FIFA World Cup Remaining 2026 | ফুটবলের নেশায় মজে আমেরিকা, টাইমস্ স্কোয়ারে নীল-সাদা ঝড়, ফাইনালে নিউ ইয়র্কে রেকর্ড উন্মাদনা

FIFA World Cup Remaining 2026 | ফুটবলের নেশায় মজে আমেরিকা, টাইমস্ স্কোয়ারে নীল-সাদা ঝড়, ফাইনালে নিউ ইয়র্কে রেকর্ড উন্মাদনা

ব্যবসা-বাণিজ্যের /BUSINESS
Spread the love


সুস্মিতা গঙ্গোপাধ্যায়, নিউ ইয়র্ক: গত এক মাস ধরে আমেরিকার এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্ত ছুটে বেড়াচ্ছি। কিন্তু শনিবার রাত থেকে নিউ ইয়র্কের যে রূপ দেখছি, তা নিশ্চিতভাবে এখানকার স্থানীয় মানুষরাও আগে কখনও দেখেননি। আমেরিকার উইকএন্ড মানেই সম্পূর্ণ অন্যরকম একটা ছবি। কেউ বাড়িতে বারবিকিউ পার্টির আয়োজন করেন, কেউ বন্ধুবান্ধব নিয়ে সমুদ্রসৈকতে বেরিয়ে পড়েন, অথবা লং ড্রাইভে বাফেলো, লাস ভেগাস বা নায়াগ্রার দিকে পাড়ি দেন। কিন্তু এবারের সপ্তাহান্তের ছবিটা একেবারে আলাদা। শনিবার বিকেল গড়াতেই যেন গোটা নিউ ইয়র্ক শহরটা একটা আস্ত ফুটবল পার্টিতে বদলে গেল। প্রাণকেন্দ্র টাইমস স্কোয়ার এখন পুরোপুরি আর্জেন্টিনার সমর্থকদের দখলে (FIFA World Cup Remaining 2026)।

এমনিতে ছুটির দিনে স্ট্যাচু অফ লিবার্টি বা ম্যানহাটনে পর্যটকদের ভিড় থাকে ঠিকই, কিন্তু এমন বাঁধভাঙা পাগলামি আমেরিকা আগে দেখেনি। গগনচুম্বী বহুতল আর নিয়ন আলোর নীচে এখন শুধুই নীল-সাদা জার্সির ঢেউ। ২০১৮ সালে রাশিয়ার রেড স্কোয়ার কিংবা ২০২২ সালে কাতারের সুক ওয়াকিফ বা লুসাইল বুলেভার্ডে ঠিক যে উন্মাদনা দেখেছি, এবার টাইমস স্কোয়ার যেন সেইসব স্মৃতিকে একসঙ্গে ফিরিয়ে আনল। তফাত একটাই, মস্কোয় আর্জেন্টাইনদের ভিড় টুর্নামেন্টের মাঝপথেই উধাও হয়ে গিয়েছিল, আর এখানে তারা শেষ দিন পর্যন্ত দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। স্প্যানিশ সমর্থকরাও এসেছেন, কিন্তু প্রতিপক্ষের এই দাপুটে বিচরণ আর গগনভেদী স্লোগান শুনে সম্ভবত তাঁরা নিজেদের একটু আড়ালেই রেখেছেন। আর্জেন্টিনার প্রতিটি মানুষ যেভাবে অহংকার নিয়ে সর্বক্ষণ নিজেদের দেশের জার্সি গায়ে চাপিয়ে ঘুরছেন, তা সত্যিই অভাবনীয়। এই লাতিন উৎসবের সঙ্গে মিলেমিশে গিয়েছেন প্রচুর এশীয় নাগরিকও। চিনাদের পাশাপাশি ভারতীয়দের সংখ্যাও চোখে পড়ার মতো। ভিড়ের মধ্যেই একঝলক দেখা হয়ে গেল মোহনবাগান ক্লাবের কর্মসমিতির সদস্য অনুপম সাহুর সঙ্গে। তাঁর প্রবল উচ্ছ্বাস আর উন্মাদনা দেখে কে বলবে তিনি হাজার হাজার মাইল দূরের এক ভারতীয় ফুটবলপ্রেমী!

খেলা দেখার এই উন্মাদনা শুধু রাস্তায় নয়, সমানতালে ছড়িয়ে পড়েছে অন্দরমহলেও। পশ্চিমবঙ্গে রাজ্য সরকার যেমন জেলায় জেলায় বড় পর্দায় খেলা দেখার ব্যবস্থা করেছে, ঠিক সেই কায়দাতেই এখানকার প্রবাসী বাঙালি বা বাংলাদেশিদের বিভিন্ন কমিউনিটি হলগুলোতে আজ ওয়াচ পার্টির আয়োজন করা হয়েছে। কবজি ডুবিয়ে খাওয়াদাওয়া আর একসঙ্গে বসে ফুটবল- সব মিলিয়ে এক এলাহি ব্যাপার। অন্যান্য দেশের প্রবাসীদের ক্ষেত্রেও ঠিক একই ছবি চোখে পড়ছে।

আজ রবিবার সাতসকাল থেকেই নিউ ইয়র্কের রাস্তায় প্রবল যানজট। ম্যানহাটন থেকে নিউ জার্সির ট্রানজিট ট্রেনের ভাড়া একলাফে ৯৮ ডলারে পৌঁছে যাওয়ায় বেশিরভাগ মানুষই গাড়ির ওপর নির্ভরশীল, ফলে ট্রাফিক পরিস্থিতি কার্যত হাতের বাইরে। আমাদের মিডিয়া বাসও যানজট এড়িয়ে কয়েকবার এদিক-ওদিক চক্কর কেটে লিঙ্কন টানেল ধরার একটু ফাঁকা রাস্তা খুঁজে পেল।

তবে স্টেডিয়ামে পৌঁছানোর পর ভোগান্তির আসল শুরু। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মাঠে উপস্থিত থাকবেন এবং তিনিই চ্যাম্পিয়নদের হাতে ট্রফি তুলে দেবেন। মেরিন ওয়ান হেলিকপ্টারে তাঁর আগমন উপলক্ষ্যে এই ফাইনালকে ‘ন্যাশনাল স্পেশাল সিকিউরিটি ইভেন্ট’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। আকাশে টহল দিচ্ছে পুলিশের চপার, আর নীচে ৮২,৫০০ দর্শকের প্রত্যেককে বিমানবন্দর স্টাইলের কড়া তল্লাশি ও ব্যাগ পরীক্ষার মধ্যে দিয়ে মাঠে ঢুকতে হচ্ছে। খোদ ইউএস সিক্রেট সার্ভিস এই তল্লাশির দায়িত্বে।

সকাল আটটা থেকে মিডিয়া এবং কর্মীদের লাইনেও হাজার দশেক মানুষের ভিড়! অথচ ঢোকার গেট একটাই, আর অ্যাক্রেডিটেশন স্ক্যান করার কর্মী মাত্র দুইজন! এই নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার জাঁতাকলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখলাম জার্মানির হবু কোচ জুরগেন ক্লপকেও। সিক্রেট সার্ভিসের এক কর্তা তো হেসেই জানালেন, কিক অফের আগে এত দর্শক মাঠে ঢুকতে পারবেন কি না, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। ৩৪,৫০০ ডলারে ব্ল্যাকে টিকিট কেটেও এই চরম ভোগান্তি, তবু দর্শকদের উন্মাদনায় এতটুকু ভাটা নেই। বরং উপচে পড়া গ্যালারি আর এই অভাবনীয় আবেগ দেখেই হোয়াইট হাউস আগামীদিনে আমেরিকার মাটিতে আরও বেশি করে আন্তর্জাতিক ফুটবলের আসর বসাতে আগ্রহী হয়ে উঠেছে।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *