উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: ফ্রান্সের (France) অভ্যন্তরীণ অস্থিরতার আবহে এক নারকীয় ঘটনার সাক্ষী থাকল দেশটির রাজধানী প্যারিসের পার্শ্ববর্তী অঞ্চল। শুক্রবার সকালে প্যারিস সংলগ্ন ত্রাপ শহরের জনবহুল রাস্তায় চলন্ত গাড়ির জানলা দিয়ে আচমকা নিরীহ পথচারীদের নিশানা করে এক আততায়ী এলাপাথাড়ি গুলি বর্ষণ করতে শুরু করে (Taking pictures)। অতর্কিত এই প্রাণঘাতী হামলায় গুলির বিকট শব্দে সমগ্র এলাকা জুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পথচলতি মানুষ দিকবিদিক জ্ঞানশূন্য হয়ে ছোটাছুটি শুরু করেন। আর ধোঁয়াশার সুযোগে আততায়ী তার গাড়ি নিয়ে দ্রুত সেখান চম্পট দেয়।
ঘটনার আকস্মিকতায় রক্তাক্ত অবস্থায় রাস্তায় ঢলে পড়েন একাধিক নাগরিক। স্থানীয় সূত্রে খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ (Police) বাহিনী ও উদ্ধারকারী দল। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তড়িঘড়ি আহতদের উদ্ধার করে নিকটবর্তী চিকিৎসাকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানকার চিকিৎসকেরা একজনকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। বর্তমানে বাকি চারজন চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এই ভয়াবহ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ত্রাপের মেয়র আলি রাবেহ গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছেন যে, গাড়ি চালিয়ে যাওয়ার পথে পথচারীদের উপর নির্বিচারে পিস্তল থেকে গুলি চালায় এক ব্যক্তি। মেয়রের বক্তব্য অনুযায়ী, পথচলতি মানুষকে লক্ষ্য করেই এই নির্বিচার হামলা চালানো হয়েছে।
রক্তাক্ত এই তাণ্ডবের পর তদন্তে নেমে পার্শ্ববর্তী কোয়েনিয়ের এলাকা থেকে অভিযুক্ত তরুণকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ প্রশাসন। তবে তদন্তের স্বার্থে ধৃতের নাম বা বিস্তারিত পরিচয় গোপন রাখা হয়েছে। উল্লেখ্য, চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাস থেকেই প্রশাসনিক ও নীতিগত সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ফ্রান্সের একাধিক প্রান্তে ব্যাপক ছাত্র ও তরুণদের বিক্ষোভ দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়েছে। বিভিন্ন জায়গায় ভাঙচুর, সরকারি দপ্তর ও নথিপত্রে অগ্নিসংযোগ এবং অবাধ লুটের ঘটনা সামনে আসায় চরম বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছে। সংবেদনশীল অঞ্চলগুলিতে নৈশকালীন কার্ফু জারি করেও স্থিতি ফেরানো সম্ভব হয়নি। এর মধ্যে পুনরায় হিংসা ছড়ানোর প্রবল শঙ্কায় রাস্তায় হাজার হাজার সশস্ত্র পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
অতীতে ২০১৫ সালে প্যারিসের প্রাণকেন্দ্রে ভয়াবহ জঙ্গি হামলায় ১৩০ জনের মর্মান্তিক প্রাণহানির ইতিহাস রয়েছে এই ইউরোপীয় দেশে। জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলির নজরে একাধিক নাশকতার ছক বানচাল করা সম্ভব হলেও সাম্প্রতিক এই ঘটনার পিছনে কোনো উগ্রপন্থী বা সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর মদত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে তদন্তকারী আধিকারিকেরা।

