উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: মালদহের রাজনীতিতে নাটকীয় পালাবদল অব্যাহত। জেলা পরিষদের ক্ষমতা দখলের ঠিক ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ইংরেজবাজার পুরসভাতেও গেরুয়া নিশান ওড়াল বিজেপি। বুধবারের বোর্ড গঠনের ভোটাভুটিতে তৃণমূলের ১১ জন কাউন্সিলর রাতারাতি ‘নির্দল’ হয়ে বিজেপির চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী অম্লান ভাদুড়িকে সমর্থন জানান। পাশাপাশি, এক আগে থেকেই থাকা নির্দল কাউন্সিলরের ভোটও বিজেপির ঝুলিতে যায়। ফলে মাত্র তিনজন নিজস্ব কাউন্সিলর থাকা সত্ত্বেও ম্যাজিক ফিগার ছুঁয়ে অনায়াসে ইংরেজবাজারের রাশ হাতে নিল পদ্মশিবির।
গত মাসে তৎকালীন পুরপ্রধান কৃষ্ণেন্দুনারায়ণ চৌধুরীর ইস্তফার পর থেকেই নতুন চেয়ারম্যান কে হবেন, তা নিয়ে তীব্র জল্পনা চলছিল। বুধবারের ভোটাভুটিতে ২৫ সদস্যের তৃণমূলের ১৪ জন কাউন্সিলর উপস্থিত থাকলেও, মাত্র এক ভোটে বোর্ড হাতছাড়া হয় রাজ্যের প্রাক্তন শাসকদলের। সভায় অম্লানের নাম প্রস্তাব করেন বিজেপি কাউন্সিলর সুতপা মুখোপাধ্যায় এবং তা সমর্থন করেন কৃষ্ণা নাগ। তাৎপর্যপূর্ণভাবে, প্রাক্তন চেয়ারম্যান কৃষ্ণেন্দু এবং তাঁর দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী নীহাররঞ্জন ঘোষের স্ত্রী গায়ত্রী ঘোষকে এ দিন ভোটাভুটি পর্বে একই শিবিরে দেখা গিয়েছে।
নির্দল হওয়া প্রসঙ্গে ১১ জনের অন্যতম শুভময় বসু স্পষ্ট জানান, ‘আমরা দলত্যাগ করিনি। আমরা নির্দল হলাম।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা তৃণমূল থেকে নির্বাচিত হয়েছিলাম। কিন্তু তৃণমূলের ঘাসফুল প্রতীক নির্বাচন কমিশন ফ্রিজ় করেছে। তার পর থেকেই আমরা পরিচিতির সঙ্কটে ভুগছিলাম। পুর পরিষেবা পুরো ভেঙে পড়েছিল। মানুষ আমাদের নির্বাচিত করেছিলেন পরিষেবা দেওয়ার জন্য। কিন্তু এই চার-পাঁচ মাস ওয়ার্ড অফিসে বসে শুধু শংসাপত্র লেখা ছাড়া কোনও কাজ ছিল না। এখন আমরা নির্দল হয়ে বাকি সময়টুকু সাধারণ মানুষকে পরিষেবা দিতে চাই।’ অন্যদিকে, দল ভাঙানোর অভিযোগ উড়িয়ে নয়া চেয়ারম্যান তথা বিধায়ক অম্লানের দাবি, ‘আমরা কাউকে ভাঙিয়ে আনিনি। চেয়ারম্যান পদত্যাগ করেছিলেন। তার পর প্রক্রিয়া হিসেবে বোর্ড গঠন হয়। আমার নাম প্রস্তাব করা হয়েছিল। সেখানেই ওই ১১ জন সমর্থন জানান।’ গোটা পরিস্থিতি নিয়ে কৃষ্ণেন্দুর সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়া, ‘নিয়মে যা রয়েছে, তা-ই হয়েছে।’ ১১ জনের দলবদল নিয়ে তিনি বলেন, ‘কেন ওরা গেল আমার জানা নেই। ওটা ওদের নিজস্ব ব্যাপার।’
এর ঠিক এক দিন আগেই মালদহ জেলা পরিষদেও কার্যত একই ছবির সাক্ষী থেকেছে রাজনৈতিক মহল। রিসর্ট রাজনীতি আর টানটান উত্তেজনার মধ্যে কংগ্রেসের সাজানো ছক ভেস্তে দিয়ে বোর্ড গঠন করেছে বিজেপি। ৩০ জন সদস্যের উপস্থিতিতে বিজেপির দীপিকা বালার নাম সভাধিপতি হিসেবে প্রস্তাব হতেই তৃণমূলের একটি অংশ তাতে সমর্থন জানায়। আর তার পরেই সভা বয়কট করে কংগ্রেস। ফলে মাত্র চারজন সদস্য থাকা সত্ত্বেও তৃণমূলের একাংশের সৌজন্যে জেলা পরিষদের দখল নেয় বিজেপি।

