শিলিগুড়ি: রাজনীতির চিরাচরিত গণ্ডি পেরিয়ে সাধারণ মানুষের সমস্যার সমাধানে নতুন পথে হাঁটলেন শিলিগুড়ির (Siliguri) বিজেপি বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ (Shankar Ghosh)। রবিবার বাঘাযতীন পার্কে আয়োজিত ‘সরাসরি শঙ্কর’ কর্মসূচিতে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষের ভিড় উপচে পড়ল। সরকারি দপ্তরে কাজ না হওয়া, জমি সংক্রান্ত জালিয়াতি থেকে শুরু করে নাগরিক পরিষেবার অভাব— বিধায়কের কাছে উঠে এল একরাশ ক্ষোভ ও অভিযোগ।
এই কর্মসূচিতে এসে নিজের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন নন্দিতা মজুমদার নামে এক অ্যাসিস্ট্যান্ট সাব-ইন্সপেক্টর (ASI)। নন্দিতা দেবীর অভিযোগ, বেশ কয়েক বছর আগে ২৯ নম্বর ওয়ার্ডের এক ব্যক্তিকে জমি কেনার জন্য সাড়ে পাঁচ লক্ষ টাকা দিয়েছিলেন তিনি। জমি পছন্দ না হওয়ায় টাকা ফেরত চাইলে ওই ব্যক্তি তিনটি চেক দেন। কিন্তু ব্যাঙ্কে জমা দিতেই সেই চেকগুলি বাউন্স করে। বিগত সরকারের আমলে বারবার দ্বারে দ্বারে ঘুরেও কোনো সুরাহা মেলেনি বলে অভিযোগ তাঁর। আজ কার্যত বাধ্য হয়েই বিধায়কের দ্বারস্থ হলেন এই পুলিশ আধিকারিক।
রবিবার শিলিগুড়ি, কোচবিহার ও মালদা থেকে বহু মানুষ তাঁদের সমস্যার কথা জানাতে বিধায়কের কাছে এসেছিলেন। কেউ এসেছেন চাকরি সংক্রান্ত জটিলতা নিয়ে, কেউ বা আবর্জনা সাফাই কিংবা পার্কিং সমস্যা নিয়ে। মানুষের এই দুর্দশা দেখে শঙ্কর ঘোষ জানান, দীর্ঘ ১৫ বছরের দুর্নীতির জঞ্জাল ১৫ দিনে সাফ করা সম্ভব নয়। তবে বর্তমান সরকারের লক্ষ্য হল মানুষের সমস্যার কথা শোনা এবং সমাধানের পথ খুঁজে বের করা।
বিধায়ক আরও জানান, এই ধরনের কর্মসূচি এখন থেকে নিয়মিত চলবে। শুধুমাত্র সামনাসামনি নয়, মানুষের অভিযোগ নথিভুক্ত করতে খুব শীঘ্রই একটি বিশেষ ওয়েবসাইট এবং হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর চালু করা হবে। তাঁর কথায়, প্রশাসনিক গাফিলতির কারণে মানুষ যেভাবে ভুক্তভোগী হয়েছেন, তা মেনে নেওয়া যায় না। একটি সুনির্দিষ্ট সময়সূচি মেনে মানুষের সমস্যা সমাধানের কাজ চালিয়ে যাওয়া হবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিধায়কের এই ‘সরাসরি’ কর্মসূচি সাধারণ মানুষের মধ্যে সাড়া ফেলেছে। দীর্ঘদিনের জমে থাকা পাহাড়প্রমাণ অভিযোগ বিধায়ক কতটা দ্রুত সুরাহা করতে পারেন, এখন সেটাই দেখার অপেক্ষায় শিলিগুড়িবাসী।
