Humayun Kabir | উপনির্বাচনের আগে প্রচারের ময়দান ছাড়লেন হুমায়ুন কবীর! নেপথ্যে পুলিশি ধরপাকড়

ব্যবসা-বাণিজ্যের /BUSINESS
Spread the love


উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: আগামী ৬ অক্টোবর রাজ্যের হাইভোল্টেজ দুই কেন্দ্র রেজিনগর (Rejinagar By-election) ও নন্দীগ্রামে বিধানসভা উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। আর এই ভোটের দিনক্ষণ এগিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গেই বঙ্গ রাজনীতির পারদ ক্রমশ চড়তে শুরু করেছে। শাসক ও বিরোধী উভয় শিবিরই যখন জোরকদমে ময়দানে নেমে নিজেদের রাজনৈতিক জমি শক্ত করতে ব্যস্ত, ঠিক সেই সময়েই অভাবনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলেন আমজনতা উন্নয়ন পার্টির (AJUP) সুপ্রিমো হুমায়ুন কবীর (Humayun Kabir)। আসন্ন উপনির্বাচনে সশরীরে ময়দানে নেমে আর কোনওরকম রাজনৈতিক প্রচার করবেন না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন তিনি। তাঁর ঘোষণা অনুযায়ী, এখন থেকে দলের যাবতীয় প্রচারকার্য শুধুমাত্র সোশ্যাল মিডিয়া বা সামাজিক মাধ্যমের প্ল্যাটফর্মগুলিতেই সীমাবদ্ধ থাকবে। তবে প্রচারের ময়দান থেকে নিজেকে সরিয়ে নিলেও, আগামী ৬ অক্টোবর, অর্থাৎ ভোটগ্রহণের দিন সকাল থেকেই তিনি সশরীরে মাঠে হাজির থাকবেন বলে দলীয় কর্মী ও সমর্থকদের আশ্বস্ত করেছেন।

হুমায়ুন কবীরের এই আকস্মিক সিদ্ধান্তের পিছনে রয়েছে লাগাতার পুলিশি ধরপাকড় এবং ক্রমাগত হুমকির অভিযোগ। এজেইউপি প্রধানের অভিযোগ, তাঁর দলের সাধারণ নেতা-কর্মীরা যখনই রাস্তায় নেমে নির্বাচনী প্রচারের কাজে অংশ নিচ্ছেন, তখনই তাঁদের নানা অজুহাতে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। সেই সঙ্গে কর্মীদের বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়ার ঘটনাও ঘটছে প্রতিনিয়ত। তাই দলীয় নেতা-কর্মীদের সুরক্ষার কথা বিবেচনা করে এবং অনাকাঙ্ক্ষিত আইনি ঝামেলা এড়াতেই তিনি আপাতত রাজপথের প্রচার থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেওয়ার এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

উপনির্বাচন হলেও রেজিনগর এবং নন্দীগ্রামের রাজনৈতিক উত্তাপ যে কোনও সাধারণ নির্বাচনের চেয়ে কোনো অংশে কম নয়। এই দুটি কেন্দ্রেই শাসক দলের পাশাপাশি বিরোধীরাও একে অপরকে এক ইঞ্চি জমি ছাড়তে নারাজ। এই তীব্র রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের মাঝেই হুমায়ুন কবীরের দলের বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতা ও ঘনিষ্ঠ প্রার্থীর গ্রেপ্তারি রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। গত শুক্রবার রাতে মুর্শিদাবাদের হরিহরপাড়ায় পুলিশের নাকা চেকিং চলাকালীন বিপুল পরিমাণ জাল নোট এবং বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র-সহ গ্রেপ্তার হয়েছেন এজেইউপি-র রাজ্য সম্পাদক আশিক ইকবাল। তাঁর কাছ থেকে ১০৮টি ৫০০ টাকার জাল নোট, জোড়া আগ্নেয়াস্ত্র এবং কার্তুজ উদ্ধার হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। অন্যদিকে, রেজিনগরে নির্দল প্রার্থী সাইফুল ইসলামকেও গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের সময় দুই গোষ্ঠীর মধ্যে ঘটা একটি পুরোনো রাজনৈতিক সংঘর্ষের মামলাতেই দীর্ঘ পাঁচ বছর পর তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

ভোটের ঠিক মুখেই দলের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের এইভাবে একের পর এক গ্রেপ্তারিতে স্বভাবতই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এজেইউপি সুপ্রিমো। তাঁর মতে, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে দলের কর্মীদের মনোবল ভেঙে দেওয়ার জন্যই এইসব পুরোনো মামলা খুঁচিয়ে তুলে পুলিশি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে। সাধারণ মানুষের কাছে নিজেদের বক্তব্য পৌঁছে দিতে এবং এই প্রতিকূল পরিস্থিতির মোকাবিলা করতেই তাই আপাতত ডিজিটাল প্রচারকেই মোক্ষম হাতিয়ার হিসেবে বেছে নিয়েছেন তিনি। তবে ভোটের দিন নিজে ময়দানে উপস্থিত থেকে তিনি যে শেষ বিন্দু পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাবেন, সেই বার্তাও স্পষ্ট করে দিয়েছেন এই দাপুটে নেতা।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *