পুলিশ সূত্রের খবর, বক্সিরহাট থানায় দফায় দফায় জেরা করা হয় গোবিন্দকে। তাতেই ঘটনার দিন সল্টলেকের আবাসনে উপস্থিত থাকার কথা স্বীকার করে নিয়েছেন তিনি। মেনে নিয়েছেন স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে মারধরের কথাও। জেরায় গোবিন্দ জানিয়েছেন, ঘটনার আগের দিন গাড়ি চালিয়ে তিনিই সজলকে নিয়ে কলকাতা রওনা হয়েছিলেন। ঘটনার দিন সকালে তাঁরা আবাসনে পৌঁছানোর পরই স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে তুলে আনা হয়। শুরু হয় মারধর। সেখানে বিডিও প্রশান্ত বর্মন, সজল সকলেই উপস্থিত ছিলেন বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন তিনি। গাড়ি চালানো ছাড়াও ঘরোয়া অনুষ্ঠানে রান্না করা, নানা ফাইফরমাশ খেটে দেওয়া এবং সজলের গোপন প্রায় সব কাজই করতেন গোবিন্দ। জেরায় তিনি পুলিশকে জানিয়েছেন, স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে মারধরের মধ্যেই তাঁকে রান্না করতে বলেন সজল। ভাত, ডাল, মুরগির মাংস এবং পাঁপড় ভাজা করতে বলেছিলেন। সেইমতো তিনি রান্নার প্রস্তুতিও শুরু করেছিলেন। তারমধ্যেই অঘটন ঘটে যায়। তখন সবাই মৃতদেহ লোপাট করার জন্য ব্যস্ত হয়ে পড়েন। গোবিন্দর কথা শুনে হতভম্ব হয়ে গিয়েছেন তদন্তকারীরাও।

গোবিন্দর বাড়ি কোচবিহারের পুণ্ডিবাড়ির পরেশ কর চৌপথি এলাকাতে। গোবিন্দ সজলের প্রতিবেশী। স্বপন খুনে এর আগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে সজলের গাড়ির চালক সোনাইকে। গোবিন্দ সম্পর্কে সোনাইয়ের তুতোভাই। দিনকয়েক আগে সজলকে সাসপেন্ড করেছে তৃণমূল। তার আগে পর্যন্ত প্রভাবশালী সজলই ছিলেন কোচবিহার-২ ব্লকের শেষ কথা। অবিবাহিত গোবিন্দ ছিলেন সজলের ডান হাত। রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে ছিল তাঁর অবাধ যাতায়াত। শুধু সজল নয়, তাঁর দুই ভাইয়েরও অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ গোবিন্দ। তাঁর গ্রেপ্তারির খবর জানাজানি হতেই পুণ্ডিবাড়িতে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। একাধিক জমি কেনাবেচাতেও গোবিন্দর নাম উঠে আসছে। গোবিন্দর নামে কোথাও প্রশান্ত এবং সজল আর্থিক বিনিয়োগ করতে পারেন বলেও আশঙ্কা করছেন গোয়েন্দারা। নামে বা বেনামে থাকা গোবিন্দর সম্পত্তির খোঁজখবর নিতে শুরু করেছেন তাঁরা। পুলিশ সূত্রের খবর, স্বর্ণ ব্যবসায়ীর দেহ মিলতেই প্রশান্ত বাদে ঘটনার দিন আবাসনে থাকা প্রত্যেকেরই কিছুদিনের জন্য গা-ঢাকা দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। তারমধ্যেই রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রভাব খাটিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হবে বলেই আশ্বাস দিয়েছিলেন প্রশান্ত ও সজল। দলের নেতাদের মদত না পেয়ে দলবল নিয়ে সজল অসমে পালিয়ে গিয়েছিলেন। তার আগেই সোনাই, গোবিন্দ সহ কয়েকজনকে অসমের গোপন ডেরায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়। যেদিন সোনাই ধরা পড়ে সেদিন গোবিন্দও তাঁর সঙ্গে ছিলেন। তবে পুলিশের চোখে ধুলো দিয়ে তিনি পালিয়ে যান এবং ফোন বন্ধ করে রাখেন। অন্য ধৃতদের জেরা করে পাওয়া ঠিকানায় হানা দিয়েও গোবিন্দকে ধরতে পারেনি পুলিশ। বৃহস্পতিবার গোপন সূত্রের খবরের ভিত্তিতে বিষ্ণুপুরের একটি বাড়ি থেকে তাঁকে আটক করে পুলিশ।

গোবিন্দর গ্রেপ্তারির পর এদিনও ঘুরেফিরে এসেছে প্রশান্তর জামিনের প্রসঙ্গ। এফআইআরে নাম না থাকা পাঁচ অভিযুক্ত গ্রেপ্তার হলেও কেন বিডিওকে ছাড় দিয়ে আগাম জামিনের ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়েছিল তা নিয়ে পুলিশের ভূমিকার সমালোচনা শুরু হয়েছে বিভিন্ন মহলে। বড় কোনও প্রভাবশালীর চাপেই প্রশান্তর ক্ষেত্রে পুলিশ নমনীয় কি না সেটাই এখন পাড়ার চায়ের ঠেক থেকে কাছারি চত্বরের অন্যতম আলোচনার বিষয়।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *