মাথাভাঙ্গা: নিজেকে কলকাতা হাইকোর্টের আইনজীবী পরিচয় দিয়ে আদালত চত্বরে ঘোরাফেরা এবং সাধারণ মানুষকে প্রতারণা করার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠল মাথাভাঙ্গায় (Faux Lawyer Mathabhanga Courtroom)। শুক্রবার সন্দেহজনক গতিবিধি নজরে আসতেই ওই ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশে্র হাতে তুলে দিলেন মাথাভাঙ্গা মহকুমা বার অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যরা। ধৃত ব্যক্তির নাম আবেদ আলি। তাঁর কাছ থেকে একাধিক সন্দেহজনক পরিচয়পত্র ও ভুয়ো ভিজিটিং কার্ড উদ্ধার হয়েছে।
বার অ্যাসোসিয়েশন সূত্রে জানা গিয়েছে, বেশ কিছু দিন ধরেই আদালত চত্বরে ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন আবেদ আলি। নিজেকে আইনজীবী বলে পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে কথাবার্তাও বলতেন তিনি। তাঁর চালচলনে সন্দেহ হওয়ায় শুক্রবার কয়েক জন আইনজীবী তাঁকে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন। কিন্তু কথাবার্তার মধ্যে একের পর এক অসঙ্গতি ধরা পড়ে। বিষয়টি জানাজানি হতেই বেগতিক দেখে দৌড়ে মাথাভাঙ্গা থানার ভেতরে ঢুকে আত্মগোপন করার চেষ্টা চালান আবেদ। তবে পিছু ধাওয়া করে আইনজীবীরা তাঁকে ধরে এনে বার লাইব্রেরিতে বসান। সেখানে বিস্তর জিজ্ঞাসাবাদের পর তাঁকে মাথাভাঙ্গা থানার পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
পুলিশি তল্লাশিতে ধৃতের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া ভিজিটিং কার্ড দেখে তাজ্জব বনে যান তদন্তকারীরা। কার্ডে স্পষ্ট লেখা রয়েছে ‘বিএসসি এলএলবি’ এবং পরিচয় দেওয়া হয়েছে ‘কলকাতা হাইকোর্টের আইনজীবী’ হিসেবে। এছাড়াও তাঁর কাছ থেকে আরও একাধিক পরিচয়পত্র বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। পরিচয়পত্রগুলি আসল নাকি জাল এবং কী উদ্দেশ্যে সেগুলি ব্যবহার করা হতো, তা নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে।
পুলিশের কাছে আটক হওয়ার পর অভিযুক্তের দাবি অবশ্য সম্পূর্ণ আলাদা। আবেদ জানান, তিনি মাত্র অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন এবং গত পাঁচ মাস ধরে আদালতে ল’ ক্লার্ক হিসেবে কাজ করছিলেন। ভিজিটিং কার্ডে হাইকোর্টের আইনজীবী লেখা থাকার বিষয়টি নেহাতই “ভুলবশত” হয়েছে বলে দাবি তাঁর।
অষ্টম শ্রেণি পাস এক ব্যক্তি কীভাবে হাইকোর্টের আইনজীবী পরিচয় দিয়ে এতদিন আদালত চত্বরে ঘোরাফেরা করছিলেন এবং তাঁর এই ভিজিটিং কার্ড ও নথির উৎস কী, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। ঘটনাকে কেন্দ্র করে আদালত চত্বরে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণ মানুষ যাতে কোনও ভুয়ো আইনজীবীর খপ্পরে পড়ে প্রতারিত না হন, সে বিষয়ে সবাইকে বাড়তি সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন মাথাভাঙ্গা বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি কৌশিক ভদ্র।

