Raiganj Medical Faculty & Hospital | রক্তসংকটে রায়গঞ্জ মেডিকেল, বিপাকে রোগীরা

Raiganj Medical Faculty & Hospital | রক্তসংকটে রায়গঞ্জ মেডিকেল, বিপাকে রোগীরা

ভিডিও/VIDEO
Spread the love


বিশ্বজিৎ সরকার, রায়গঞ্জ: রক্তশূন্য রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল (Raiganj Medical Faculty & Hospital)। তার জেরে ফল ভুগতে হচ্ছে মুমূর্ষু রোগীদের। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন থ্যালাসিমিয়া আক্রান্তরা। রায়গঞ্জ মেডিকেলে সপ্তাহে প্রায় প্রতিদিনই রক্তের প্রয়োজন হয়। কিন্তু সেই তুলনায় জোগান যৎসামান্য। পুজোর মরশুম এলেই রক্তের আকাল যেন ফি বছরের ‘রেওয়াজ’-এ পরিণত হয়েছে উত্তর দিনাজপুরে। এই আবহে মুমূর্ষু রোগীদের একফোঁটা রক্ত জোগাড়ে কার্যত কালঘাম ছুটছে রোগীর স্বজনদের। হন্যে হয়ে রক্তদাতা খুঁজে হাসপাতাল ক্যাম্পাসে হাজির করাতে অনেক দেরি হয়ে যাওয়ায় রক্তের অভাবে কখনও রোগীর মৃত্যুও ঘটে যাচ্ছে।

ব্লাড ব্যাংকে (Blood Financial institution) স্পষ্টভাবে লিখে দেওয়া হয়েছে ‘রক্ত দিন, রক্ত নিন’। এদিকে রক্তসংকটের কারণে প্রতিদিনই রোগীর পরিজনদের সঙ্গে বচসায় জড়িয়ে হুমকির মুখে পড়তে হচ্ছে ব্লাড ব্যাংকের কর্মী থেকে শুরু করে চিকিৎসকদেরকে। বুধবার দুপুরেও মেডিসিন বিভাগে চিকিৎসারত এক রোগীর পরিজন ব্লাড ব্যাংকের চিকিৎসককে থাপ্পড় মারার হুমকি দেন বলে অভিযোগ। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্লাড ব্যাংকে রীতিমতো উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। প্রতিদিন ব্লাড ব্যাংকে রোগীর পরিজনদের হুমকির কারণে ব্লাড ব্যাংকে দুজন নিরাপত্তারক্ষী রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি মেডিকেল কলেজের ভিতরে থাকা পুলিশ ক্যাম্পের আধিকারিককেও মাঝেমধ্যে খোঁজ নেওয়ার আবেদন জানিয়েছে মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষ।

বস্তুত, জেলার দুই প্রান্তে মাত্র দুটি সরকারি ব্লাড ব্যাংক। একটি রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে এবং অন্যটি ইসলামপুর মহকুমা হাসপাতালে। কিন্তু দুটি ব্লাড ব্যাংকেরই কার্যত রক্তহীন দশা। পর্যাপ্ত রক্ত মজুত তো দূরের কথা, বিভিন্ন রোগাক্রান্তদের প্রতিদিনের প্রয়োজনীয় রক্ত সরবরাহ করাই কার্যত কঠিন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে। ফলে রোগীর রক্তের জন্য এখন তাৎক্ষণিক রক্তদাতারাই একমাত্র ভরসা বলে জানান ব্লাড ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ও রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজের এমএসভিপি প্রিয়ঙ্কর রায়। পুজোর মরশুমে ঠিকঠাক রক্তদাতা জোগাড় করতে না পারলে রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে রোগীর চিকিৎসাও থমকে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সাম্প্রতিককালে অনুষ্ঠিত রক্তদান শিবিরগুলির একেকটি থেকে ১০-১২ ইউনিট ব্লাড পাওয়া যাচ্ছে। অথচ রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ সূত্রের তথ্য বলছে, গড়ে প্রতিদিন মুমূর্ষু রোগীদের জন্য অন্তত ৭০ থেকে ৮০ ইউনিট রক্তের প্রয়োজন হয়। এছাড়া ওই সরকারি ব্লাড ব্যাংক থেকে একাধিক নার্সিংহোমের রোগীদের প্রায়ই রক্ত সরবরাহ করতে হয়। এদিন রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে সবমিলিয়ে ৬ ইউনিট রক্ত মজুত ছিল। ব্লাড ব্যাংকের কর্মীদের বক্তব্য, ‘ডোনার না নিয়ে এসেই রক্তের দাবি করছেন রোগীর পরিজনরা। ব্লাড ব্যাংকে এসে স্বাস্থ্যকর্মী ও চিকিৎসকদের হুমকি দিচ্ছেন তাঁরা। এদিন এই বিষয়ে এমএসভিপি-কে অভিযোগ করা হয়েছে।’

রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের সহকারী অধ্যক্ষ প্রিয়ঙ্কর রায় বলেন, ‘রক্তদান শিবির করার জন্য জেলার স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাগুলো সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলোকে চিঠি দিয়ে আবেদন জানানো হবে।’ জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক সুকান্ত বিশ্বাস বলেন, ‘রক্তদান শিবিরের আয়োজন না হলে ব্লাড ব্যাংকের সংকট কাটবে কীভাবে? স্বাস্থ্যকর্মীরা শিবির থেকেই রক্ত সংগ্রহ করে ব্লাড ব্যাংকে মজুত করেন।’



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *