পশ্চিমবঙ্গে এ বছর ডেঙ্গি পরিস্থিতি গত বছরের তুলনায় অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে, যা নিঃসন্দেহে স্বস্তির খবর। সেপ্টেম্বরের শুরু পর্যন্ত রাজ্যে আক্রান্তের সংখ্যা ৪ হাজারের কিছু বেশি। গত বছর একই সময়ে সেই সংখ্যা ছিল প্রায় ৭,৬০০।
কিন্তু আক্রান্তের সংখ্যা কমেছে বলেই ডেঙ্গির মরশুম শেষ, এমনটা ভাবার কোনও কারণ নেই। বর্ষা ও নিম্নচাপের কারণে দফায় দফায় বৃষ্টি এবং বিভিন্ন জায়গায় জল জমে থাকায় পরিস্থিতিতে, এখনই সতর্কতা শিথিল করতে নারাজ স্বাস্থ্য দপ্তর।
আরও পড়ুন:
পাঁচ জেলা বিশেষ নজরে
কলকাতা, হাওড়া, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং মুর্শিদাবাদকে ডেঙ্গি মোকাবিলায় বিশেষ নজরদারির আওতায় রাখা হয়েছে। এই এলাকাগুলিতে মশা নিয়ন্ত্রণ, জ্বর হলে বিশেষ সতর্কতা এবং দ্রুত রোগ নির্ণয়ে বাড়তি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বর্ষা এবং বর্ষার পরেও কয়েক সপ্তাহ ডেঙ্গির ঝুঁকি থাকতে পারে বলেই পরিস্থিতির উপর নজর রাখা জরুরি।
আরও পড়ুন:


বিপদ লুকিয়ে জমা জলে
ডেঙ্গির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল এডিস মশার বংশবিস্তার রোধ করা। বাড়ির ছাদ, বারান্দা, ফুলের টব, পুরনো টায়ার, প্লাস্টিকের পাত্র, এসির ট্রে বা আশপাশে পড়ে থাকা যে কোনও পাত্রে জল জমে থাকলে মশার বংশবিস্তারের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
তাই শুধু পুরসভা বা স্বাস্থ্য দপ্তরের উদ্যোগের পাশাপাশি সপ্তাহে অন্তত দু-এক দিন বাড়ি ও আশপাশ খুঁটিয়ে দেখা, কোথাও জল জমে আছে কি না। কারণ ডেঙ্গি প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় এখনও মশার বংশবিস্তার রোধ করা।


জ্বরকে অবহেলা নয়, আতঙ্কও নয়
হঠাৎ জ্বরের সঙ্গে তীব্র মাথাব্যথা, শরীর ব্যথা, চোখের পিছনে ব্যথা, বমি বা অত্যধিক দুর্বলতা দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। নিজের মতো ওষুধ খেয়ে বা শুধু প্লেটলেটের সংখ্যা নিয়ে আতঙ্কিত হওয়া ঠিক নয়। রোগের উপসর্গ এবং সামগ্রিক শারীরিক অবস্থা বিচার করেই চিকিৎসক প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ও চিকিৎসার সিদ্ধান্ত নেন।
লড়াই এখনও শেষ নয়
এ বছরের ডেঙ্গি পরিসংখ্যান স্বস্তির হলেও বর্ষা এখনও পুরোপুরি বিদায় নেয়নি। তাই বিপদ এখনও কাটেনি। জমা জল সরানো, মশার বংশবিস্তার রোধ করা এবং জ্বর হলে সময়মতো চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া, এই তিন সতর্কতাই এখন সবচেয়ে জরুরি।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
