উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্কঃ পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ (Shehbaz Sharif) এক বিরল ও চাঞ্চল্যকর স্বীকারোক্তিতে জানিয়েছেন যে, বৈদেশিক ঋণের জন্য আবেদন করতে গিয়ে তিনি এবং পাক সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির চরম অস্বস্তি ও অপমানের সম্মুখীন হয়েছেন। গত শুক্রবার রাতে ইসলামাবাদের শীর্ষ ব্যবসায়ীদের এক অনুষ্ঠানে ভাষণ দেওয়ার সময় তিনি বলেন, বন্ধু দেশগুলোর কাছে হাত পাতার সময় লজ্জায় তাঁদের মাথা নত হয়ে আসছিল।
‘ঋণদাতার সামনে মাথা নিচু করতে হয়’
দেশের ভঙ্গুর অর্থনীতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে শাহবাজ শরিফ বলেন, “আমি এবং ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির যখন সারা বিশ্বে অর্থের জন্য ঘুরে বেড়াই, তখন আমরা লজ্জিত বোধ করি। ঋণ নেওয়া আমাদের আত্মমর্যাদার ওপর এক বিশাল বোঝা। আমাদের মাথা লজ্জায় নত হয়ে যায়। ঋণদাতাদের অনেক অনুচিত দাবিও আমাদের মেনে নিতে হয়, কারণ আমাদের ‘না’ বলার কোনও জায়গা থাকে না।”
বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডার ও বর্তমান পরিস্থিতি
শাহবাজ জানান, পাকিস্তানের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এখন আগের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ হয়ে ২০ বিলিয়ন ডলারের রেকর্ড স্পর্শ করার পথে। তবে তিনি স্পষ্ট করে দেন যে, এই অর্থের বড় অংশই বন্ধু দেশগুলোর কাছ থেকে নেওয়া ঋণ। পাকিস্তান সম্প্রতি আইএমএফ (IMF) থেকে আরও ১.২ বিলিয়ন ডলারের কিস্তি পেয়েছে, যা সাময়িকভাবে দেউলিয়া হওয়ার হাত থেকে দেশটিকে রক্ষা করেছে।
কঠোর অর্থনৈতিক নীতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
শরিফ তাঁর ভাষণে ব্যবসায়ীদের উৎসাহিত করে বলেন, এখন সময় এসেছে আত্মনির্ভরশীল হওয়ার। আইএমএফ-এর শর্ত মেনে পাকিস্তানে বর্তমানে অত্যন্ত কঠোর মুদ্রানীতি চলছে। স্টেট ব্যাংক অফ পাকিস্তান সুদের হার ১০.৫ শতাংশে স্থির রেখেছে। প্রধানমন্ত্রীর দাবি, অর্থমন্ত্রী মুহাম্মদ আওরঙ্গজেবের নেতৃত্বে তাঁর দল আইএমএফ-এর কাছে একটি শক্তিশালী পরিকল্পনা পেশ করেছে, যার লক্ষ্য দারিদ্র্য বিমোচন ও কর্মসংস্থান তৈরি করা।
