FIFA Election 2027 | ডোনাল্ড ট্রাম্পের নো-রিপ্লাই, সমর্থক হারিয়ে একাকী ইনফান্তিনো! ক্ষমতার লড়াইয়ে একাধিক হেভিওয়েট মুখ

FIFA Election 2027 | ডোনাল্ড ট্রাম্পের নো-রিপ্লাই, সমর্থক হারিয়ে একাকী ইনফান্তিনো! ক্ষমতার লড়াইয়ে একাধিক হেভিওয়েট মুখ

ব্লগ/BLOG
Spread the love


উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: ফিফার (FIFA) সভাপতি পদে জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর (Gianni Infantino) পুনর্নির্বাচনকে একটা সময়ে শুধুই সময়ের অপেক্ষা বলে মনে করা হচ্ছিল। ২০০-র বেশি সদস্য দেশের সমর্থন, কোনও শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বীর অনুপস্থিতি এবং ২০২৭-৩১ মেয়াদে আরও একবার ক্ষমতায় ফেরার সম্ভাবনা। সব কিছুই ছিল তাঁর পক্ষে। কিন্তু কয়েক মাসের ব্যবধানে ছবিটা সম্পূর্ণ বদলে গিয়েছে। ফিফার বহু-বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্যিক পরিকল্পনা ভেস্তে যাওয়ার পর বিশ্ব ফুটবলের অন্দরে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। ইনফান্তিনোর নেতৃত্ব, সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতি এবং ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ নিয়ে উঠছে একের পর এক প্রশ্ন। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছে গিয়েছে যে, দীর্ঘদিনের সমর্থক থেকে শুরু করে শক্তিশালী কনফেডারেশনগুলিও তাঁর পাশ থেকে সরে দাঁড়াচ্ছে। ফলে যে পুনর্নির্বাচন একসময় নিশ্চিত বলে মনে হচ্ছিল, সেটাই এখন বড়সড় অনিশ্চয়তার মুখে।

বিতর্কের মূলে রয়েছে ফিফার একটি নতুন বাণিজ্যিক সংস্থা গঠনের পরিকল্পনা, যার আনুমানিক মূল্য ধরা হয়েছিল প্রায় ২০০০ কোটি (২০ বিলিয়ন) মার্কিন ডলার। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ফিফা বিশ্বকাপের মতো মেগা টুর্নামেন্টের ২০ শতাংশ অংশীদারিত্ব (শেয়ার) বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রি করে প্রায় ৪২০ কোটি (৪.২ বিলিয়ন) মার্কিন ডলার তোলার ছক কষা হয়েছিল।

কিন্তু ইউরোপীয় ফুটবল সংস্থা (UEFA), উত্তর ও মধ্য আমেরিকা এবং ক্যারিবিয়ান অঞ্চলের সংস্থা (Concacaf) এবং এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের (AFC) তীব্র বিরোধিতার মুখে পড়ে এই পরিকল্পনা। তাদের মূল অভিযোগ, সদস্য দেশগুলির সঙ্গে কোনও প্রাথমিক আলোচনা না করে এবং ফিফার নিয়মিত প্রশাসনিক কাঠামোকে পাশ কাটিয়ে অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে এই সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল।

এএফসি সভাপতি শেখ সালমান বিন ইব্রাহিম আল খলিফা স্পষ্ট জানান, এই ঘটনা ফিফার আলোচনা ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রক্রিয়ার মারাত্মক গলদকে প্রকাশ্যে এনেছে। তীব্র চাপের মুখে শেষ পর্যন্ত গত শুক্রবার প্রস্তাবটি সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করে নিতে বাধ্য হন ইনফান্তিনো।

পরিকল্পনা বাতিল হলেও বিতর্কের আগুন নেভেনি। প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই ভরাডুবির পর তীব্র কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন ফিফা প্রধান। রাজনৈতিক প্রলেপ খুঁজতে তিনি বেশ কয়েকবার ফোন করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে (Donald Trump)। কিন্তু ওপার থেকে কোনো সাড়াশব্দ মেলেনি। এককালের ঘনিষ্ঠ বন্ধুর এই নীরবতায় ইনফান্তিনো এখন নিজেকে প্রশাসনিকভাবে অত্যন্ত ‘একাকী’ বোধ করছেন বলে জানা গেছে। ইতিমধ্যে ইংল্যান্ড, ওয়েলস, সার্বিয়া ও সুইডেনের মতো দেশগুলি তাঁর ওপর থেকে আস্থা হারিয়ে সমর্থন প্রত্যাহার করে নিয়েছে।

ইনফান্তিনোর গদি টলমল হতেই বিশ্ব ফুটবলের শীর্ষ প্রশাসনিক পদে একাধিক হেভিওয়েট নাম নিয়ে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। যেমন, ভিক্টর মন্টাগ্লিয়ানি। কনকাকাফ (Concacaf) সভাপতি ও কানাডার এই প্রশাসক ইনফান্তিনোর সবচেয়ে সম্ভাব্য ও শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী হতে পারেন। ফিফার সহ-সভাপতি হিসেবে ২০২৬ বিশ্বকাপ আয়োজনে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তবে দীর্ঘদিন ফিফা ব্যবস্থার অংশ থাকায় পরিবর্তনের বার্তা তিনি কীভাবে দেন, তা দেখার। আলেকাজন্ডার সেফেরিন। উয়েফা (UEFA) সভাপতির সঙ্গে ফিফা প্রধানের সম্পর্ক বেশ টানাপোড়েনের। তিনি নিজে লড়বেন নাকি অন্য কোনও একক প্রার্থীকে সমর্থন করবেন, তা নির্ণায়ক ভূমিকা নেবে। কারণ শুধুমাত্র ইউরোপের ভোট দিয়ে ফিফা নির্বাচন জেতা অসম্ভব, আফ্রিকা, এশিয়া ও ওশেনিয়ার সমর্থন আবশ্যিক। পরের নামটি শেখ সালমান বিন ইব্রাহিম আল খলিফা। এএফসি (AFC) সভাপতি এবং ফিফা কাউন্সিলের এই প্রবীণ সদস্য ২০১৬ সালেও ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে লড়াই করেছিলেন। তাঁর ব্যাপক পরিচিতি ও রাজনৈতিক প্রভাব নির্বাচনে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। একই রকমভাবে নাসের আল-খেলাইফি, লিসে ক্লাভেনেস, প্যাট্রিস মোৎসেপে, এদের নামগুলিও ভাসছে।

ইনফান্তিনো এখনও ফিফার অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব। ফিফার ২১১টি সদস্য দেশের প্রত্যেকের ভোটের মূল্য সমান, যেখানে ছোট দেশগুলিও বড় নির্ণায়ক শক্তি। গত এক দশকে বিশ্বজুড়ে উন্নয়নমূলক প্রকল্পের মাধ্যমে তিনি বহু দেশের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন। তাই তাঁকে সরাতে হলে বিরোধীদের একটি একক প্রার্থী, স্পষ্ট রূপরেখা এবং বিশ্বজুড়ে শক্তিশালী জোট তৈরি করতে হবে।

আগামী ২০২৭ সালের ১৮ মার্চ মরক্কোর রাজধানী রাবাতে ফিফা সভাপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা, যার জন্য মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন ১৮ নভেম্বর। ফুটবলের মাঠে এখন বলের চেয়ে রাজনীতির গতিই বেশি। বিরোধী শিবির একজোট হয়ে নতুন ইতিহাস লিখবে নাকি ইনফান্তিনো প্রতিকূলতা কাটিয়ে ক্ষমতা ধরে রাখবেন, সেটাই এখন দেখার।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *