বর্ধমান: চলন্ত ট্যাঙ্কার থেকে গোপনে ইথানল কাটিং করার সময় আবগারি দপ্তরের আধিকারিক ও কর্মীদের হাতে হাতেনাতে ধরা পড়ল তিনজন (Ethanol Smuggling)। পূর্ব বর্ধমানের মেমারিতে ব্যস্ত জি টি রোডের ধারে এই ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ধৃতদের কাছ থেকে দুটি ট্যাঙ্কার এবং ছটি ব্যারেলে থাকা প্রায় ১২০০ লিটার ইথানল বাজেয়াপ্ত করেছে আবগারি দপ্তর।
আবগারি দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, আউশগ্রামের একটি ইথানল কারখানা থেকে দুটি ট্যাঙ্কারে মোট ৮০ হাজার লিটার ইথানল বোঝাই করে তা হাওড়ার মৌরিগ্রামের উদ্দেশে রওনা হয়েছিল। কিন্তু মাঝপথে মেমারি থানার রসুলপুরে জি টি রোডের ধারে ট্যাঙ্কার দুটি থামিয়ে অবৈধভাবে ইথানল কাটিং বা চুরির কাজ চলছিল বলে গোপন সূত্রে খবর পায় আবগারি দপ্তর। সেই খবরের ভিত্তিতে দ্রুত ওই এলাকায় হানা দেন আধিকারিকরা। সেই সময় ট্যাঙ্কার থেকে পাইপ দিয়ে বের করে ব্যারেলে ইথানল ভরার কাজ চলছিল। হাতেনাতে পাকড়াও করা হয় তিনজনকে।
অভিযানে ধৃত তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে আবগারি দপ্তর। ধৃতদের নাম— অভিজিৎ কোনার, বাল্মীকি কুমার ও দীপক কুমার। এর মধ্যে অভিজিতের বাড়ি পশ্চিম বর্ধমানের কাঁকসায় এবং বাকি দু’জন বিহারের নওদা জেলার বাসিন্দা। তদন্তের স্বার্থে ধৃতদের নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানিয়ে বুধবার বর্ধমান আদালতে পেশ করা হয়। শুনানি শেষে আদালত ধৃতদের দু’দিনের আবগারি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে।
ব্যস্ত জি টি রোডের ধারে প্রকাশ্যে এমন কারবার দেখে তাজ্জব হয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। আউশগ্রাম থেকে হাওড়া যাওয়ার পথে এই চক্রের সঙ্গে আর কারা জড়িত, কাটিং করা ইথানল কোথায় সরবরাহ করা হতো এবং এর নেপথ্যে কোনো বড় চক্র সক্রিয় রয়েছে কি না, তা এখন খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। এই কারবারের শিকড় কতদূর বিস্তৃত, তা জানতে ধৃতদের জেরা শুরু করেছে আবগারি দপ্তর।

