আসানসোল: সাতসকালে জঙ্গল থেকে কাঠ কুড়োতে গিয়ে এক ভয়ংকর ও রহস্যজনক ঘটনার সাক্ষী থাকলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। একই গাছের ডালে দড়ির ফাঁসে ঝুলছে এক প্রৌঢ়া ও এক যুবকের নিথর দেহ (Gourandi forest useless our bodies)! রবিবার সকালে পশ্চিম বর্ধমান জেলার আসানসোলের বারাবনি থানার গৌরান্ডি সংলগ্ন জঙ্গল থেকে এই দুই মৃতদেহ উদ্ধারের ঘটনায় সমগ্র এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও আতঙ্ক ছড়িয়েছে। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মৃতদেহ দুটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য আসানসোল জেলা হাসপাতালে পাঠিয়েছে বারাবনি থানার পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার সকাল প্রায় সাতটা নাগাদ বারাবনি থানার গৌরান্ডি সংলগ্ন জঙ্গলে প্রতিদিনের মতো শুকনো কাঠ কুড়োতে গিয়েছিলেন এলাকার বেশ কয়েকজন বাসিন্দা। জঙ্গল দিয়ে যাওয়ার পথেই হঠাৎ তাঁদের নজরে আসে এক মর্মান্তিক দৃশ্য। দেখা যায়, একটি গাছের একই ডালে দুটি আলাদা দড়ির ফাঁসে ঝুলছে আনুমানিক ৫৫ বছর বয়সি এক বৃদ্ধা এবং প্রায় ২৫ বছর বয়সি এক যুবকের দেহ। এই দৃশ্য দেখামাত্রই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন গ্রামবাসীরা এবং তৎক্ষণাৎ বারাবনি থানায় খবর দেওয়া হয়।
খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বারাবনি থানার পুলিশ ফোর্স দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুলিশ গিয়ে গাছের ডাল থেকে দড়ি কেটে মৃতদেহ দুটি নিচে নামায়। প্রাথমিক সুরতহাল (Inquest) প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর দেহ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য আসানসোল জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়।
রবিবার দুপুর পর্যন্ত উদ্ধার হওয়া ওই দুই মৃতদেহের কোনো সঠিক পরিচয় জানতে পারেনি পুলিশ। স্থানীয় বাসিন্দারাও জানিয়েছেন যে ওই বৃদ্ধা বা যুবককে তাঁরা কেউ আগে দেখেননি এবং তাঁরা এই এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা নন বলেই প্রাথমিক অনুমান।
এই ঘটনার পেছনে আসল রহস্য কী, তা নিয়ে তীব্র ধন্দ তৈরি হয়েছে। এটি কি আদৌ কোনো যুগল আত্মহত্যার ঘটনা, নাকি অন্য কোথাও খুন করার পর প্রমাণ লোপাটের উদ্দেশ্যে মৃতদেহগুলি গভীর জঙ্গলে এনে গাছে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে— সমস্ত দিক খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
বারাবনি থানার এক উচ্চপদস্থ আধিকারিক জানিয়েছেন, “মৃতদের পরিচয় নিশ্চিত করতে সমস্ত থানায় ছবি সহ বার্তা পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে এলেই মৃত্যুর আসল কারণ ও সময় সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।” ঘটনার জেরে গৌরান্ডি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষের কাছে আর্জি জানানো হয়েছে, কেউ যদি ছবি দেখে এই দুই ব্যক্তির পরিচয় সম্পর্কে কোনো তথ্য দিতে পারেন, তবে যেন অবিলম্বে বারাবনি থানায় যোগাযোগ করেন।

