রায়গঞ্জ: আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর গণেশ চতুর্থী (Ganesh Chaturthi Preparation)। মহারাষ্ট্র (Maharashtra) সহ অন্য রাজ্যে গণেশপুজো নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে মাতামাতি থাকলেও বাংলায় সেই অর্থে গণেশপুজোর চল খুব একটা ছিল না। কিন্তু বিগত বেশ কয়েক বছর ধরে অন্য রাজ্যের পাশাপাশি বাংলাতেও গণেশপুজো নিয়ে উন্মাদনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। যার ছোঁয়া এসে লেগেছে রায়গঞ্জ (Raiganj) শহরও। শহরে কিছু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান, কিছু সম্প্রদায় বহুদিন ধরে গণেশপুজোর সঙ্গে জড়িত থাকলেও শেষ কয়েক বছরে সাধারণ বাসিন্দাদের অনেকেও ধুমধাম করে গণেশ বন্দনায় মেতে উঠছেন।
শহরের অনেক বাড়িতেই গণেশপুজো উপলক্ষ্যে ব্যাপক উন্মাদনা রয়েছে। ইতিমধ্যে কাঞ্চনপল্লিতে বিভিন্ন মৃৎশিল্পীর স্টুডিওতে গণেশ ঠাকুর বানানো শুরু হয়ে গিয়েছে। ছোট, মাঝারি থেকে বড় সব ধরনের গণেশ মূর্তিই সেখানে বানাচ্ছেন শিল্পীরা। মৃৎশিল্পী ভানু পালের কথায়, ‘গণেশপুজোর জন্য মূর্তি দীর্ঘদিন ধরেই বানানো হলেও বিগত কয়েক বছর ধরে গণেশমূর্তির চাহিদা অনেকটাই বেড়েছে। ক্রেতারা যেভাবে অর্ডার দেন সেভাবেই বানিয়ে দেওয়া হয়।’ আরেক মৃৎশিল্পী নারায়ণ পাল বলেন, ‘বিগত সাত, আট বছর ধরে গণেশপুজোর প্রতি মানুষ আগ্রহী হয়েছেন। বিভিন্ন আকারের মূর্তি বিভিন্ন দামে বিক্রি হয়। ক্রেতাদের নমুনা আকার দেখানো হয়, যেমন পছন্দ হয় সেই হিসেবেই বানিয়ে দেওয়া হয়।’
শহরের বাসিন্দারা যে গণেশের প্রতি আকৃষ্ট হয়েছেন তার প্রমাণও মিলেছে তাঁদের সঙ্গে কথা বলে। বীরনগর নিবাসী বরিশ সরকার বলেন, ‘আমাদের বাড়িতে প্রায় কুড়ি বছরের বেশি সময় ধরে গণেশপুজো হয়ে আসছে। যেহেতু গণেশ ঠাকুরকে সিদ্ধিদাতা বলে মানা হয় সেজন্য ভক্তিভরে বড় করে প্রতি বছর গণেশপুজো করা হয়।’ আবার দুর্গাপুজোর আগে অনেক পুজো কমিটি গণেশপুজোকে ভীষণ শুভ বলে মনে করেন। বিধাননগরের বাসিন্দা বিরাজ ঘোষের কথায়, ‘আমাদের পাড়ায় দুর্গাপুজোর আগে প্রতি বছর গণেশপুজো করা হয়। ফলে দুর্গাপুজো নির্বিঘ্নে কাটে।’ অন্যদিকে, পেশাদারিত্বের ক্ষেত্রেও ঠিক তাই। আইনজীবী ব্রতপা সরকার গত কয়েক বছর ধরে গণেশপুজো করছেন। সিদ্ধিদাতা হিসেবে গণেশ ঠাকুর যাতে সবসময় বিরাজমান থাকেন সেজন্য পুজো করা হয়।
তবে গণেশপুজো অনুষ্ঠিত হবে আর মোদকের চাহিদা থাকবে না তাও কি হয় নাকি! ইতিমধ্যে শহরের বিভিন্ন মিষ্টির দোকানে মোদকের অর্ডার দিয়ে ফেলেছেন পুজো উদ্যোক্তারা। সেইসঙ্গে অর্ডার দিয়েছেন লাড্ডুরও। কলেজপাড়ার মিষ্টি বিক্রেতা মন্টু ঘোষের কথায়, ‘গণেশপুজোর দেড় মাস বাকি থাকলেও ইতিমধ্যে বেশ কয়েকজন মোদক ও লাড্ডুর অর্ডার দিয়ে গিয়েছেন। আরও অনেকে রয়েছেন যারা পুজোর সাত-দশদিন আগে অর্ডার দেবেন বলে জানিয়ে গিয়েছেন।’

