হরষিত সিংহ, মালদা: জানুয়ারির শেষে মালদার বাগানে আমের মুকুল (Malda)। মরশুমের কিছুটা হলেও আগে মুকুলের আগমনে খুশি চাষিরা। ইতিমধ্যে কয়েকটি প্রজাতির গাছে আমের মুকুল ফুটে গাছ ভরে গিয়েছে। আবার কিছু প্রজাতির আমের মুকুল কুঁড়ি অবস্থায় রয়েছে। মুকুল আসতেই কৃষকরা শুরু করে দিয়েছেন গাছের পরিচর্যা। ভালো ফলন পেতে এখন থেকেই সঠিক পরিচর্যার দরকার, বলছেন জেলা উদ্যানপালন দপ্তরের কর্তারা।
জাঁকিয়ে শীতের দাপট আর নেই। ক্যালেন্ডারে জানুয়ারি মাস থাকলেও আবহাওয়ার পরিবর্তন হয়েছে অনেক। সাধারণত মালদা জেলায় আমের মুকুল আসার সঠিক সময় ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম বা দ্বিতীয় সপ্তাহ। কিন্তু গতবছর থেকে জানুয়ারির শেষ সপ্তাহেই মুকুল আসতে শুরু করেছে। এখন জেলার তাপমাত্রা ১৫-২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশপাশে ঘোরাফেরা করছে। এমন আবহাওয়া আমের মুকুল আসার পক্ষে অনুকূল।
মালদা জেলা উদ্যানপালন দপ্তরের আধিকারিক সামন্ত লায়েক বলেন, ‘রোদ ঝলমলে আবহাওয়া এবং ধীরে ধীরে ঠান্ডার মাত্রা কমে যাওয়ায় আমের মুকুল আসতে শুরু করেছে। জানুয়ারির শেষ সপ্তাহ থেকে এমন আবহাওয়াই দেখা যাচ্ছে। তাই বাগানে মুকুল ফুটতে শুরু করেছে।’
গতবছর মালদা জেলায় আমের ফলন স্বাভাবিক ছিল। বর্তমানে আধুনিক কৃষি পদ্ধতি এবং উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহারের জন্য প্রায় প্রতিবছর ভালো ফলন হচ্ছে। গতবছর মালদা জেলায় ৩১ হাজার ৮১২ হেক্টর জমিতে আম চাষ হয়েছিল। এবছর প্রায় একই পরিমাণ জমিতে চাষ হচ্ছে।
মালদা জেলায় বিভিন্ন প্রজাতির আম চাষ হয়ে থাকে। সেগুলির মধ্যে কিছু আগেই পেকে যায়। আবার কিছু আম আছে, যেগুলো মরশুমের শেষে পাকতে শুরু করে। অগ্রিম প্রজাতির আম যেমন, রাখালভোগ, লক্ষ্মণভোগ, গোপালভোগ সহ কিছু গুটি প্রজাতি রয়েছে। লেট ভ্যারাইটির মধ্যে ল্যাংড়া, হিমসাগর, আশিনা সহ অন্যান্য প্রজাতির আমের মুকুল এখনও সম্পূর্ণ না ফুটলেও কুঁড়ি এসে গিয়েছে আমের শাখায়। দু’এক সপ্তাহের মধ্যে এই গাছগুলিও মুকুলে ভরে যাবে। আমচাষি বিফল মণ্ডল বললেন, ‘মুকুল ফোটার আগে থেকেই আমরা গাছের পরিচর্যা শুরু করি। এখন প্রায় সমস্ত গাছেই মুকুল এসে গিয়েছে। মুকুল দেখে যেটুকু বুঝতে পারছি, এ বছর ফলন ভালো হবে।’
উদ্যানপালন দপ্তরের তরফে কৃষকদের এই সময় আম বাগান পরিচর্যা করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। কারণ আগামীতে ফের জাঁকিয়ে শীত পড়লে মুকুলের কুঁড়ি নষ্ট হয়ে যেতে পারে। এতে ফলন কমার সম্ভাবনা থাকবে। তাই কৃষকদের এখন থেকে আম বাগানে স্প্রে করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। ছত্রাকনাশক স্প্রে করলে আমের মুকুল নষ্ট হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও অনেক কমে যাবে। মালদা ম্যাঙ্গো মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি উজ্জ্বল সাহা বলেন, ‘উদ্যানপালন দপ্তর থেকে এখন থেকেই কৃষকদের সঠিক দিশা দেখানো হচ্ছে। সঠিক পরিচর্যা করতে পারলে আমের ফলন ভালো হবে।’
