উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: সংসদের বাদল অধিবেশন এবং তার মাঝেই ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP’s ‘Chalo Sansad’ march)-র প্রস্তাবিত ‘চলো সংসদ’ মার্চকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হতে পারে দেশের রাজধানী। তাই সোমবারের এই কর্মসূচিকে ঘিরে দিল্লিতে কড়া নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে দেওয়া হয়েছে। কোনোরকম অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে দিল্লি পুলিশ ইতিমধ্যেই ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা (BNSS)-র ১৬৩ ধারার অধীনে (যা আগে CrPC-র ১৪৪ ধারা ছিল) নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।
নিট (NEET) পরীক্ষায় চরম অনিয়মের অভিযোগ তুলে এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবিতে এই সংসদ অভিযানের ডাক দিয়েছিল সিজেপি। তবে রবিবারও দিল্লি পুলিশের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়, এই কর্মসূচির কোনো অনুমতি নেওয়া হয়নি। নয়াদিল্লির ডেপুটি কমিশনার অফ পুলিশ (DCP) শচীন শর্মা এক্স (টুইটার) হ্যান্ডেলে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানান, যত্রতত্র বিক্ষোভ বা ৫ বা তার বেশি মানুষের জমায়েত সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। একমাত্র যন্তর মন্তরে পূর্ব অনুমতি সাপেক্ষে বিক্ষোভ করা যাবে। এই নির্দেশ অমান্য করলে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-র ২২৩ ধারা অনুযায়ী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুলিশ সূত্রের খবর, সংসদ অধিবেশন চলাকালীন এই নিরাপত্তা ব্যবস্থা বজায় থাকবে। দিল্লির গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথগুলিতে বসানো হয়েছে মাল্টি-লেয়ার ব্যারিকেড। প্রতিটি গাড়ি তল্লাশি করে তবেই দিল্লিতে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে। নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে যন্তর মন্তরে। সেখানে ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে দিল্লি পুলিশের দুটি স্তর এবং আধাসামরিক বাহিনীর (Paramilitary) একটি স্তর। এছাড়া কনট প্লেস, পার্লামেন্ট স্ট্রিট এবং শঙ্কর চকের মতো স্পর্শকাতর এলাকায় র্যাপিড রেসপন্স টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
এই উত্তেজনার পারদ আরও চড়েছে সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুকের একটি বার্তায়। অনশনরত অবস্থায় শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় শনিবার তাঁকে সফদরজং হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতাল থেকেই তিনি সমর্থকদের ২০ জুলাইয়ের ‘চলো সংসদ’ মার্চে যোগ দেওয়ার আবেদন জানান। অন্যদিকে, যন্তর মন্তরে সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে তাঁর অনির্দিষ্টকালের অনশন জারি রেখেছেন। সব মিলিয়ে, একদিকে সিজেপি-র সংসদ পৌঁছানোর জেদ, আর অন্যদিকে পুলিশের দুর্ভেদ্য প্রাচীর—আজ দিল্লির বুকে কী ঘটতে চলেছে, সেদিকেই নজর গোটা দেশের।

