শুভদীপ শর্মা, লাটাগুড়ি: ইদানীং মাঝেমধ্যে বৃষ্টিতে গরমের প্রকট কমলেও তাপমাত্রা বাড়লেই যে জলের অভাবটা স্পষ্ট হবে তা নিশ্চিত। তাই প্রতিবারের মতো এবারও যাতে বন্যপ্রাণীদের সমস্যায় না পড়তে হয় সেজন্য বন দপ্তর গরুমারা জাতীয় উদ্যানের (Gorumara Nationwide Park) গুরুত্বপূর্ণ বেশ কয়েকটি এলাকা চিহ্নিত করে মোট আটটি পুকুর খনন করেছে। প্রায় আট থেকে দশ ফুট গভীরতাতেই মাটি ফুঁড়ে স্বাভাবিকভাবে জল বের হতে শুরু করেছে এবং দ্রুত পুকুরগুলো জলপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এর ফলে এবারের গরমে বন্যপ্রাণীদের কষ্ট অনেকটাই কমবে বলে মনে করা হচ্ছে।
গরুমারা বন্যপ্রাণ বিভাগের এডিএফও রাজীব দে বললেন, ‘জঙ্গলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় খননের পর এই আটটি পুকুরে স্বাভাবিকভাবে জল উঠে এসেছে। আশা করছি, গ্রীষ্মের সময় এই জলাধারগুলো বন্যপ্রাণীদের জলের চাহিদা মেটাতে অনেকটাই সাহায্য করবে।’
উত্তরবঙ্গের জঙ্গলগুলিতে শুষ্ক মরশুমের প্রভাব ক্রমশ প্রকট হয়ে উঠছে। অক্টোবর থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত না হওয়ায় অরণ্যের নদীনালাগুলি অনেকটাই শুকিয়েছে। সম্প্রতি বৃষ্টিপাত হলেও পরিস্থিতির তেমন কোনও উন্নতি হয়নি। গরুমারা জাতীয় উদ্যানের বুক চিরে বয়ে চলা মূর্তি ও জলঢাকা নদীতে জলের প্রবাহ এখন অত্যন্ত ক্ষীণ। এই সংকটময় পরিস্থিতিতে বন্যপ্রাণীদের পানীয় জলের অভাব প্রকট হয়ে দেখা দিয়েছে।
গরুমারা জাতীয় উদ্যানে বন দপ্তরের ২৬টি কুনকি হাতি রয়েছে। পাশাপাশি প্রায় ৬০টি গন্ডার, হাজার হাজার বাইসন, হরিণ ও বুনো হাতি সহ শতাধিক প্রজাতির বন্যপ্রাণী এখানে বসবাস করে। মূর্তি ও জলঢাকা নদীই এত বিপুল সংখ্যক প্রাণীর পানীয় জলের প্রধান ভরসা। কিন্তু দীর্ঘদিন বৃষ্টি না হওয়ায় নদীগুলোর জলস্তর নেমে যাওয়ায় প্রাণীদের জলের চাহিদা মেটানো কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় বন দপ্তর বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। জঙ্গলের গুরুত্বপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করে মোট আটটি নতুন পুকুর খনন করা হয়েছে। কর্পোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা বা সিএসআর প্রকল্পের আওতায় এই পুকুরগুলো খনন করা হয়েছে।
বন দপ্তরের আধিকারিকদের মতে, শুষ্ক মরশুমে এই জলাধারগুলি বন্যপ্রাণীদের জন্য বড় সহায় হবে। নদীতে জল কমে গেলেও এই পুকুরগুলিতে জমে থাকা জল থেকে হরিণ, গন্ডার ও বাইসন সহ অন্য প্রাণীরা সহজেই পানীয় জলের সন্ধান পাবে। এর ফলে জলের খোঁজে বন্যপ্রাণীদের লোকালয়ের দিকে বা জঙ্গলের বাইরে বেরিয়ে আসার সম্ভাবনাও অনেকাংশে কমবে বলে তাঁদের আশা। বন দপ্তরের এই দূরদর্শী পদক্ষেপে গরুমারার প্রাণীকুলের পানীয় জলের সংকট দূর হবে বলে পরিবেশকর্মীদেরও বিশ্বাস।
