সামসী: ভিনরাজ্যে কর্মরত অবস্থায় বহুতল থেকে পড়ে মৃত্যু হল বাংলার এক মহিলা পরিযায়ী শ্রমিকের (Migrant employees)। মৃত পরিযায়ী শ্রমিকের নাম মুসকান খাতুন (২০)। বাড়ি চাঁচল-২ ব্লকের মালতীপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের গঙ্গাদেবী ফকিরপাড়া গ্রামে (Samsi)। মেয়ের মৃত্যুতে ভেঙে পড়েছে গোটা পরিবার। বুধবার মুসকানের কফিনবন্দি দেহ পৌঁছাবে গঙ্গাদেবী ফকিরপাড়া গ্রামে।
মৃতার পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, দেড় মাস আগে পুরো পরিবারসহ চেন্নাইয়ে রাজমিস্ত্রির কাজে গিয়েছিলেন মুসকান। মুসকানরা দুই বোন,এক ভাই। তাদের মধ্যে সে বড়। অন্যান্য দিনের মতো রবিবার বাবা,মা ও স্বামীর সঙ্গে একটি বহুতলে রাজমিস্ত্রির কাজে গিয়েছিল সে। কাজ শেষে কিছু টুকরো নিচে ফেলতে গিয়ে আট তলা ভবন থেকে পড়ে গিয়ে সংজ্ঞা হারিয়ে ফেলেন তিনি। রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মুসকানকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। সোমবার ময়নাতদন্তের পর কফিনবন্দি দেহ সড়কপথে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছে। বুধবার দেহ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছাবে বলে জানা গেছে। এদিকে স্ত্রীর মৃত্যু কোনওভাবেই মেনে নিতে পারছে না স্বামী সানজু শেখ। কান্না ভেজা গলায় শুধু বলেই চলেছেন, ‘চোখের সামনে আমার স্ত্রী মারা গেল, অথচ বাঁচাতে পারলাম না। মা হারা মেয়েটাকে কীভাবে মানুষ করবো?’ পাশাপাশি মুসকানের বাবা বলেন, ‘মেয়েটা আমার এভাবে মারা যাবে কল্পনাও করিনি।’
মালতীপুরের বিধায়ক আব্দুর রহিম বকশি (MLA Abdur Rahim Bakshi) বলেন, ‘এই মৃত্যু অত্যন্ত বেদনাদায়ক।’ তিনি শোকাহত পরিবারকে সমবেদনা জানানোর পাশাপাশি সবরকম সরকারি সাহায্য পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি ব্যক্তিগতভাবে কিছু আর্থিক সাহায্য করার কথাও বলেছেন।
