Harishchandrapur | ক্ষমতায় নেই তবুও সরকারি প্রকল্পের শিলান্যাস! হরিশ্চন্দ্রপুরে প্রাক্তন বিধায়ক তাজমূল হোসেনকে নিয়ে তৃণমূল-বিজেপির তরজা

ব্লগ/BLOG
Spread the love


হরিশ্চন্দ্রপুর: রাজ্যের ক্ষমতা পরিবর্তন হলেও তৃণমূল কংগ্রেসের একাংশের পুরনো স্বভাব বদলায়নি—এমনই অভিযোগ তুলে ফের শোরগোল শুরু হয়েছে মালদার (Malda) হরিশ্চন্দ্রপুর (Harishchandrapur) বিধানসভায়। নিজের প্রাক্তন বিধায়ক কোটার টাকায় তৈরি হতে চলা সরকারি প্রকল্পের শিলান্যাসকে কেন্দ্র করে চরম রাজনৈতিক সংঘাতে জড়িয়েছেন দুই হেভিওয়েট নেতা। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে একদিকে যেমন ‘মমতাপন্থী তৃণমূল’ বনাম ‘গণতান্ত্রিক তৃণমূল’ (ঋতব্রত তৃণমূল) দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে এসেছে, তেমনই থানা ঘেরাও ও এফআইআর করার হুঁশিয়ারি দিয়েছে বিজেপি।

হরিশ্চন্দ্রপুর বিধানসভা এলাকার সুলতানগর গ্রাম পঞ্চায়েতের ডারোল গ্রামে একটি মাদ্রাসার গেট নির্মাণ এবং নানারাহি গ্রামে মাদ্রাসার অন্য একটি প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও উদ্বোধন করতে যান তাজমূল হোসেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে বিধায়ক তহবিলের মাধ্যমে এই দুটি প্রকল্পের জন্য ২ লক্ষ টাকা করে বরাদ্দ করা হয়েছিল।

জানা গেছে, অতীতে তাজমূল হোসেন যখন বিধায়ক ছিলেন, তখন এক জনসভায় ওই দুই বেসরকারি মাদ্রাসার এই কাজগুলি করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে সেইমতো টাকা বরাদ্দ হয়। আর রবিবার সেই প্রকল্পের উদ্বোধনেই ছুটে যান তিনি, যা নিয়ে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে।

বিধায়ক পদে না থাকা সত্ত্বেও তাঁর সরকারি প্রকল্পের উদ্বোধন করা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বর্তমান মমতাপন্থী তৃণমূল ও বিজেপি।

  • তৃণমূল বিধায়ক মতিবুর রহমানের আক্রমণ: বর্তমান বিধায়ক মতিবুর রহমান তীব্র আক্রমণ শানিয়ে বলেন, “মন্ত্রী থাকাকালীন উনি কাটমানি খেতেন। এখনও সেই কাটমানির ভাগ নেওয়ার জন্যই সরকারি প্রকল্পের উদ্বোধনে যাচ্ছেন। উনি তো এখন কোনো জনপ্রতিনিধি নন, সরকারি কাজ প্রশাসন করুক।”
  • বিজেপির হুঁশিয়ারি: বিজেপির জেলা সাধারণ সম্পাদক রূপেশ আগরওয়াল কটাক্ষ করে বলেন, মন্ত্রিত্ব চলে গেছে, দলও ক্ষমতাচ্যুত, তবুও উনি ক্ষমতার মোহ ভুলতে পারছেন না। কীভাবে উনি এই প্রকল্পের শিলান্যাস করলেন? আমরা প্রশাসনকে অনুরোধ করব অবিলম্বে এই বিষয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে, প্রয়োজনে থানায় এফআইআর দায়ের করা হোক।

সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে তাজমূল হোসেন জানিয়েছেন, তিনি সাধারণ মানুষের স্বার্থে এবং প্রতিশ্রুতি রাখতেই সেখানে গিয়েছিলেন। তাঁর বক্তব্য, “আমি বিধায়ক থাকার সময় ওই দুটি বেসরকারি মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষকে কথা দিয়েছিলাম যে, ওদের দাবি মত উক্ত প্রকল্পগুলো করে দেব। এখন সেটা বরাদ্দ হয়েছে। ওখান থেকে ওদের প্রতিনিধি খবর দিয়েছিল তাই গিয়েছিলাম। কে কী বলছে সেটা আমি গুরুত্ব দেই না। আমি মানুষের পাশে ছিলাম এবং আজীবন থাকব।”



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *