হরিশ্চন্দ্রপুর: রাজ্যে সরকারের পালা বদল হতেই হরিশ্চন্দ্রপুরে (Harishchandrapur) বিগত শাসক দলের নেতাদের দখল করা সরকারি জমি নিয়ে সামনে এল বড় দুর্নীতি (Corruption)। অভিযোগ, পঞ্চায়েত থেকে শৌচালয় এবং অতিথি নিবাসের টেন্ডার পাশ করিয়ে তার পরিবর্তে তৎকালীন তৃণমূল নেতাদের উদ্যোগে তৈরি হয় অবৈধ নির্মাণ (Unlawful Development)। এবার সেই অবৈধ নির্মাণ ভাঙার দাবিতে এলাকার মানুষকে সাথে নিয়ে পুলিশের কাছে ডেপুটেশন জমা দেওয়ার উদ্যোগ নিল বিজেপি নেতৃত্ব।
বৃহস্পতিবার হরিশ্চন্দ্রপুরের এই ঘটনায় শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। হরিশ্চন্দ্রপুর সদর এলাকায় একসময় সরকারি জমিতে ছিল ঘোড়াগাড়ি স্ট্যান্ড। সেই জায়গায় পরবর্তীতে হরিশ্চন্দ্রপুর পঞ্চায়েত সমিতি থেকে টেন্ডার পাশ হয় শৌচালায় এবং অতিথি নিবাস তৈরি করার জন্য। টেন্ডারটি ছিল প্রায় ৫৬ লক্ষ টাকার। কিন্তু সেই টেন্ডারের অর্থ কোথায় গিয়েছে সেটা আজও রহস্য।
অভিযোগ, তৎকালীন পঞ্চায়েত প্রধানের স্বামী তৃণমূল নেতা আফজল হোসেন, ব্লক তৃণমূল শ্রমিক সংগঠনের সভাপতি সাহেব দাস, যুব তৃণমূল নেতা দুর্জয় দাস, তৃণমূলের অঞ্চল সভাপতি সঞ্জীব গুপ্তা এবং বাবলু কর্মকার এখানে পঞ্চায়েতের এই সরকারি জমিতে দোকান তৈরি করে ভাড়া দেন। এমনকি সেখানে চালু হয় তৃণমূলের দলীয় কার্যালয়।
যদিও দখলকারীদের মধ্যে সঞ্জীব গুপ্তা বিধানসভা নির্বাচনের আগে তৃণমূল থেকে বহিষ্কার হন। বাবলু কর্মকার বর্তমানে রয়েছেন বিজেপিতে। ঘটনা প্রসঙ্গে আরও জানা গিয়েছে যে, এই অবৈধ নির্মাণের ঘটনায় মামলাও হয়েছিল আদালতে। আদালতের তরফে সেই অবৈধ নির্মান ভেঙে ফেলার নির্দেশও দেওয়া হয়। কিন্তু তারপরেও নাকি দখলকারীরা জায়গা দখলমুক্ত করেনি। এই পরিস্থিতিতে এবার পালাবদল হতেই হাইকোর্টের সেই নির্দেশ কার্যকর করার দাবিতে এলাকার মানুষের স্বাক্ষর নিয়ে পুলিশের কাছে ডেপুটেশন-জমা দেওয়ার উদ্যোগ নিল বিজেপি নেতৃত্ব।
এই প্রসঙ্গে অভিযোগকারী বিজেপি নেতা চন্দ্রনাথ রায় বলেন, “আমি এই জমি দখল নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সোচ্চার হয়েছিলাম। একাধিকবার আমাকে তৃণমূল নেতারা আক্রমণ করেছে, এমনকি আমাকে ওদের আক্রমণে আহত হয়ে হাসপাতাল ভর্তি হতে হয়েছিল। এখানে আগে পঞ্চায়েতের অর্থে নির্মিত ঘোড়াগাড়ি স্ট্যান্ড ছিল। কিন্তু তৃণমূল পঞ্চায়েত দখল করার পরই সেটা ভেঙে দিয়ে এলাকার তৃণমূলের কিছু নেতা নিজেদের স্বার্থে সেই জমি দখল করে মার্কেট কমপ্লেক্স তৈরি করে দোকান ঘর তৈরি করে নেয় এবং সেটা ভাড়াও দিয়ে দেয়। আমি এই নিয়ে অভিযোগ করেছিলাম তৎকালীন প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে। আমার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এই বিল্ডিং ভেঙে ফেলার নির্দেশও দেওয়া হয়। কিন্তু কার প্রভাবে এটা ধামাচাপা পড়ে যায় জানিনা। কিন্তু এখন সরকার পরিবর্তন হয়েছে। আমি চাই এই অবৈধ নির্মাণ ভেঙে সরকারি ভবন তৈরি হোক। সরকারি শৌচালয়, অতিথিশালা নির্মাণ করা হোক।”
যদিও এই বিষয়ে অভিযুক্ত বহিষ্কৃত তৃণমূল নেতা সঞ্জীব গুপ্ত বলেন, “আমার নামে ভিত্তিহীন অভিযোগ করা হচ্ছে। এই ভবন কারা ভেঙেছিল, কারা নতুন করে নির্মাণ করে ভাড়া দিয়েছে, আমি সে সম্বন্ধে কিছুই জানি না। এখন নতুন সরকার এসেছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এখানে মানুষের স্বার্থে কিছু গড়ে তুলুক, এটাই আমরা চাই।”
যদিও পূর্ত দপ্তরের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, বছরখানেক আগে অভিযোগ পেয়ে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হয়েছিল এবং সেটা যে সরকারি জমি, তাও চিহ্নিত হয়েছিল। এই প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসনের এক আধিকারিক জানান, ভোটের সময় এসআইআর নিয়ে ব্যস্ত থাকায় এ সম্পর্কে পদক্ষেপ নিতে দেরি হয়েছে। অবিলম্বে ওই অবৈধ নির্মাণ ভেঙে ফেলা হবে।
