রায়গঞ্জ: নিয়ম তো আগেই ছিল। কিন্তু সেসবকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে (Raiganj Medical Faculty and Hospital) দিব্যি এতদিন কাজ করছিলেন আয়ারা। সঙ্গে ইচ্ছেমতো রোগীর পরিজনদের কাছ থেকে টাকা আদায়ও চলছিল বলে অভিযোগ। তবে এবার থেকে মেডিকেল কলেজে আয়াদের ঢোকা নিষিদ্ধ করল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। বুধবার ওই নির্দেশিকার পরই শোরগোল পড়ে যায় হাসপাতাল চত্বরে।
শুধু মৌখিক নির্দেশিকার ভিত্তিতেই দীর্ঘদিন ধরে কাজ করা কয়েকশো আয়াদের ওয়ার্ড থেকে বেরিয়ে যেতে বলা হয়েছে বলে অভিযোগ। ওই ঘটনার প্রতিবাদে এদিন বিকেলে আয়ারা এমএসভিপি’র ঘরের সামনে ধর্নায় বসেন। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাঁদের সঙ্গে দেখাও করেননি বলে জানিয়েছেন আয়ারা। আয়া সাধনা ঘোষ বলেন, ‘আমি সহ বহু মহিলা প্রায় ২৬ বছর ধরে রায়গঞ্জ হাসপাতালে রোগীদের পরিষেবা দিয়ে আসছি। রোগীর পরিজনদের দেওয়া সামান্য পারিশ্রমিকেই আমাদের সংসার চলে। হঠাৎ কাজ বন্ধ হয়ে গেলে কয়েকশো পরিবারের রুজিরুটি বন্ধ হয়ে যাবে।’
এমনিতেই সরকারি হাসপাতালে আয়াদের কাজ বহুদিন আগেই নিষিদ্ধ করেছিল রাজ্য সরকার। কিন্তু এখনও উত্তর দিনাজপুর জেলায় রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে আয়াদের অবাধ যাতায়াত। আয়ারা মূলত হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগ, সার্জিক্যাল বিভাগ ও প্রসূতি বিভাগ ও শিশু বিভাগেই থাকেন। রোগীর পরিবার পরিজনদের থেকে টাকা নেওয়া থেকে শুরু করে সন্তান জন্মের পর বকশিশের নাম করে ২০০০ টাকা দাবি করেন তাঁরা। শুধু তাই নয়, বহু আয়ার গাফিলতির জেরে রোগীর মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ। তাই এবার হাসপাতাল থেকে আয়াদের বের করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়া, হাসপাতালের নিরাপত্তাকর্মীদের সতর্ক থাকতেও নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। প্রয়োজনে নিরাপত্তাকর্মীও বাড়ানো হবে।
তবে আয়াদের অভিযোগ, এদিন অ্যাসিস্ট্যান্ট সুপার বিভিন্ন ওয়ার্ডে গিয়ে জানিয়ে দেন সন্ধ্যা সাতটার মধ্যে আয়াদের ওয়ার্ড ছাড়তে হবে, নাহলে পুলিশ দিয়ে সরিয়ে দেওয়া হবে। এতেই প্রতিবাদে সরব হন তাঁরা। এ ব্যাপারে রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের এমএসভিপি প্রিয়ঙ্কর রায়কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, ‘রাজ্য স্বাস্থ্য ভবন থেকে যা নির্দেশ এসেছে সেই মোতাবেক আয়াদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এদিন সন্ধ্যা সাতটার মধ্যে সমস্ত ওয়ার্ডের আয়াদের বের করে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তারপরেও কোনও আয়া থাকলে বা গায়ের জোরে কাজ করলে তাঁদের পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হবে। এই বিষয়ে পুলিশের সঙ্গে প্রাথমিক কথাবার্তা হয়ে গিয়েছে।’
