অভিজিৎ ঘোষ, আলিপুরদুয়ার: উৎসবের মরশুমে ডুয়ার্সের (Dooars) পর্যটনশিল্পের ঘুরে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে বরাবরই বড় ভূমিকা থাকে জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যান সংলগ্ন পর্যটনকেন্দ্রগুলোর। ইতিমধ্যেই সেখানে পর্যটকদের আনাগোনা শুরু হয়ে গিয়েছে। এরই মধ্যে জঙ্গল সাফারির অনলাইন বুকিং শুরু হওয়ায় ভ্রমণার্থীদের বাড়তি সুবিধা হয়েছে। বর্তমানে জলদাপাড়া ও গরুমারা জাতীয় উদ্যানে হাতি ও গাড়ি সাফারির জন্য এক মাসের অগ্রিম বুকিং করা যাচ্ছে। কিন্তু এই সুবিধার মাঝেও পর্যটকদের একাংশের মনে রয়ে গিয়েছে আক্ষেপ। জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানের সব কাউন্টার থেকে গাড়ি সাফারির অনলাইন বুকিং মিললেও, দুটি জায়গায় হাতি সাফারির (Elephant Safari) বুকিং হচ্ছে না। এর মধ্যে কোদালবস্তি থেকে হাতি সাফারি পুরোপুরি বন্ধ। অন্যদিকে, জলদাপাড়ার শালকুমার গেটে হাতি সাফারি চালু থাকলেও সেখানে অনলাইন বুকিংয়ের ব্যবস্থা নেই। শুধু মাদারিহাটের হলং কাউন্টারের জন্যই অনলাইনে হাতি সাফারির বুকিং হচ্ছে। বাকি দুই জায়গায় এই পরিষেবা শুরু হলে পর্যটকদের অনেকটাই সুবিধা হবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানের ডিএফও পারভিন কাসোয়ানের কথায়, ‘প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের জন্য সেতু ভাঙায় ওই সমস্যা হয়েছে। ওই জায়গায় কারও হাত নেই। সেটা সমাধান করার চেষ্টা করা হচ্ছে।’
বন দপ্তর সূত্রে খবর, গত ১৬ সেপ্টেম্বর জঙ্গল সাফারি শুরু হওয়ার দিন থেকেই কোদালবস্তিতে হাতি সাফারি বন্ধ রয়েছে। নদীতে জল বাড়ায় সাফারির রুটে থাকা একটি সেতু ভেঙে গিয়েই এই বিপত্তি বাধে। কোদালবস্তি রেঞ্জ থেকে হাতি সাফারি করতে হলে মালঙ্গি লজের পেছন দিয়ে এনইসি ওয়াচ টাওয়ারে যেতে হত। কিন্তু সেই যাওয়ার রাস্তায় সেতুটি ভেঙে যাওয়ায় সমস্যা তৈরি হয়েছে। আগে ওই জায়গা থেকে একটি হাতি দিনে তিনবার সাফারি করত। প্রতিবারে হাতির পিঠে চড়ে চারজন করে, অর্থাৎ দিনে ১২ জন পর্যটক সাফারি করতে পারতেন। এখন কোদালবস্তিতে ঘুরতে এসেও হাতি সাফারি থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন পর্যটকরা। কোদালবস্তির পর্যটন ব্যবসায়ী মনেশ্বর রাভা বলেন, ‘প্রায় মাস দেড়েক আগে সেতু ভেঙে যাওয়ায় সমস্যা হয়। সেজন্য হাতি সাফারি হচ্ছে না। পর্যটকরা অনেকেই ওই সাফারি নিয়ে খোঁজ করছেন। বন দপ্তর বলেছিল দ্রুত সাফারি হবে। তবে সেটা হচ্ছে না।’
অন্যদিকে, কোদালবস্তিতে একটি হাতি বরাদ্দ থাকলেও হলং কাউন্টার থেকে চারটি হাতি ও জলদাপাড়া (শালকুমার) গেট থেকে তিনটি হাতিতে সাফারি করানো হয়। বন দপ্তর বুধবার থেকে অনলাইন টিকিটের ব্যবস্থা চালু করলেও, জলদাপাড়া গেট থেকে কেন হাতি সাফারির অনলাইন বুকিং করা হচ্ছে না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। এদিন এই বিষয়টি নিয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে ডিএফও পারভিন কাসোয়ান জানান, এখনও ওই বিষয়টি নিয়ে কেউ দাবি জানায়নি। অনলাইন বুকিং শুরু করার দাবি জানানো হলে অবশ্যই তা করে দেওয়া হবে।
যদিও জলদাপাড়া ও শালকুমারের পর্যটন ব্যবসায়ীরা অনলাইন বুকিংয়ের পক্ষেই সওয়াল করেছেন। কারণ, বর্তমানে ওখানে সাফারি করতে হলে আগের দিন সন্ধ্যায় টিকিট কাউন্টারে লাইন দিতে হয়। সেই টিকিট কেটে পরের দিন সাফারি করতে হয় পর্যটকদের। জলদাপাড়ার পর্যটন ব্যবসায়ী বিজয় সরকারের মতে, ‘অন্যগুলোর মতো অনলাইন হাতি সাফারি বুকিং চালু হলে সবচেয়ে ভালো হয়। পর্যটকদের আগের দিন আর লাইনে দাঁড়াতে হবে না।’

