উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: সংসদ অভিযানের পরেও টানা ৬ দিন ধরে দিল্লি পুলিশকে (Delhi Police) লক্ষ্য করে চলেছিল দেদার পাথরবৃষ্টি (Stone Pelting)। সম্প্রতি এমনটাই চাঞ্চল্যকর দাবি করেছে দিল্লি পুলিশের একটি বিশেষ সূত্র। পুলিশ জানিয়েছে, পড়ুয়াদের আবেগকে ঢাল করে কিছু অসাধু ব্যক্তি নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করতে আন্দোলনে অনুপ্রবেশ করেছিল। তারাই মূলত পরিস্থিতি উত্তপ্ত করার ছক কষে (NEET Protest Violence)।
এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সংসদ অভিযানের দিন পুলিশের বার্তা উপেক্ষা করেই ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা এবং পাথর ছোড়া হয়। এরপর গত ২৫ জুলাই পর্যন্ত সংসদের আশপাশের প্রায় দুই কিলোমিটার ব্যাসার্ধজুড়ে এই অশান্তি বজায় রাখে বিক্ষোভকারীদের একাংশ। শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং দাবিদাওয়া পূরণ না হওয়া পর্যন্ত চলে এই বিক্ষোভ। রফি মার্গ, যন্তর মন্তর, জনপথ এবং কনৌট প্লেসের মতো একাধিক স্পর্শকাতর এলাকায় ক্রমাগত হামলা চালানো সত্ত্বেও পুলিশ উস্কানিতে পা না দিয়ে চরম সংযম দেখায়।
দিল্লি পুলিশের নথিতে সরকারি সম্পত্তির বিপুল ক্ষয়ক্ষতির খতিয়ান উঠে এসেছে। ভাঙচুর করা হয়েছে ১১০টি ব্যারিকেড, নষ্ট বা চুরি হয়েছে ৩৫৫টি হেলমেট, ২৮৫টি বডি প্রোটেক্টর, ৫৪টি ঢাল, ১৭১টি দড়ি এবং বিভিন্ন নিরাপত্তা সরঞ্জাম। ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বাস, ওয়াটার ট্যাঙ্কার ও মোটরসাইকেল সহ প্রায় ২৯টি সরকারি গাড়ির। পুলিশি হিসেব অনুযায়ী, এই হিংসাত্মক সংঘর্ষে ২৪৪ জন পুলিশকর্মী এবং ২০৯ জন সাধারণ নাগরিক গুরুতর আহত হয়েছেন। শুধু তাই নয়, পুলিশের ফেসিয়াল রেকগনিশন প্রযুক্তির মাধ্যমে জানা গিয়েছে, এই বিক্ষোভে এমন বহু ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন যাঁদের বিরুদ্ধে খুন, অস্ত্র আইন ও মাদক মামলার মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।

