জয়ন্ত সরকার, গঙ্গারামপুর: অভাব আর প্রতিকূলতাকে জয় করে স্বপ্নের উড়ান। এবার রাজ্য স্তরে গঙ্গারামপুরের (Gangarampur) নাম উজ্জ্বল করল আলয় শিশু আবাসের ছয় খুদে শিল্পী। জনশিক্ষা প্রসার ও গ্রন্থাগার পরিষেবা দপ্তরের উদ্যোগে আয়োজিত রাজ্য ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় লোকনৃত্যে প্রথম স্থান ছিনিয়ে নিল তারা। শুক্রবার সকালে বিজয়ীরা ট্রফি নিয়ে এলাকায় ফিরতেই আবেগঘন পরিবেশ তৈরি হয় গঙ্গারামপুর স্টেশনে।
গত ২৮ জানুয়ারি উত্তর ২৪ পরগনার বাণীপুরে রাজ্য স্তরের এই প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। রাজ্যের ৪৮টি শিশু আবাসের সঙ্গে লড়াই করে লোকনৃত্যে সেরার শিরোপা জেতে গঙ্গারামপুরের কালদিঘি এলাকার আলয় শিশু আবাস। জয়ী দলে ছিল সূর্য সোরেন, দেব হেমব্রম, উদল সোরেন, সৌমজিৎ মুর্মু, কার্তিক টুডু এবং রোহিত মার্ডি। এরা প্রত্যেকেই অষ্টম থেকে একাদশ শ্রেণির ছাত্র।
চ্যাম্পিয়ন হয়ে শুক্রবার সকালে রেলপথে গঙ্গারামপুর স্টেশনে পৌঁছায় ছয় খুদে শিল্পী। সেখানে তাদের ফুলের মালা পরিয়ে এবং মিষ্টিমুখ করিয়ে বরণ করে নেয় আবাস কর্তৃপক্ষ। সাফল্যের কারিগর নাচের শিক্ষিকা ঋত্বিকা রায় আবেগপ্রবণ হয়ে বলেন, ‘আমার ভীষণ ভালো লাগছে। ওরা যে এত ভালো করেছে, সেটা অনেক পরিশ্রমের ফল। ওদের সাফল্যের পেছনে আমার তেমন কিছু নেই, ওদের চেষ্টাটাই আসল। যখন সময় পেতাম তখনই এক–দু’ঘণ্টা করে ওদের প্র্যাকটিস করাতাম।’
আলয় শিশু আবাসের আহ্বায়ক জিতেন্দ্রকিশোর চক্রবর্তীও গর্বিত ও আনন্দিত। বললেন, ‘আলয়ের ছেলেরা রাজ্য স্তরের এমন সাফল্য পেয়েছে, তা আমাদের পরিশ্রমকে সার্থক করেছে। আমরা ওদের প্রতি সবসময় নজর রাখি। নাচ শেখানোর জন্য একজন শিক্ষিকাকে রেখেছি। তাঁর প্রচেষ্টা, আমাদের প্রচেষ্টা সব মিলিয়েই এই সাফল্য এসেছে। শুধু নাচ নয়, আলয়ের শিশুদের জীবনের সমস্ত দিক আমরা গুরুত্ব দিয়ে দেখি।’
এদিকে, খুশিতে আত্মহারা খুদে শিল্পীরা। সূর্য, দেবরা জানাল, রাজ্য স্তরে প্রথম হতে পেরে তাদের ভীষণ ভালো লাগছে। আলয় শিশু আবাসের কর্তৃপক্ষ এবং নাচের শিক্ষিকা সব সময় তাদের উৎসাহ দিয়েছেন বলেই তারা আজ এই জায়গায় পৌঁছাতে পেরেছে।
