উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: ইরান-আমেরিকা যুদ্ধের আবহে দেশের টালমাটাল অর্থনীতি (Indian Economic system) সামাল দিতে বড় পদক্ষেপ নিল মোদি সরকার। বুধবার সোনা ও রুপোর ওপর আমদানি শুল্ক (Gold-Silver Import Responsibility Hike) ৬ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে একলাফে ১৫ শতাংশ করা হয়েছে। এর মধ্যে ১০ শতাংশ বেসিক কাস্টমস ডিউটি এবং ৫ শতাংশ কৃষি পরিকাঠামো ও উন্নয়ন সেস (AIDC) অন্তর্ভুক্ত। প্রধানমন্ত্রীর নরেন্দ্র মোদির (PM Narendra Modi) ‘সাশ্রয়ী’ বার্তার ঠিক কয়েকদিনের মাথায় কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তে সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি চাপের আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর দেশবাসীকে অন্তত এক বছর সোনা কেনা এবং অপ্রয়োজনীয় বিদেশ ভ্রমণ এড়িয়ে চলার আবেদন জানিয়েছিলেন। মূলত বিদেশি মুদ্রার ভাণ্ডার রক্ষা এবং রুপোর রেকর্ড পতন (ডলার প্রতি ৯৫.৭৫ টাকা) আটকাতেই এই কড়া পদক্ষেপ (Commerce Deficit)। কেন্দ্র আশা করছে, শুল্ক বাড়লে মূল্যবান ধাতুর আমদানি কমবে, যা বাণিজ্য ঘাটতি নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করবে।
বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম স্বর্ণ আমদানিকারক দেশ ভারত। ওয়ার্ল্ড গোল কাউন্সিলের তথ্য অনুযায়ী, গত মার্চ ত্রৈমাসিকেও এ দেশে গোল্ড ইটিএফ-এ (ETF) রেকর্ড বিনিয়োগ হয়েছে। কিন্তু বর্তমান এই শুল্ক বৃদ্ধির ফলে বিয়ের মরশুমে গয়নার বাজারে বড়সড়ো ধাক্কা লাগতে পারে। ইন্ডিয়া বুলিয়ন অ্যান্ড জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক সুরেন্দ্র মেহতার মতে, ‘শুল্ক বৃদ্ধিতে চলতি খতিয়ানে ঘাটতি কমলেও বাজারে চাহিদায় ব্যাপক মন্দা দেখা দিতে পারে।’
শিল্প মহলের একাংশ সতর্ক করে দিয়ে জানিয়েছে, করের বোঝা বাড়লে দেশে সোনা পাচারের মতো অবৈধ কারবার আবারও সক্রিয় হয়ে উঠতে পারে। শুল্ক বেশি হওয়ায় চোরাপথে সোনা এনে বাজারে ছাড়লে মুনাফা অনেক বেশি হয়, যা আইনশৃঙ্খলার জন্য উদ্বেগের।
প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীকে জানিয়েছেন, তেলের দাম বৃদ্ধি এবং বিশ্ব পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে এখন থেকেই সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। খরচ কমিয়ে জনপরিবহন ব্যবহার এবং আমদানিকৃত পণ্যের ওপর নির্ভরশীলতা কমানোর ডাক দিয়েছেন তিনি। তবে আমজনতার কাছে এখন বড় প্রশ্ন—সোনার দাম কতটা বাড়বে?
